• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
  • নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • somoyerkotha24news@gmail.com
  • +880-1727-202675

খরার ব্যাহত আমনের চাষ

প্রকাশ: বুধবার, ২ আগস্ট, ২০২৩ ১২:২১

খরার ব্যাহত আমনের চাষ

স্টাফ রিপোর্টার : এবছর রাজশাহীতে বৃষ্টিপাত কম হচ্ছে। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় সঠিক সময়ে জমিতে আমন ধান লাগাতে পারেনি বেশিরভাগ কৃষক। আর যারা লাগিয়েছেন তারা পড়েছেন খরার কবলে। এমন অবস্থায় কোন মতে সেচ দিয়ে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে ধান। চলতি বছরে আষাঢ় মাসে ২০ দিন বৃষ্টিপাত হয়েছে। দিনের হিসেবে বেশি হলেও পরিমানে কম। এসময়ে রাজশাহী বৃষ্টিপাত হয়েছে মাত্র ২০৫ দশমিক ৯ মিলিমিটার। এই বৃষ্টিপাতকে তুলনামূলক নগন্য বলছেন কৃষি অধিদফতর ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, বরেন্দ্র অঞ্চলসহ অন্যান্য অঞ্চলে সামান্য বৃষ্টি, গভীর ও অগভীর নলকূপের পানিতেই আমন ধানের চাষ হয়। এবছর আষাঢ় মাসের মাঝামাঝিতে ঘনঘন বৃষ্টি হওয়ায় আমন ধান লাগানো শুরু করেন কৃষকরা। তবে বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়ায় জমিতে সেচের জন্য বরেন্দ্র বহুমুখী কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপ ছাড়াও বিভিন্ন খাল। কৃষকরা বলছেন, বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং এর কারণে তারা প্রত্যাশিত পানির সুবিধা পাচ্ছেন না।

পবায় দেড় বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছেন হামিদুজ্জামান। তিনি বলেন, সেচ দিয়ে জমি প্রস্তুত করে ধান লাগিয়েছি। আশাছিল বৃষ্টিপাত হবে। বৃষ্টিপাত হলে সেচ দিতে হবে না। কিন্তু ধান লাগানের পর থেকে তেমন বৃষ্টিপাত নেই। ফলে দুই দিন পর পরে জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে তাকে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বলছে, রাজশাহী জেলায় এবছর আমন ধানের চাষ হয়েছে ৪৭ হাজার ৯৫৮ হাজার হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি আমনের চাষ হয়েছে গোদাগাড়ীতে ২০ হাজার হেক্টর জমিতে। তারপরে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তানোর। এই তানোর উপজেলায় আমন ধানের চাষ হয়েছে ১৯ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। তবে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় রাজশাহী জেলায় ধান লাগাতে ধীরগতি।

