নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

সাভারে ফের চলন্ত বাসে ডাকাতি, বাসের চালক-সহকারী আটক

এপ্রিল ৫, ২০২৫ ১০:২২ 👁️ ৩২ views
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার অংশ, বিশেষ করে ব্যাংক টাউন এলাকাটি বর্তমানে যাত্রীদের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে। চলন্ত বাসে একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো যেন এখন ভাগ্যের ব্যাপার। সর্বশেষ শুক্রবার (৫ এপ্রিল) বিকেলে ইতিহাস পরিবহনের একটি বাসে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, যা আবারও এই সড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভঙ্গুর চিত্র তুলে ধরেছে।

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে মাদকবিরোধী বিশেষ টিমের পৃথক অভিযানে নারীসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী ও ২ মাদকসেবীকে গ্রেফতার

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যাত্রী টুনি সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয়রা সন্দেহভাজন হিসেবে বাসচালক রজব আলী (৩০) ও সহকারী এমদাদুল হক (৪০)-কে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। বাসটিও জব্দ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীদের ভাষ্যমতে, গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে মিরপুরগামী বাসটি কর্ণপাড়া ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বাসচালকসহ চারজন দেশীয় অস্ত্র বের করে যাত্রীদের জিম্মি করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নেয়। পরে তারা রাজফুলবাড়িয়া এলাকায় বাস থামিয়ে পালিয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ  নিয়ামতপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইয়ের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন

বাসযাত্রী সুমন সরকার বলেন, ‘চন্দ্রা থেকে বাসে উঠেছিলাম। উলাইল এলাকায় কয়েকজন ছুরি বের করে যাত্রীদের জিম্মি করে। আমার সঙ্গে থাকা ৩৫ হাজার টাকা তারা লুট করে।’

অভিযোগকারী টুনি জানান, ‘আমার গলায় সুইস গিয়ার ঠেকিয়ে স্বর্ণের চেইনসহ যাত্রীদের কাছ থেকে মালামাল ছিনিয়ে নেয়।’

অন্যদিকে, চালক রজব আলী দাবি করেন, ‘ডাকাতরা বাসে উঠে আমাদের জিম্মি করে। যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বাস ভাঙচুর করলে আমরা সড়কের পাশে লুকিয়ে পড়ি।’

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহীনুর কবির সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

তবে বাস্তবতা হলো—ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে একের পর এক বাস ডাকাতি সংঘটিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ঘটনারই কার্যকর সমাধান হয়নি। এর আগে ২ মার্চ ও ২৬ মার্চ একই এলাকায় দুটি পৃথক চলন্ত বাসে একই ধরনের ডাকাতির ঘটনা ঘটে। প্রতিটি ঘটনায় বাসযাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেওয়া হয়। যদিও কয়েকটি ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল, কিন্তু পুলিশ এখনো কোনো ডাকাতকে আটক বা লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি।

আরও পড়ুনঃ  চুরির অভিযোগে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা বাবা, রুটি-চা নিয়ে ছুটে এলো শিশু কন্যা

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যাংক টাউন এলাকা এখন কার্যত ডাকাতদের নিরাপদ ঘাঁটি হয়ে উঠেছে। দিনের পর দিন বাসে ওঠা যাত্রীদের মুখে আতঙ্ক—‘এই এলাকায় বাস গেলেই কিছু একটা হবে।’ অথচ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

নিরাপত্তাহীনতায় যাত্রীরা বলছেন, ‘রাতে নয়, এখন দিনে-দুপুরেও বাসে উঠতে ভয় লাগে।’

এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন, নিয়মিত টহল, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, চেকপোস্ট এবং যাত্রীবেশী পুলিশের উপস্থিতি ছাড়া এ ধরনের অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব নয়।-ইত্তেফাক

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।