স্টাফ রিপোর্টার : কৃষি ও খাদ্যবৈচিত্র্য সংরক্ষণ, দেশি বীজের বিস্তার, পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ এবং নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বরেন্দ্র অঞ্চলের ২২ জন গ্রামীণ নারীকে ‘গ্রামীণ নারী সম্মাননা-২০২৬’ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে বুধবার রাজশাহীর পবা উপজেলার বিলনেপালপাড়া এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারে তাঁদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
বারসিক ও গ্রিন কোয়ালিশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে পবা, তানোর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার নারীরা সম্মাননা পান। তাঁদের কেউ দেশি বীজ সংরক্ষণ ও বিনিময় করছেন, কেউ বৈচিত্র্যময় সবজি ও ফল চাষ করছেন, আবার কেউ জৈব সার উৎপাদন, পানি সাশ্রয়ী ফসল চাষ এবং পরিবেশবান্ধব চুলার ব্যবহার ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
সম্মাননাপ্রাপ্ত নারীদের মধ্যে রয়েছেন- শিল্পী বেগম, আয়েশা বেগম, মিনারা বেগম, পান্না বেগম, মাহমুদা বেগম, মর্জিনা বেগম, সেতারা বেগম, পানি মার্ডি, সুমি বেগম, পরি টুডু, চিচিলিয়া হাসদা, অঞ্জলী রানী, তিথি সরেণ, মাইনো বাসকি, সাগরী রানী, সেলিনা বেগম, তহমিনা বেগম, শাহানা বেগম, বিলকিস বেগম, রুবিনা খাতুন, জেসমিন বেগম ও মার্জিনা টুডু।
এদের মধ্যে শিল্পী বেগম বসতবাড়িতে পাঁচ জাতের ২৩০টি প্রাণিসম্পদ পালন করেন। ২৫ ধরনের বীজ বিনিময় করেন। আয়েশা বেগম বরেন্দ্র অঞ্চলের উপযোগী ১৪ জাতের দেশি কলা সংরক্ষণ ও বিনিময় করছেন। মিনারা বেগম ছয়টি গ্রামের ১২০ জন নারীকে পরিবেশবান্ধব চুলা তৈরি করে দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে তাঁদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। সেতারা বেগম পাঁচটি গ্রামের ১৪৫ জন নারীর মধ্যে ২১ জাতের সবজি বীজ বিনিময় করেছেন। মার্জিনা টুডু ৪৭ জাতের বীজ সংগ্রহের পাশাপাশি ১০টি গ্রামের ১৭৫ জন নারীর মধ্যে বীজ বিনিময় করছেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বারসিকের নৃবিজ্ঞানী ও আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম বলেন, সম্মাননাপ্রাপ্ত নারীরা কৃষি ও পরিবেশ সংরক্ষণকে শুধু উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। বীজ বিনিময়, পারস্পরিক সহযোগিতা, স্থানীয় জ্ঞানের চর্চা এবং সংগঠন গড়ে তোলার মাধ্যমে তাঁরা গ্রামীণ সমাজে জ্ঞান ও সম্পদ ভাগাভাগির চর্চাকে শক্তিশালী করছেন।
গ্রিন কোয়ালিশনের পবা উপজেলা সভাপতি রহিমা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গ্রিন কোয়ালিশনের জেলার সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, গ্রামীণ নারীরাই আমাদের কৃষি সুরক্ষা করে চলেছেন। ঐতিহ্যবাহী কৃষির সুরক্ষাদাতা তাঁরাই। অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষক, নারী সংগঠক, পরিবেশকর্মীসহ শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

