নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

নতুন বইয়ে মলাট লাগানোর রীতির প্রীতি কমে গেছে

জানুয়ারি ১৩, ২০২৬ ৩:৪৮ 👁️ ২৮ views
Link Copied!

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা হাতে পেয়েছে নতুন বই। নতুন বই হাতে পেয়ে তাঁরা খুশি আর উচ্ছ্বসিত। আগ্রহ আর বিস্ময়ভরা চোখে বইয়ের পাতা উল্টিয়ে উল্টিয়ে দেখে ছবি আর পড়া।পরিচিত হয় নতুন পাঠ্য বইয়ের সঙ্গে। এ যেন শুধু বই নয়- একমুঠো স্বপ্ন। এই স্বপ্নের সঙ্গে শুরু হলো এক বছরের পথচলা।

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে অর্থ আদায়, নারীসহ গ্রেপ্তার ৪

তাই স্বপ্নকে রাখতে হবে ‘সুরক্ষিত’। লাগাতে হবে মলাট। সময়ের বিবর্তনে নতুন বইয়ে মলাট লাগানোর রীতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকটা কমে গেছে। তবে কমে গেলেও হারিয়ে যায়নি। সম্প্রতি নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে এমনই দ্বৈত চিত্র দেখা গেল।

উপজেলার ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেল, দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মুসফিকা ইয়াসমিন বইয়ে মলাট লাগিয়েছে। সে জানালো, স্থানীয় একটি বাজার থেকে মলাট কিনে এনে তাঁর মা বইয়ে মলাট লাগিয়ে দিয়েছে। একই শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. মুসতারিয়া জানালো, তাঁর বাবা বাজার থেকে মলাট কিনে এনেছে। তাঁর মা মলাট লাগিয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২২

বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক গৌর চন্দ্র বললেন, আমরা বছরের প্রথম দিনেই বই দেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের মলাট লাগানোর কথা বলি। উৎসাহিত করি। তবে বেসরকারি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানালো, তাঁদের শিক্ষকেরা মলাট লাগানোর জন্য তেমন কিছু বলে না। বাড়িতেও কেউ লাগিয়ে দেয় না। তাই মলাট লাগানো হয় না।

মলাট লাগানোর স্মৃতি রোমন্থন করে ব্যবসায়ী শাহজাহান শাজু জানালেন, আমাদের সময় মাধ্যমিক স্তরে বই কিনতে হতো। বার্ষিক পরীক্ষায় পাস করে পরের শ্রেণিতে উঠলে বইগুলো আরেক শিক্ষার্থীর কাছে বিক্রি করে দেওয়ার প্রচলন ছিল। তাই বইগুলোই মলাট লাগিয়ে যত্নসহকারে পড়তাম।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকেরা প্রতিবছর আমাদের কাছ থেকে নতুন বই নিয়ে যান। তখন শিক্ষকদের বলা হয়- তাঁরা যেন শিক্ষার্থীদের বইগুলো সেলাই করতে ও মলাট লাগাতে উৎসাহিত করে।

আরও পড়ুনঃ  সারাদেশে ৩ মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু কাল, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

লেখক ও শিক্ষক আইনাল হক জানালেন, কৈশোরে স্কুল থেকে নতুন বই পাওয়া যেমন আনন্দের তেমনি সেটিকে যত্নে রাখাও দায়িত্বের। ছোট বেলায় প্রাথমিক কিংবা মাধ্যমিকের নতুন বই বাড়িতে বই আনার সাথে সাথে শিক্ষকদের কথামতো সেটি মলাট বন্দীর প্রতিযোগিতা লেগে যেত। মজার বিষয় হচ্ছে সেসময় কাগজের সিমেন্টের বস্তা ছিল, সিমেন্ট ব্যবহারের পর তা বইয়ে মলাট বাঁধার জন্য সংরক্ষণ করা হত। পরবর্তীতে পুরাতন ক্যালেন্ডারের পাতা মলাট হিসেবে বহুল ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানেও মলাট হিসেবে ক্যালেন্ডার ব্যবহারের অল্প-বিস্তর প্রচলন দেখা যায়। কিন্তু আগের মতো কোন উন্মাদনা নেই, নেই উৎসবমুখর আমেজ। তবে আশা রাখি, শিক্ষার্থীরা প্রিয় বইকে নতুন রাখার প্রানবন্ত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মলাট ব্যবহারে আগ্রহী হবে। এ ব্যাপারে অভিভাবকদেরও সচেতন হবার আহবান জানান তিনি।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।