স্টাফ রিপোর্টার: সৌখিন মানুষ আব্দুল্লাহ আল মামুন। তাই ব্যবসায়িক কার্যালয়ের পাশেই রেখেছিলেন কবুতরের ঘর। সেখানে শতাধিক কবুতর ঘুরত, উড়ত, বাক-বাকুম ডাকত। মামুনের শখের কবুতরগুলোর এখন আর একটিও নেই। শত্রুতার আগুনে পুড়ে সব অঙ্গার হয়ে গেছে।
মামুন রাজশাহীর কাটাখালী পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক। কাটাখালীর শ্যামপুর এলাকায় তার ব্যবসায়িক কার্যালয় ছিল। কার্যালয়ের সঙ্গেই ছিল কবুতরের জন্য আলাদা ঘর। সোমবার ভোররাতে দুর্বৃত্তরা মামুনের কার্যালয়ে আগুন দেয়। এতে কার্যালয়ের পাশাপাশি কবুতরের ঘরটিও পুড়ে যায়। সেখানে থাকা শতাধিক কবুরের একটিও বাঁচতে পারেনি।
সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পোড়া ছাইয়ের ভেতর থেকে তখনও ধোয়া বের হচ্ছে। মামুনের কার্যালয় আর কবুতরের ঘরের চিহ্নমাত্র নেই। আসবাবপত্র, ব্যবসায়িক কাগজপত্র- সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুধু আধপোড়া কিছু বাঁশ দাঁড়িয়ে আছে। কিছু পুড়ে মারা যাওয়া কবুতর এক জায়গায় জড়ো করে রাখা হয়েছে। বেশকিছু ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।
সেখানে আশপাশের উৎসুক মানুষ জড়ো হয়েছেন। তারা জানান, এখানে শতাধিক কবুতর ছিল। আগুনে সবগুলো জ্যন্ত পুড়ে মরেছে। এটির জন্যই তাদের বেশি খারাপ লাগছে।
কবুতরগুলোর মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু আর প্রধানমন্ত্রীর ছবি ছিল। বিভিন্ন আসবাবপত্র আর ব্যবসায়িক কাগজপত্র ছিল। সবই পুড়েছে। সঙ্গে পুড়ে মরেছে প্রিয় কবুতরগুলো। যারা জ্যন্ত কবুতরগুলোকে পুড়িয়ে মেরেছে আমি তাদের কঠোর শাস্তি চাই।’
মামুন জানান, একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাশের বাড়িরই এক ব্যক্তি তার কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। তাকে মারধরেরও চেষ্টা করেন। সোমবার ভোররাতে আশপাশের লোকজন তার বাড়ি গিয়ে কার্যালয়ে আগুন লাগার খবর দেন। পরে সবাই মিলে এসে আগুন নেভানোর আগেই সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তিনি ধারণা করছেন, হুমকি দেওয়া ব্যক্তিই কার্যালয় জ¦ালিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টি তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন। এ নিয়ে মামলা করবেন।
জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগরীর কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুর রহমান বলেন, এ রকম ঘটনার কথা তিনি শুনেছেন। তবে সোমবার বিকাল পর্যন্ত থানায় লিখিত কোন অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

