নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

প্রেমের ফাঁদে ফেলে কলেজছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ

অক্টোবর ৭, ২০২৩ ৮:৩২ 👁️ ১৮৩ views
Link Copied!

পাবনা প্রতিনিধি : প্রেমের ফাঁদে ফেলে কৌশলে সুমাইয়া খাতুন (১৮) নামে এক কলেজছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে লিটন হোসেন (৩৫) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর মামলা দায়েরের একমাসেও ওই কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ  চারঘাটে ৩৬০ বোতল ভারতীয় মনোড্রিলসহ আটক ১

সুমাইয়া পাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের আনকুটিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের শুকচাঁদ আলী ও সীমা খাতুন দম্পতির মেয়ে এবং চাটমোহর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। আর অভিযুক্ত লিটন হোসেন (৩৫)। সে পাবনা ফরিদপুরের হাদল ইউনিয়নের মৌদশালিকাপাড়া গ্রামের কাশেম শেখের ছেলে।

অভিযোগে জানা গেছে, সুমাইয়া খাতুনের মোবাইল ফোন নাম্বার যোগাড় করে তাকে প্রেমের প্রস্তাবসহ কু-প্রস্তাব দেয় লিটন হোসেন। সুমাইয়া রাজি না হওয়ায় তাকে অপহরণের হুমকি দেয় লিটন। বিষয়টি সুমাইয়া তার বাবা-মাকে জানানোর পর তারা অভিযুক্ত লিটনের ছোট ভাই রবিউল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করে তাকে বিষয়টি জানায়। কিন্তু রবিউল ক্ষিপ্ত হয়ে সুমাইয়ার বাবা-মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও বাড়াবাড়ি করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

সুমাইয়া গত ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে চাটমোহর কলেজে পরীক্ষা দিয়ে বের হলে ওঁৎ পেতে থাকা লিটন তার সহযোগীদের নিয়ে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সুমাইয়ার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসার আগেই অগহরণকারীরা সিএনজি গাড়িযোগে দ্রুত পালিয়ে যায়।

আরও পড়ুনঃ  অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজের আধুনিক রোবোটিক্স নিয়ে সেরা গবেষণার স্বীকৃতি পেল রুয়েট

এ ঘটনায় ৩ সেপ্টেম্বর চাটমোহর থানায় সুমাইয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে জিডি করা হয়। জিডি নম্বর ১৮৪। এছাড়া গত ১০ সেপ্টেম্বর সুমাইয়ার মা সীমা খাতুন বাদি হয়ে পাবনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৩৩৬/২০২৩। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেয়। এরপর আদালতের নির্দেশে চাটমোহর থানায় মামলা নথিভূক্ত করে। মামলা নং ১১। তারিখ ১১/০৯/২০২৩।

মেয়েকে হারিয়ে পাগলপ্রায় কলেজছাত্রী সুমাইয়ার বাবা শুকচাঁদ আলী ও মা সীমা খাতুন। তারা বলেন, ‘আমরা অভিযুক্ত লিটনের বাড়িতে গেছি, তাদের পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলেছি। কিন্তু তারা আমাদের মেয়েকে ফিরিয়ে দেয়নি বা তার সন্ধান দেয়নি। উল্টো নানারকম হুমকি ধামকি দিয়েছে। এলাকার লোকজন জানিয়েছে ছেলেটা ভাল নয়, সে আগেও এরকম ঘটনা ঘটিয়েছে। মেয়েটা কোথায় আছে, কেমন আছে জানি না। আমাদের ধারণা, সুমাইয়াকে অপহরণ করে কোথাও পাচার করে দিয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ, আমরা আমাদের মেয়েকে ফিরে চাই।’

আরও পড়ুনঃ  নগরীর বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দের সাথে রাসিক প্রশাসকের সাক্ষাৎ

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাটমোহর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম বলেন, ‘মামলার পর আমরা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করছি। এখনও লিটনকে গ্রেপ্তার বা মেয়েটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। আশা করছি তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হবো।’

এদিকে, অভিযুক্ত লিটন হোসেন পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বাবা-মা মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন না। লিটনের ভাই রবিউল ইসলামের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
সুমাইয়ার বাবা শুকচাঁদ আলী বলেন, ‘যদি সহৃদয়বান ব্যক্তি কেউ আমার মেয়ে কিংবা অভিযুক্ত ছেলের তথ্য প্রমাণ সহ সন্ধান দিতে পারেন তাহলে তাকে উপযুক্ত পুরস্কার দেয়া হবে। তার ০১৩০৪-১১৫৩৮১ এই নাম্বারে যোগাযোগের অনুরোধ করেছেন তিনি।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।