নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

আতঙ্কিত চিকিৎসকেরা দ্রুত ফিরছেন ঘরে

নভেম্বর ৪, ২০২৩ ১০:৪৯ 👁️ ১১৪ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে একরাতেই দুই চিকিৎসক খুনের পর অন্য চিকিৎসকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যতটা দ্রুত সম্ভব তারা চেম্বারে রোগী দেখা শেষ করে বাসায় ফিরছেন। কেউ কেউ নিরাপত্তার স্বার্থে সঙ্গে ব্যক্তিগত লোকজনও রাখছেন। চলাচল করছেন সতর্কতার সাথে। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনও (বিএমএ) চিকিৎসকদের সাবধানে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে।

এদিকে দুই চিকিৎসক খুনের পর পাঁচদিন অতিবাহিত হলেও এর রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। মাত্র চার ঘন্টার ব্যবধানে কারা, কেন দুই চিকিৎসককে খুন করল সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পায়নি পুলিশ। ফলে নিহতদের পরিবার স্বজন ও সহকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ হতাশা বাড়ছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, খুনিদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। দ্রুতই তাদের ধরা পড়ার আশা করছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে ৫০ শতাংশ কোটা কমাল সরকার

গত ২৯ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আরএমপির চন্দ্রিমা থানার কৃষ্টগঞ্জ বাজারের পল্লী চিকিৎসক এরশাদ আলী দুলালকে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। রাত ৯টার দিকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে সিটিহাট এলাকায় তার রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। রাত পৌনে ১২টার দিকে চেম্বার শেষ করে ফেরার পথে খুন হন যৌন ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম কাজেম আলী আহমদ।

ডা. কাজেমের খুনিদের ধরতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল বিএমএ। খুনিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় সংগঠনটি নতুন কর্মসূচি শুরু করেছে। শনিবার (৪ নভেম্বর) এই একঘণ্টা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে সমাবেশ করেন চিকিৎসকেরা। রোববারও বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করবেন চিকিৎসকেরা।

বিএমএ রাজশাহীর সভাপতি ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী বলেন, ‘আমরা আরএমপির ঊর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্বশরীরে দেখা করে একটা সময়সীমা দিয়েছিলাম। সেটা বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। এ জন্য আমাদের নতুন কর্মসূচি দিতে হয়েছে। এরপরও অগ্রগতি না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি আসতে পারে।’

ডা. নওশাদ আলী বলেন, ‘আমাদের বসে থাকার সুযোগ নেই। আমাদের মধ্যে চরম ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একদিনে দুই চিকিৎসক খুন হওয়া তো স্বাভাবিক ঘটনা নয়, খুবই অস্বাভাবিক। কে, কখন, কীভাবে টার্গেটে পড়ে যাবেন তা তো বলা মুশকিল। এ জন্য বিভিন্ন সংস্থা, এমনকি পুলিশের পক্ষ থেকেও আমাদের সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। বিএমএ থেকেও বলা হয়েছে চিকিৎসকেরা নিজেরাই যেন নিজেদের নিরাপদে রাখেন।’

আরও পড়ুনঃ  পলাতক আসামিদের দেশে ফেরাতে সরকার কোনো গাফিলতি করবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তিনি বলেন, ‘এখন দ্রুতই চেম্বার শেষ করে দিচ্ছেন অনেক চিকিৎসক। কেউ কেউ তো সন্ধ্যার পরেই বাসায় ফিরছেন। যাদের একটু দেরি হচ্ছে, তারা সঙ্গে ব্যক্তিগত লোক রাখছেন নিরাপত্তার কথা ভেবে। এ রকম ভীতিকর পরিস্থিতি আগে কখনও আমরা দেখিনি।’

যোগাযোগ করা হলে দুজন চিকিৎসক দ্রুত বাড়ি ফেরার চেষ্টা করার কথা স্বীকার করেছেন। তবে নাম প্রকাশ করে তারা গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে চাননি। চিকিৎসকদের সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আরএমপির মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘এটা আমার জানা নেই। কে তাদের নিরাপদে চলাচল করার পরামর্শ দিয়েছেন, সেটা চিকিৎসকেরাই ভাল বলতে পারবেন।’

ডা. কাজেম পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রাজশাহী শাখায় নিয়মিত রোগী দেখতেন। এখান থেকেই ফেরার পথেই তিনি খুন হন। পপুলারের রাজশাহী শাখা ব্যবস্থাপক ফরিদ মোহাম্মদ শামীম বলেন, ‘চিকিৎসকদের মাঝে ভীতি কাজ করছে তা ঠিক। তবে এখন অবরোধের কারণে এমনিতেই রোগী কম। রোগী কম হচ্ছে বলে তারা দ্রুতই বাসায় ফিরছেন।

আরও পড়ুনঃ  স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের নবনিযুক্ত সচিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন রাসিক প্রশাসক

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দুই চিকিৎসক খুনের ধরন প্রায় একই। ওই রাতে নিজের দোকান থেকে অপহরণের পর ছুরিকাঘাতে খুন হন পল্লী চিকিৎসক এরশাদ আলী দুলাল। দুলালকে অপহরণের সময় মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের হাতে লাঠি ছিল। হত্যার আগে দুলালকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়েছিল। একই রাতে নগরীর বর্ণালী মোড়ে ডা. কাজেম আলীকে খুন করার সময়ও দুর্বৃত্তরা প্রথমে লাঠি দিয়ে আঘাত করে তাকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেয়। পরে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে সংঘটিত দুটি হত্যাকাণ্ডেই একই রঙের হাইস মাইক্রোবাস ব্যবহার করেছে খুনিরা। ঘাতকদের ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রের আঘাতও প্রায় একই রকমের। দুলালের বুকের দুই পাশে পরপর চারটি ও বুকের নিচে একটি গভীর ক্ষত পাওয়া যায়। ডা. কাজেম আলীর শরীরেও একই রকমের আঘাত ও ক্ষতচিহ্ন মরদেহের ময়নাতদন্তে পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা এবং ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ দেখতে পেয়েছে, দুটি হত্যাকাণ্ডে দুর্বৃত্তরা ছাই কালারের হায়েস মাইক্রোবাস নিয়ে এসেছিল। কাপড়ে তাদের মুখ ঢাকা ছিল। দুটি হত্যাকাণ্ড একইসূত্রে গাঁথা কি না-তা নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

নগর পুলিশের মুখপাত্র জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘দুই খুনের তদন্তের এখনও কোন আপডেট নেই। পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে। খুনের রহস্য উদঘাটন হবে। খুনিরাও ধরা পড়বে।’

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।