অনলাইন ডেস্ক: আবাসিক ভবন ঘেঁষে টানা হয়েছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। সেই ভবনের জানালার গ্রিলের ফাঁক দিয়ে তারে হাত রাখে শিশু আবদুল্লাহ (৭)। এতে বিদ্যুতায়িত হয় শিশুটি। বিষয়টি টের পেয়ে অপর হাত ধরে টান দেন তার মা। এতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় শিশুটির এক হাতের কবজি, ঝলসে যায় দুটি পা। এ ঘটনায় আহত হন শিশুটির মা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লা নগরীর তেলিকোনা এলাকার একটি বহুতল ভবনের চতুর্থ তলা ঘেঁষে থাকা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাব-লাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা নগরীর সংরাইশ এলাকার ব্যবসায়ী মো. শামীম পরিবার নিয়ে তেলিকোনা এলাকার ওই ভবনের চতুর্থ তলায় ভাড়া থাকেন। দুপুরে জানালার গ্রিলের ফাঁক দিয়ে তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ ভবনঘেঁষা বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে হাত রাখলে বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে। বিষয়টি দেখে শিশুটির মা অপর হাত ধরে জোরে টান দিলে তার কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। খোলা তারে ঝুলে থাকে শিশুটির কবজি। দ্রুত তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান পরিবারের লোকজন।
কুমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান মির্জা তাইয়্যেবুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎস্পর্শে শিশুটির এক হাত বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং দুই পা পুড়ে গেছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
শিশুটির বাবা মো. শামীম জানান, তাঁর ছেলে একটি হাত হারিয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলার কারণে তাঁর ছেলের একটি হাত পুড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচার দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ভবন ঘেঁষে টাঙানো অনিরাপদ বিদ্যুতের তারে আগেও একজন দুর্ঘটনার শিকার হয়। এ ছাড়া এলাকাটির বিভিন্ন ভবনের পাশেই এ রকম ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুতের লাইন রয়েছে। এসব তার অপসারণ করে নিরাপদ লাইন স্থাপনের দাবি জানান তারা।
কুমিল্লা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বালুতোপা সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ কবির বলেন, ভবনটি নির্মাণের আগে নাকি পরে বিদ্যুতের লাইন স্থাপন করা হয়েছে– সেটি আগে জানতে হবে। লাইনটি অনিরাপদ হলে তা অপসারণ করা হবে। এ নিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

