নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

রাত পোহালেই তানোরে শুরু হচ্ছে ভোট গ্রহণ

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ ৯:২৯ 👁️ ৩৬ views
Link Copied!

মমিনুল ইসলাম মুন, স্টাফ রিপোর্টার : রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এ উপলক্ষে রাজশাহীর তানোর উপজেলার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সন্ধ্যার মধ্যেই সব কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে যাবে।

আরও পড়ুনঃ  মাছে খাচ্ছে কৃষির সার, চাহিদা তুলনায় সরবরাহ কম, বাগমারায় সার সংকটের নেপথ্যে

ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়েছে এবং নাশকতা এড়াতে খুচরা দোকানে পেট্রোল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

উপজেলায় মোট ৬১টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৩১টি কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা, পুলিশের বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যৌথবাহিনী, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর টহলে এলাকাজুড়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।

বুধবার সকালে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে নির্বাচন সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব শংকর বসাক, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বার্নাবাস হাসদাক এবং কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ।

আরও পড়ুনঃ  পুঠিয়ায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ, এবং জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ

সকাল থেকেই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ডেকে একে একে সামগ্রী বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ইউএনও ও এসিল্যান্ড সরাসরি উপস্থিত থেকে বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করেন। স্টিয়ারিং গাড়িতে করে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং এজেন্ট, আনসার ও পুলিশ সদস্যরা সুশৃঙ্খলভাবে নিজ নিজ কেন্দ্রে রওনা হন।

নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনী প্রচারণা সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি। সব কেন্দ্রের ওপর নিবিড় নজরদারি রাখা হচ্ছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে ৯ জন করে নারী ও পুরুষ আনসার সদস্য থাকবেন, যার মধ্যে তিনজন সশস্ত্র থাকবেন। পাশাপাশি তিনটি মোবাইল কোর্ট মাঠে থাকবে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুনঃ  বাগমারায় পরিকল্পিত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৬১টি কেন্দ্র ও ৩৪০টি বুথে দায়িত্ব পালন করবেন ৬১ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ৩৪০ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং ৬৮০ জন পোলিং এজেন্ট। সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮৪ হাজার ৫৪৬ জন এবং নারী ভোটার ৮৭ হাজার ৩২৪ জন।

গত ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীরা টানা প্রচারণা চালিয়েছেন। হাটবাজার, গ্রাম ও পাড়ায় পাড়ায় ছিল সরব নির্বাচনী কার্যক্রম। শেষ পর্যায়ে জামায়াতের গণমিছিল ও ধানের শীষের জনসভায় ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

দুই প্রার্থীর প্রচারণায় নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি উঠে এসেছে। এখন ভোটার উপস্থিতি ও ভোটের পরিবেশ কেমন হয়, সেটিই দেখার বিষয়। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের ঘাটতি রাখা হয়নি।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।