মাটির ঘরে পূর্ণিমা
-শামীমা নাইসআজ কোজাগরী পূর্ণিমা
চাঁদ উঠতেই
প্রবেশ দরজায় কে যেন এঁকে দিল
রুপোর আল্পনা,
ঘরের পুরোনো দেয়াল
হঠাৎ হয়ে উঠল
কোনো বিস্মৃত রাজপ্রাসাদের অন্তঃপুর।
দেখলাম—
চাঁদের আলোয় জেগে উঠেছে ধানের শীষ,
মাটির স্মৃতি;
শূন্য কলসির গায়ে আলোর কোমল হাত,
রান্নাঘরের ধোঁয়ায় মায়ের পুরোনো সংসারের গন্ধ।
লক্ষ্মী কি তবে শুধু ধানের গোলায় আসেন?দক্ষিণমুখী জানালাটি
আজ সারাদিন খোলা।
কে জানে,
এই রাতেই হয়তো
লক্ষ্মী আসবেন—নিঃশব্দ পায়ে
আমাদের সাধারণ ঘরের মেঝে পেরিয়ে;
যেখানে চালের হাঁড়ির গল্প অল্প,
কিন্তু অপেক্ষা এখনও অন্তহীন।তিনি এলে ধানের গন্ধে ভরে উঠবে উঠোন,
বহুদিন না-হাসা মুখে জমা হবে একটু আলো।
লক্ষ্মী আজ দেখা দেবেন মায়ের হাতের শেষ প্রদীপে,
বিধবার সযত্নে জমিয়ে রাখা দু’ মুঠো চালে,
কৃষকের কপালে লেগে থাকা মাটির উজ্জ্বল ঘামে;
দেবী আজ সেই নারীর চোখে
যে নিজের ক্ষুধা লুকিয়ে সন্তানের থালায়
শেষ ভাতটুকু বাড়ে।এই তো লক্ষ্মী—
যেখানে অল্প খাবারও ভাগ করে খায়
যেখানে অভাবের ঘরে এখনও চুরি যায়নি ভালোবাসা।দক্ষিণের বাতাস এসে পর্দা দুলিয়ে যায়
মনে হয়,
অদৃশ্য কোনো পায়ের শব্দ
সিঁড়ি বেয়ে উঠছে ধীরে।
জানালার কার্নিশে হেসে ওঠে সাদা ফুল
তার সুবাসে আজ পুরোনো কোনো চিঠির ভাঁজ
নরম হয়ে আসে।
চাঁদ আরও উজ্জ্বল হয়।
লক্ষী নামবেন আজ সোনার পাত্র হাতে
সে পাত্র উপচে পড়ুক
মায়ায়,
ক্ষমায়,
ভালোবাসার উষ্ণ অন্নে।দক্ষিণমুখী জানালাটা আজ খোলা থাক সারারাত।
(কবি – জনসংযোগ ব্যক্তিত্ব)