অপরদিকে, রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র বলছে, রাজশাহী পুরো আষাঢ় মাসজুড়ে ২০দিন বৃষ্টিপাত হয়েছে। এরমধ্যে শুধুমাত্র একটি ভারিবর্ষণ হয়েছে। ওই মাসের ১৬ আষাঢ় (৪ জুলাই খ্রি:) ৪৪ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া ১৮ জুন (৩ আষাঢ়) রাজশাহীতে বৃষ্টিপাত হয়েছে ২ দশমিক ৪ মিলিমিটার, ১৯ জুন বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৩ দশমিক ৯ মিলিমিটার, ২১ জুন ২ দশমিক ৮ মিলিমিটার, ১২ জুন ২২ দশমিক ৬ মিলিমিটার, ২৩ জুন শূন্য দশমিক ১ মিলিমিটার, ২৭ জুন ৯ দশমিক ৮ মিলিমিটার, ২৮ জুন ২৯ দশমিক ৬ মিলিমিটার, ২৯ জুন ১ দশমিক ৮ মিলিমিটার, ৩০ জুন শূন্য দশমিক ৪ মিলিমিটার, ১ জুলাই ৩০ দশমিক ২ মিলিমিটার, ২ জুলাই ৬ দশমিক ৪ মিলিমিটার, ৩ জুলাই ৫ দশমিক ১ মিলিমিটার, ৪ জুলাই ৪৪ দশমিক ২ মিলিমিটার, ৬ জুলাই শূন্য দশমিক ২ মিলিমিটার, ৭ জুলাই ৭ দশমিক ২ মিলিমিটার, ৮ জুলাই ২ দশমিক ৪ মিলিমিটার, ৯ জুলাই ১০ মিলিমিটার, ১১ জুলাই ৫ মিলিমিটার, ১৩ জুলাই ১০ দশমিক ৮ মিলিমিটার এবং ১৫ জুলাই রাজশাহী ১মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীতে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের বিভাগীয় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক দেবল কুমার জানায়, সাধারণত ৪৪ মিলিমিটারকে ভারি বর্ষণ ধরা হয়। ৪৪ মিলিমিটারের উপরে অতি ভারি বর্ষণ ধরা হয়। তবে পুরো আষাঢ় মাসজুরে মাত্র একদিন ভারি বর্ষণ হয়েযছে। বিগত বছরগুলোতে এমন কিন্তু হয়নি। এই বছর বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে তুলনামূলক পরিমানে কম। তবে বর্ষার সময় আছে, বৃষ্টিপাত হতে পারে।

অপরদিকে আমাদের তানোর প্রতিনিধি জানান, তানোরে রোপনকৃত রোপা আমন ধানের খেতে নেই পানি। জমি ফেটে চৌচির। বৃষ্টির পানির দেখা নেই ১৫ দিন ধরে। এ কারণে জমির অবস্থা নাজেহাল। বিএমডিএর অপারেটরেরা দিচ্ছেন না সেচ। আর কয়েকদিন এভাবে চলতে থাকলে ধান গাছের কচিপাতা পুড়ে যাবে।

জানা গেছে, বৃষ্টির পানি নির্ভর রোপা আমন চাষাবাদ। উপজেলার উঁচুনিচু সকল জমিতে হয় চাষ। কিন্তু গত ১৫ দিনধরে বৃষ্টির দেখা নেই। যার কারণে ২৪ হাজার বিঘা জমি এখনো রোপন হয়নি ধান। পতিত পড়ে আছে।

খাড়িকুল্লাগ্রামের জাহাঙ্গীর জানান, ৬ বিঘা রোপন করতে পারেনি। ১৫ দিন আগে ভারি বর্ষণে জমিগুলো চাষ দিতে পেরে ছিলাম। কিন্তু সেই চাষকৃত জমিতে পানি না পাওয়ায় শুকিয়ে পড়েছে আছে। যদিও বৃষ্টি হয় পুনরায় নতুনভাবে চাষ করতে হবে। আর জমি রোপন করতে না পারলে ক্ষতিগ্রস্থ হতে হবে। শুধু আমারনা প্রায় কৃষকের একই অবস্থা।

বিএমডিএ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় গভীর নলকূপ সরকারি ৫৩৬ টি মালিকানা ১৬টি মোট ৫৫২টি, অগভীর মটর বিদ্যুৎ চালিত ৪১১ টি, ডিজেলচালিত ৫০ টিএলএলপি (বিদ্যুৎ) ৩টি, এলএলপি (ডিজেলচালিত) ৩৫০টি, সরকারী মোট সেচযন্ত্র ১ হাজার ৩৬৬টি ও মালিকানা ৮৩০ টি। সবমিলে সেচযন্ত্র ২ হাজার ১৯৫টি। উপজেলায় আবাদ যোগ্য জমি আছে ২৩ হাজার ৯৯৩ হেক্টর। সেচের আওতায় ২২ হাজার ৩৩২ হেক্টর।

