নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

রাজশাহী অঞ্চলে ভেকু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, অবৈধ পুকুর খননে জনজীবন ও কৃষি বিপর্যস্ত

ডিসেম্বর ২২, ২০২৫ ১১:৪৪ 👁️ ২০ views
Link Copied!

মমিনুল ইসলাম মুন, স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী অঞ্চলে এক্সেভেটর (ভেকু) দালাল সিন্ডিকেট চক্রের চরম দৌরাত্ম্যে জনজীবন ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। উপজেলা প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি অংশ এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের নেপথ্য মদদে এ সিন্ডিকেট অবাধে পুকুর খনন, সংস্কার এবং তিন ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বরা মাটি (টপসয়েল) কেটে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীতে সারের সংকট নেই : বিভাগীয় কমিশনার

অবৈধভাবে কাটা মাটি পরিবহণের ফলে গ্রামের পাকা ও কাঁচা সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভেকু ও ট্রাক্টরের বিকট শব্দ, ধুলাবালিতে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে, হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য। কৃষি জমি নষ্ট হওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

সম্প্রতি রাজশাহীর তানোর সীমান্তবর্তী নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়ি গ্রামে অবৈধ মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, এনদাদুল নামের এক ব্যক্তি তার সহযোগীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কৃষকদলের সাবেক নেতা নজরুল ইসলামের বাড়িতে দিনে-দুপুরে হামলা, মারধর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং নারীর শ্লীলতাহানিতে জড়িত হয়। এ ছাড়া তানোরের কামারগাঁ ইউনিয়নের কাদিপুর, গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ি হাট, মোহনপুরের ধুরইলসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্রামবাসীর সঙ্গে ভেকু দালালদের একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহীর মোহনপুরে অবৈধ পুকুর খননের বিরোধিতা করায় এক যুবককে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ দিতে হয়েছে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত নয়টার দিকে মোহনপুর উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নের বড় পালশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কৃষক আহমদ জুবায়ের (২৫) গ্রামবাসীর সঙ্গে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধের প্রতিবাদে গেলে ভেকুচালকের আঘাতে গুরুতর আহত হন। একপর্যায়ে ভেকুর চাকার নিচে চাপা পড়ে তিনি মারা যান। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী একটি মোটরসাইকেল ও ভেকুতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ভেকুচালক গ্রেপ্তার হয়েছে এবং পরদিন মোহনপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে মাদকবিরোধী বিশেষ টিমের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন গুরুতর ঘটনার পরও প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা অনেকটাই নীরব। মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালিত হলেও তা লোকদেখানো ছাড়া কার্যকর নয় বলে দাবি এলাকাবাসীর। অবৈধ পুকুর খনন ও কৃষিজমির টপসয়েল কাটা বন্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।

অভিযোগ রয়েছে, উচ্চ আদালতে রিটের অজুহাতে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন না করেই মাঠের পর মাঠ পুকুরে পরিণত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা আদালতের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে অভিযোগ অস্বীকার করছেন।

আরও পড়ুনঃ  দেশে ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করতে চাই : সিইসি

রাজশাহী বিভাগ মাছ উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় অবস্থানে থাকলেও, অবৈধ পুকুর খননের এই প্রক্রিয়া কৃষি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে একদিকে ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষিশ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। নষ্ট হচ্ছে গোচারণভূমি, বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতা ও সংঘাত।

স্থানীয়ভাবে পরিচিত কয়েকজন ভেকু দালালের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ফসলি জমির মাটি কাটলে বিঘাপ্রতি পাঁচ হাজার এবং নতুন পুকুর খননে বিঘাপ্রতি ১৫ হাজার টাকা দিলেই সবকিছু ‘ম্যানেজ’ করা যায়। ফলে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই বলেও তারা দাবি করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তানোর ও আশপাশের নিয়ামতপুর, গোদাগাড়ী ও মোহনপুর উপজেলার একাধিক ইউনিয়নের মাঠে প্রকাশ্যে অবৈধ পুকুর খনন ও উর্বরা মাটি কাটা চলছে। এলাকাবাসীর দাবি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে অবিলম্বে অবৈধ পুকুর খনন ও ফসলি জমির টপসয়েল কাটার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় কৃষি, পরিবেশ ও সামাজিক স্থিতিশীলতা ভয়াবহ সংকটে পড়বে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।