নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

বাঘা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক-কর্মচারীর ওপর হামলার ৫দিন পেরুলেও শংকা কাটেনি

জানুয়ারি ২৮, ২০২৬ ৭:২০ 👁️ ৩৫ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার, বাঘা : রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে রিহাব নামে এক রোগীর স্বজনকে ভিডিও করতে নিষেধ করায় চিকিৎসক ও কর্মচারীর ওপর হামলা এবং টেবিলে থাকা চিকিৎসা সরঞ্জাম ছুঁড়ে ফেলার অভিযোগ রোগীর স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চিকিৎসা সেবা সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনার ৫দিন পেরুলেও শংকা ও উদ্বেগ কাটেনি চিকিৎসক ও কর্মচারীদের। যদিও এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকেই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  রাসিক প্রশাসকের সাথে বিভাগীয় কমিশনারের সাক্ষাৎ

ঘটনার সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, গত শনিবার দুপুরের দিকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন সড়ক দুর্ঘটনায় সামান্য আহত উপজেলার খানপুর এলাকার রুবেলের ছেলে রিহাব। প্রাথমিকভাবে রোগীকে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয় এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কীয় পরামর্শ দিয়ে এক্স-রে করার জন্য বলা হয়। তখন রোগীর বাবা রুবেল উত্তেজিত হয়ে উঠেন এবং ভিডিও ধারণ শুরু করেন। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিডিও করতে নিষেধ করলে বাঘা থানা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফিকে খবর দেন তারা। মুহুর্তের মধ্যে শফির নেতৃত্বে ২৫-৩০ জনের একটি দল জরুরী বিভাগে প্রবেশ করেন। সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, হামলা ও ভাংচুর করেন। এছাড়া ভীতি প্রদর্শন করে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এতে চিকিৎসক ও কর্মচারীরা প্রাণভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। ফলে চিকিৎসা সেবা সাময়িক বন্ধ থাকে।

আরও পড়ুনঃ  ওয়ান কার্ড হতে পারে জনবান্ধব সেবার একক সমাধান : জনপ্রশাসন উপদেষ্টা

পরে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আসাদুজ্জামান আসাদ চিকিৎসক ও কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাবে বুঝিয়ে অভয় দিয়ে তাদের পুনরায় চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত করেন। এ ঘটনায় চিকিৎসক ও কর্মচারীরা এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের মধ্যে এখনো শংকা ও উদ্বেগ কাটেনি।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় সোহেল রানা নামের এক কর্মচারী আহত হন। তিনি জানান, আমি তাদেরকে নিষেধ করলে তারা আমাকে মারধর করে আহত করেন। আহত সোহেল রানাকে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বাঘা থানা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফিকে মুঠো ফোনে কথা বল্লে আমি মেলা লোকের মধ্যে আছি পরে কথা বলছি বলে ফোন কেটে দেন তিনি।

রোগীর বাবা রুবেল খান জানান, আমার ছেলের চিকিৎসা দেওয়ায় ডাক্তারের অবহেলার কারণে আমি ভিডিও করলে ডাক্তার আমাকে বাধা দেয় এবং অপমান করে। পরে আমি শফিকে ডেকে নিয়ে গেছি। অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি মামলা রেকোর্ড করার চেষ্টা করছি।

আরও পড়ুনঃ  ড. ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দেশ হাইকোর্টের

এ ব্যাপারে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, আমি অফিসে বসে সিসি ফুটেজ দেখতেই আমার এক কর্মচারী এসে আমাকে বলেন, রোগীর স্বজনরা জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের ওপর হামলা করছে। শোনামাত্রই আমি সঙ্গে সঙ্গে থানায় অবগত করি। খবর পেয়ে বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হকসহ পুলিশের একটি দল এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ডা. আসাদ আরো বলেন, এ ঘটনার ৫দিন পেরুলেও শংকা ও উদ্বেগ কাটেনি চিকিৎসক ও কর্মচারীদের।

ওসি বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা:এস আই এম রাজিউল করিম বলেন, সেখানে ডাক্তার, নার্স, কর্মচারী ভীতি ও শংকার বিষয়ে আমাদের জানালে আমরা বিষয়টা দেখবো। তবে কোন ডাক্তার, নার্স চিকিৎসা সেবা ও কোনো বিষয়ে ত্রুটি পেলে অবশ্যই দাপ্তরিক ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।