নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

পুঠিয়ায় প্রতিষ্ঠানের নাম নিয়ে বিরোধের জেরে স্কুলে তালা দিয়ে মাঠে কলাগাছ লাগানোর অভিযোগ

অক্টোবর ৩, ২০২৬ ৮:৩৭ 👁️ ৪৪ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার, পুঠিয়া : রাজশাহীর পুঠিয়ায় একটি স্কুলের মাঠে কলাগাছ লাগিয়ে শিক্ষকদের কার্যালয়ে তালার ওপর তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আর প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, শনিবার (৩ অক্টোবর) সপ্তাহিক ছুটির দিনে স্কুলের দাতা সদস্য আজাদ আলী তার লোকজন নিয়ে গিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। বিদ্যালয়টির নাম ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ভালুকগাছি গ্রামে ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত হয়। এতে প্রাক প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ব্যবস্থার থাকার কথা ছিল। এই মর্মে রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের অনুমতি রয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের জন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের স্থাপনার অনুমতি রয়েছে। ‘পাঁচ আগষ্ট’ দেশের পট পরিবর্তনের পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের জন্য চিঠি দেয়। তখন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা বসে ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’ নামকরণ করেন। নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছিলেন প্রতিষ্ঠানে দাতা সদস্য আজাদ আলী নিজেই। প্রতিষ্ঠানে রেজুলেশনে তার উল্লেখ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় সন্ত্রাসী দিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করালেন স্ত্রী

প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর পাঠাদানের অনুমতি পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক পর্যায়ে এবং ধরণ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিতে নিম্নমাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অষ্টম শ্রেণিতে উঠবে। পরের বছর তারা নবম ও দশম শ্রেণিতে উঠবে। এইভাবে মাধ্যমিক চালু হবে। তারপরে উচ্চমাধ্যমিক চালু করা হবে। এরই মধ্যে শনিবার বিদ্যালয়ের সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দাতা সদস্য আজাদ আলী তার লোকজন বেলা ১১টার দিকে গিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কার্যালয়ে তালার ওপরে তালা লাগিয়ে দেন। তারা বাঁশ দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকেও বেড়া দিয়ে দেন। মাঠে কলাগাছ লাগিয়ে দেন।

আরও পড়ুনঃ  খেলাধুলাকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার একটু আগে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় কিছু লোকজন বাইরে দাঁড়িয়ে কলাগাছ লাগানোর ব্যাপারে কথা বলছেন। স্থানীয় দোকানি লাল মোহাম্মদ (৪৮) বললেন, প্রতিষ্ঠান স্থাপনের দিন থেকেই তিনি দোকান দিয়েছেন। আগে অনেক শিক্ষার্থী ছিল। বর্তমানে মামলা করার কারণে কমে গেছে। তারপরেও ক্লাস হয়। আজ হঠাৎ করে আজাদ আলী এসে এমন করে বেড়া দিয়ে গেছেন, তারা বিদ্যালয়ের নলকূপের পানিও নিতে পারছেন না। তবে জানতে চাইলে দাতা সদস্য আজাদ আলী বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানের একজন দাতা সদস্য। সেখানে টেকনিক্যাল কলেজ করার কথা ছিল। তার ছেলে ও ছেলের বউকে চাকরি দেওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু এই নামে কোনো প্রতিষ্ঠান করা হয়নি। তার ছেলের বউকে চাকরিও দেওয়া হয়নি। এই জন্য তিনি তালা দিয়ে কালাগাছ লাগিয়ে দিয়েছেন। জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, দাতা সদস্য নিঃশর্তভাবে প্রতিষ্ঠানে জমি দান করেছিলেন। ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়ে প্রতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চালু করতে বলেছিলেন। স্থাপনা নির্মাণের পরে প্রতিষ্ঠানের নামে জমি রেজিষ্ট্রি করতে গিয়ে তিনি ভোকেশনাল শাখায় ছেলের ও কলেজ শাখায় ছেলের বউয়ের চাকরি দাবি করেন। কমিটি বাধ্য হয়ে এই সম্মতি দিয়েই জমি রেজেষ্ট্রি করে নেন। প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে কলেজ শাখা চালু হতে দেরি হওয়ায় আজাদ আলী তার ছেলের বউকে প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি ঢোকান। চাকরিরত অবস্থায় তিনি ২০২২ সালে মারা যান। এরপর আজাদ আলী তার ছেলেকে দ্বিতীয় বিবাহ দিয়ে পুত্রবধুকে মাধ্যমিক শাখার কেরানি পদে চাকরি দেওয়ার জন্য প্রস্তাব করেন। কমিটি তাতেই সম্মত হয়। এবার তিনি তার ছেলের জায়গায় অন্য একটি পদ চান।

আরও পড়ুনঃ  সিলেটের নদী ভাঙন ও বন্যা মোকাবিলায় স্থায়ী সমাধানের পথে সরকার : বাণিজ্যমন্ত্রী

কমিটি তাতেও সম্মত হয়। এ বিষয়ে তাদের যথাযথ রেজুলেশন রয়েছে। এর প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১৬ তারিখে রাজশাহী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে দাবি করেন, যে নামে প্রতিষ্ঠান করার জন্য জমি দিয়েছিলেন সেই নামে প্রতিষ্ঠান হয়নি। এই মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে। এই অবস্থায় তিনি প্রতিষ্ঠানে তালা লাগিয়ে মাঠে কলাগাছ লাগিয়ে দিয়েছেন। জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলার ভালুকগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, একটা প্রতিষ্ঠান তো একদিনে দাঁড়ায় না। তিনি বলেন, দাতা সদস্যের দাবি সঠিক নয়। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী রয়েছে। রীতিমতো পাঠদান চলে। গত মাসে ১০ তারিখে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড নতুন ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।