নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই

জুন ২৫, ২০২৬ ১১:৩৬ 👁️ ১১১ views
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেলে বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এই সমঝোতা স্মারকগুলো সই হয়।

ছবি : পিআইডি

সমঝোতা স্মারকে সই করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুনঃ  মন্ত্রিসভায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অধ্যাদেশের সংশোধনী অনুমোদন

সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারকগুলো মূলত বিনিয়োগ সহযোগিতা, সবুজ উন্নয়ন (গ্রিন ডেভেলপমেন্ট) ও অন্যান্য ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সই করা হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে একটি যৌথ কর্মপরিকল্পনা (জয়েন্ট অ্যাকশন প্ল্যান) নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

স্থানীয় সময় বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওইউতাই থেকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ পৌঁছান। সেখানে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও স্বাগত জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।

পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় ও দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পরিচয় পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয় এবং চীনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংকে সশস্ত্র সালাম প্রদান করে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে তোপধ্বনি দেওয়া হয় এবং পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন।

আরও পড়ুনঃ  বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন জন্মদিনের কেক উৎপাদনকারীকে জরিমানা

পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক গ্রেট হলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন। বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের রূপরেখা, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে ১৩টি সমঝোতা স্মারক আনুষ্ঠানিকভাবে সই হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, আমাদের গ্লোবাল ডেভেলপে ন্ট ইনিশিয়েটিভ অর্থাৎ যার অধীনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন সম্পর্কিত বিষয়গুলো রয়েছে, সেগুলো নিয়ে এমওইউ হয়েছে। একই সাথে মানবসম্পদ উন্নয়নে এক পৃথক কো-অপারেশন প্ল্যান সই হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আমাদের জাতীয় ফল কাঠালের রপ্তানি বিষয়েও একটা এমওইউ হয়েছে।

তিনি বলেন, টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনে সহযোগিতায় দুটো পৃথক এমওইউ হয়েছে। গণমাধ্যম খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির লক্ষ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ধর্ষণের ১৫ মিনিটের মধ্যেই হত্যা করা হয় শিশু কলিকে

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে চীন সরকার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি তাদের সম্পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। ট্রেড, এডুকেশন, কালচার, বাণিজ্যসহ সকল বিষয়ে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে চায়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়েও কথা বলেছেন। এ বিষয়ে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছে।

চীন বিএনপি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর শুধু একটি গল্প নয়, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের নতুন শুভ সূচনা।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, চীনের মতো একটি বৃহত্তম দেশ প্রধানমন্ত্রীকে যেভাবে সম্মানিত করেছেন, তাতে আমরা মুগ্ধ, সম্মানিত এবং আনন্দিত। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর সম্মানের সঙ্গে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি উপস্থিত ছিলেন।-বাসস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।