নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে মতবিনিময় ও সমন্বয় সভা

অক্টোবর ৪, ২০২৬ ৯:১৬ 👁️ ২৯ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের আয়োজনে আরএমপির সদর দপ্তর সভাকক্ষে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: মাহফুজুর রহমান রিটন; বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত; রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম; মহানগর ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ; মহানগর এনসিপির আহবায়ক জনাব মোবাশ্বের আলী; বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ফ্রন্ট, রাজশাহী শাখা এবং রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ কমিটির সঙ্গে সমন্বয় ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির পিপিএম।

সভায় বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, রাজশাহীর সভাপতি জনাব অচিন্ত কুমার বিশ্বাস প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

আরও পড়ুনঃ  নবাগত অভিনেত্রী দিব্যাণী যা যা শেখাচ্ছেন সৃজিতকে

সভায় মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য এনসিপির নেতাকর্মীরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সভায় মহানগর ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নেতা বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থান বজায় রেখে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংগঠনের নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

সভায় মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সেক্রেটারি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালনে জামায়াতে ইসলামী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়াও প্রতিবারের ন্যায় শহরের বিভিন্ন পুজা মণ্ডপগুলোতে তাদের পক্ষ হতে ৩০টি সেচ্ছাসেবক দল নিয়োগ করবেন মর্মে আশ্বাস প্রদান করেন।

সভায় বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে উদযাপনে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজামণ্ডপ কমিটিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে সবাইকে উৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান তিনি। তাছাড়াও শহরের বিভিন্ন পুজা মণ্ডপগুলোতে তাদের পক্ষ হতে সেচ্ছাসেবক নিয়োগ করবেন মর্মে আশ্বাস প্রদান করেন।

সভায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। নিরাপত্তা, সিসিটিভি ক্যামেরা, সার্চ লাইট ও আলোকসজ্জাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে। পূজা চলাকালীন ও প্রতিমা বিসর্জনের দিন বিদ্যুৎ ও আলোকসজ্জা নিশ্চিত করতে নেসকোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে অনুরোধ করেন। তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে উৎসব উদযাপনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি পূজামণ্ডপ কমিটিগুলোকে অভ্যন্তরীণ বিভেদ এড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ করেন। তিনি মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত মহানগরী গঠনে আরএমপির কার্যক্রমেরও প্রশংসা করেন।

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে পুলিশ ভ্রাম্যমাণ আদালতের যৌথ অভিযানে ২ ব্যক্তির সাজা

পুলিশ কমিশনার বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে মহানগরীর প্রতিটি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল-বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠন এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে-এমন কোনো কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের বিষয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক ও রাজনৈতিক সহায়তা টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দের নাম ও মোবাইল নম্বরের তালিকা পুলিশকে সরবরাহ করতে হবে, যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়।

পূজামণ্ডপের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুৎ নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, পূজামণ্ডপের আশপাশে কোনো ধরনের অবৈধ দোকানপাট বা হকার বসতে দেওয়া যাবে না। বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিংয়ের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি মণ্ডপে বিকল্প জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মণ্ডপে ৫ থেকে ৭টি চার্জিং বাল্ব প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রতিমা বিসর্জন প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার বলেন, বিসর্জনের সময় অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রয়োজনে সিরিয়াল বা টোকেন ব্যবস্থা চালু করতে পরামর্শ প্রদান করেন। নির্ধারিত রুট ও সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। বিসর্জন কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রকাশ্য স্থানে মদ বা যেকোনো ধরনের মাদক সেবন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পূজামণ্ডপের বাইরে মাদককে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপরাধের ঘটনা ঘটলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুনঃ  ওই বিমানের ক্যাপ্টেনকে কুড়াল দিয়ে আঘাত করেন কো-পাইলট

পুলিশ কমিশনার বলেন, পূজামণ্ডপ নির্মাণের সময় থেকে শুরু করে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়া পর্যন্ত সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। প্রতিটি মণ্ডপে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত রেখে পুলিশ ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে সকলের সহযোগিতায় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়াও মহানগরীর বাহিরে অবস্থিত পুজা মন্ডপে সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা নেওয়ার কথা তিনি বলেন।

এছাড়াও সভায় টুরিস্ট পুলিশ; নৌ-পুলিশ; পিবিআই; বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা; এসআরবি-৫; বিজিবি; আনসার; ফায়ার সার্ভিস; নেসকোসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ; ইসলামী ফাউন্ডেশন; বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ; রাজশাহী মহানগরীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য ফ্রন্টের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো: ফারুক হোসেন; উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর)-এর দায়িত্বে অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম পিপিএম; উপ-পুলিশ কমিশনার (বোয়ালিয়া) মো: গোলাম রব্বানী শেখ পিপিএম (বার); উপ-পুলিশ কমিশনার (ইঅ্যান্ডডি) মো: আবুল কালাম সাহিদ; উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) ও আরএমপির মুখপাত্র মো: গাজিউর রহমান পিপিএমসহ আরএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ।

 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।