নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

৬ হাজার সিমে শতকোটির প্রতারণা, চাইনিজ প্রতারক চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

আগস্ট ২, ২০২৬ ১১:০৬ 👁️ ৬৯ views
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার মাধ্যমে মাসে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা পাচারকারী এক চক্রের বিদেশি নাগরিকসহ চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আরও পড়ুনঃ  নিজ বাড়ি থেকে তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রোববার (২ আগস্ট) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, জব্দ করা ৬ হাজার সিম ও ২০টি ডিজিটাল গেটওয়ে ব্যবহার করে চক্রটি ভুয়া অফার ও চাকরির প্রলোভনে সাধারণ মানুষের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল।

গ্রেপ্তাররা হলেন, চাকমা জিয়ানা (২৭), লিউ হুই জাং (৪৬), ওয়ে ইউজি (৩০) ও শে ই রান (৪২)।

শফিকুল ইসলাম জানান, গতকাল (শনিবার) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ভবনে অভিযান চালায় ডিবি সাইবার ক্রাইমের একটি দল। ছয়তলা বিশিষ্ট ওই ভবনটি এক বাংলাদেশি উপজাতীয় নারী (ঝর্ণা) ভাড়া নিয়েছিলেন। তিনি নিজে ভবনের একতলায় থাকতেন এবং বাকি পাঁচটি ফ্লোর চাইনিজদের কাছে ভাড়া দেন, যেখানে তারা হোটেলের মতো যাতায়াত ও অবস্থান করত।

আরও পড়ুনঃ  নেপালে বন্যায় মৃতদের স্মরণে জাতীয় শোক পালিত

অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ভবনের চার ও পাঁচতলার ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে অনলাইন গেটওয়ে ও জুয়াসহ নানা ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। ঘটনাস্থল থেকে অবৈধ কাজে ব্যবহৃত ১৪টি ল্যাপটপ, ১৬টি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন প্রোভাইডারের ৬,০০০টি সিম, ২০টি গেটওয়ে মেশিন, বিদেশি মদ এবং নগদ ২ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টাকা জব্দ করা হয়।

চক্রটির প্রতারণার কৌশল তুলে ধরে শফিকুল ইসলাম জানান, চক্রটি বিভিন্ন সময়ে মোবাইলে লোভনীয় অফার, চাকরি বা অতিরিক্ত আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠাত। এসব বার্তায় থাকা লিংকে ক্লিক করলেই ব্যবহারকারীদের কাছে বিভিন্ন অফার আসত। এরপর অফারগুলোর বিপরীতে গ্রাহকদের থেকে টাকা হাতিয়ে নিতেই ওই গেটওয়েতে প্রায় ৬,০০০ সিম ব্যবহার করা হতো।

তিনি জানান, জব্দ করা সরঞ্জামগুলোর মধ্যে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার সিম ব্যবহারের উপযোগী স্লট পাওয়া গেছে, যেখানে একটি মাত্র মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে ১২টি সিম পরিচালনা করে প্রতারণা চালানো হতো।

আরও পড়ুনঃ  ইসলাম ও মাদ্রাসা নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তিপূর্ণ পোস্ট, চারঘাটে শিক্ষক আটক

গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত নিজেদের ডিভাইসের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করায় এতদিন চক্রটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে চক্রটিকে গ্রেপ্তার করার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে মাসে অন্তত ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা অবৈধভাবে পাচার হওয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি জানান, এই একটি মাত্র গেটওয়ের মাধ্যমেই অনলাইন জুয়া ও নানা অবৈধ উপায়ে মাসে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে পাচার করা হতো। চক্রটির সবাইকে গ্রেপ্তার করে ইতোমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, চীনা নাগরিকরা বাংলাদেশেদেশে এসে বিভিন্ন চাইনিজ প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এসব অপকর্ম পরিচালনা করছে। সাধারণ মানুষ না বুঝে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের লোভনীয় প্রলোভনে পড়ে দিন দিন সর্বস্বান্ত হচ্ছে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।