নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ছকে ভোট গ্রহণে প্রস্তুত যশোর

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ ৭:১৮ 👁️ ২০ views
Link Copied!

মনির হোসেন, যশোর প্রতিনিধি: আগামীকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। যশোরে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সকল ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে প্রশাসন। জেলার ছয়টি আসনে ৮২৪টি ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের বডি ক্যামেরা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে অতি গুরুত্বপূর্ণ ৭১টি কেন্দ্রসহ মোট ৩০২টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন প্রশাসন।

যশোর পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানাযায়,
যশোর-১ (শার্শা) আসনে ১০২টি কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৫১টি কেন্দ্র।

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

যশোর-২ (ঝিকরগাছা ও চৌগাছা) আসনে ১৭৫টি কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৪৫টি। এর মধ্যে চৌগাছায় ৮১টির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ২৩টি এবং ঝিকরগাছায় ৯৪টির মধ্যে ২২টি ভোট কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ।

যশোর-৩ (সদর) আসনে ১৯০টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৫০টি।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া ও অভয়নগর) আসনে ১৪৮টি কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৪২টি।

এছাড়া যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে ১২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৯৩টি। এ আসনটিতে জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহিৃত করেছে পুলিশ।

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে ৮১টি কেন্দ্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ২১টি। ভোটের দিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে ১৪ হাজার ৬২ পুলিশ, আনসার সেনাবাহিনী ও এয়ারফোর্সের সদস্য। এর সাথে থাকবে র‌্যাবের পেট্রোল টিম, বিজিবির প্লাটুন। সেই সাথে থাকবে ২০০ স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল টিম।

যশোর নির্বাচন অফিস সূত্রে জানাযায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৮২৪ কেন্দ্রের ৪ হাজার ৬৭৯ কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ৮২৪ প্রিজাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। এতে ৪ হাজার ৬৭৯ সহপ্রিজাইডিং অফিসার, ৯ হাজার ৩৫৮ পোলিং অফিসার।
এর মধ্যে যশোর-১ (শার্শা) আসনে ১০২ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন ১০২ প্রিজাইডিং অফিসার, ৫৭৭ কক্ষে ৫৭৭ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ১৫৪ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।

আরও পড়ুনঃ  ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে ১৭৫ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন ১৭৫ প্রিজাইডিং অফিসার, ৯০৫ কক্ষে ৯০৫ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ৮১০ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।

যশোর-৩ (সদর) আসনে ১৯০ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন ১৯০ প্রিজাইডিং অফিসার, ১ হাজার ১৮৩ কক্ষে ১ হাজার ১৮৩ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ২ হাজার ৩৬৬ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে ১৪৮ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন ১৪৮ প্রিজাইডিং অফিসার, ৮৬৯ কক্ষে ৮৬৯ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ৭৩৮ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।
যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে ১২৮ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন ১২৮ প্রিজাইডিং অফিসার, ৭২০ কক্ষে ৭২০ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১ হাজার ৪৪০ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবে।
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে ৮১ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকবেন ৮১ প্রিজাইডিং অফিসার, ৪২৫ কক্ষে ৪২৫ সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ৮৫০ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে তিনজন করে পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকবেন। দুই শতাধিক স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে তিনজন করে অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য থাকবে। প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রে ১৩জন করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা থাকবেন। ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করবেন। ৭১ জন পুলিশ সদস্যের শরীরে স্থাপন করা থাকবে ক্যামেরা। সুরক্ষা অ্যাপসের মাধ্যমে ওই ক্যামেরায় ধারণকরা ফুটেজ সকল সদস্য দেখতে পারবে। কোথায় কোন গোলযোগ হলে রিজার্ভ ফোস সেখানে দ্রুততার সাথে পৌঁছাবে। ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট কাজ করবে।

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

যশোর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার আশেক হাসান বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রথম শতভাগ ভোটকেন্দ্র নজরদারির আওতায় এসেছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভোটকেন্দ্রে স্বশস্ত্র পুলিশ, আনসার, নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটসহ স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও বিজিবি দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি বডি ক্যামেরা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, যশোর ৬টি আসনে ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ভোটের কাজে নিয়োজিত থাকবে ১৫ হাজারের বেশি কর্মকর্তা কর্মচারী। ১১ ডিসেম্বর থেকে ১১ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করে যাচ্ছেন, আজ থেকে আরও ৪০ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ঢাকা থেকে এসেছে। তারাও সোমবার থেকে কার্যক্রম শুরু করবে। ৬টি আসনের বিপরীতে ২ জন করে ১২ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করবে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।