নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

রাজশাহীর কোর্ট হাজতখানায় আসামির রহস্যজনক মৃত্যু

আগস্ট ২৩, ২০২৩ ৬:২৯ 👁️ ১৭৪ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কোর্ট হাজতখানায় মইনুল ইসলাম (২৩) নামের এক আসামির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। হাজতখানা থেকে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুনঃ  চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে পানি বেড়েছে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

মইনুল আরএমপির এয়ারপোর্ট থানার পাকুড়িয়া উত্তরপাড়া এলাকার মো. রফিকের ছেলে। মইনুলের মৃত্যুর সনদে লেখা হয়েছে, হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। হাজতখানার পুলিশ দাবি করছে, গরমে অসুস্থ হয়ে আসামির মৃত্যু হয়েছে। তবে ম্যাজিস্ট্রেটের সুরতহাল প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আত্মহত্যার আলামত।

এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরান হোসেন বলেন, আসামি মইনুল একজন মাদকসেবী। গত সোমবার রাত পৌনে ১১টার দিকে পাকুড়িয়া এলাকা থেকে ৪ গ্রাম হেরোইনসহ তাঁকে আটক করা হয়। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে আদালতে পাঠানো হয়। কোর্ট হাজতখানা সুস্থ অবস্থায় আসামি গ্রহণ করেছে। তারপর কী হয়েছে তা তাঁরা জানেন না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আরএমপির মুখপাত্র ও নগর বিশেষ শাখার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জামিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আজই মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলাম। আর আসামি মারা গেছে গতকাল। এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত কিছু জানি না।’

আরও পড়ুনঃ  দেশব্যাপি ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন উপলক্ষে রাসিকের প্রস্তুতিমূলক সভা

আরএমপির কোর্ট হাজতখানায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আসামিকে কোর্ট হাজতখানায় নেওয়া হয়। তাঁকে আদালতে তোলার প্রয়োজন হয়নি। বিকেল ৩টার দিকে বিদ্যুৎ চলে গেলে হাজতখানায় অসুস্থ হয়ে পড়েন আসামি। ৪টার দিকে তা দেখতে পেয়ে দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ সদস্যদের দাবি, অতিরিক্ত গরমে স্ট্রোক করে আসামির মৃত্যু হয়েছে।

মইনুলের মৃত্যুর পর তাঁর মৃত্যুসনদে চিকিৎসক লিখেছেন, হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে সুরতহাল প্রতিবেদনে আত্মহত্যার কয়েকটি আলামত উঠে এসেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে হাসপাতালের মর্গে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুমতাহিনা কবির।

প্রতিবেদনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উল্লেখ করেন, লাশের গলায় কালো আঁচড় রয়েছে। কপালের দুই স্থানে পুরোনো কাল দাগ রয়েছে। এ ছাড়া আরও একটি আলামতের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন যা সাধারণত গলায় ফাঁস দিয়ে কেউ আত্মহত্যা করলে দেখা যায়।

আরও পড়ুনঃ  পুঠিয়ায় অটোর দাপট, আবাসিক মিটারে চার্জিংয়ের অভিযোগ

মইনুলের মৃত্যুর ঘটনায় নগরীর রাজপাড়া থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রফিকুল হক বলেন, ‘মৃত্যুসনদে চিকিৎসক উল্লেখ করেছেন যে হৃদ্‌রোগে আসামির মৃত্যু হয়েছে। আমরাও এটুকুই জানি। এখন মরদেহ রামেকের মর্গে আছে। সেখানে মরদেহের ময়নাতদন্ত হবে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট করে আসবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর সেটা বলতে পারব।’

মইনুলের মৃত্যু নিয়ে অবশ্য তাঁর পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই। তাঁর মামা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমার ভাগনে মাদকাসক্ত ছিল। হাজতখানায় অসুস্থ হয়ে সে মারা গেছে বলে পুলিশ আমাদের জানিয়েছে। এই মৃত্যু নিয়ে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই।’

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।