এ বিষয়ে বিএমডিএ এর সহকারী প্রকৌশলী কামরুজ্জামান জানান, গভীর নলকূপের অপারেটরা সঠিকভাবে সেচ দিচ্ছেনা এমন কথা সত্য নয়। অভিযোগ পেলে অপারেটরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল্লাহ আহম্মেদ বলেন, এবারে রোপা আমনের লক্ষমাত্রা ২৩ হাজার ৯৯৩ হেক্টর জমি। এরমধ্যে রোপন হয়েছে প্রায় ১৯ হাজারের বেশি হেক্টর জমিতে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, কৃষি বিভাগ বলছে, বৃষ্টি দেরীতে হলেও কৃষকরা পুরো শ্রাবণ মাস পর্যন্ত আমনের আবাদ করতে পারবে। ইতোমধ্যে ৫৭ ভাগ জমিতে আমন ধান রোপনের কাজ শেষ করেছে কৃষকরা। এবারও আমনের ভাল ফলনের আশা করছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

জানা গেছে, জেলার ৫টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৫৩ হাজার ৫৯৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর আবাদ হয়েছিল ৫৩ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে ৩০ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদ হয়েছে। এবছর জেলায় আমন ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯শো মেট্রিক টন।

আরও পড়ুনঃ  লফস এর আয়োজনে খেলার মাঠ, পার্ক ও উম্মুক্ত স্থানের বাজেট বরাদ্দ বিষয়ে আলোচনা সভা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় ১০ হাজার ২৫০ হেক্টরের বিপরীতে ৫ হাজার ৩২০ হেক্টর, নাচোলে ২২ হাজার ৮২৫ হেক্টরের বিপরীতে ১৫ হাজার হেক্টর, গোমস্তাপুরে ১৪ হাজার ৯৪৫ হেক্টরের বিপরীতে ৫ হাজার ৪৯৫ হেক্টর, ভোলাহাটে ৫ হাজার ৫ হেক্টরের বিপরীতে ৪ হাজার ৮শো হেক্টর ও শিবগঞ্জে ৫৭০ হেক্টরের বিপরীতে ৫০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। আমনের আবাদের জন্য এসময় প্রকৃতির বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে ছিল চাষিরা।

এবার সময়মতো বৃষ্টি না হলেও আষাঢ়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে প্রত্যাশিত বৃষ্টি হওয়ায় চাষাবাদ শুরু করে কৃষকরা। পরবর্তীতে বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়ায় গভীর নলকূপের আওতায় সেচের পানির উপর নির্ভর করে কৃষকরা এবং জমিতে চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আর পুরো শ্রাবণ মাস পর্যন্ত এবার আমন আবাদ করবে কৃষকরা। নাচোল ইউনিয়নের নেজামপুরের কৃষক ইয়াসিন আলি বলেন, আষাঢ় মাসে বৃষ্টি হওয়ায় আবাদ শুরু করা হয়। শ্রাবণ মাস শুরু হলেও এখন পর্যন্ত আশানুরূপ বৃষ্টি না হওয়ায় বাকি আবাদ করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। মেঘের আনাগোনা থাকলেও প্রত্যাশিত বৃষ্টি নেই। বাধ্য হয়েই গভীর নলকুপের পানি সেচের মাধ্যমে চাষাবাদ শুরু করা হয়েছে।

এতে করে আমনের আবাদ খরচ বেড়ে যাচ্ছে। আরেক কৃষক দুলাল হোসেন বলেন, বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং এর কারণে তারা গভীর নলকূপ থেকে সেচের পানির সুবিধা পাচ্ছেন না। জমিতে সেচ সুবিধার জন্য নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের প্রয়োজন। বৃষ্টির পানি সংরক্ষনের পাশাপাশি সেচের পানি সংরক্ষণ করে বাকি জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। বৃষ্টি হলে ফলন ভাল হবে বলে আশাবাদী তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. পলাশ সরকার জানান, আষাঢ় মাসে বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকরা আমন ধান রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তবে শ্রাবণ মাসে বৃষ্টি না হওয়ার পরও কৃষকরা সেচের পানি সংরক্ষণ করে ধান রোপণ করছেন। কোন ধরনের দুর্যোগ দেখা না দিলে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। এ পর্যন্ত ৫৭ ভাগ জমিতে আমন চাষাবাদ হয়েছে।

নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, বৃষ্টিনির্ভর আমনে পানি না থাকায় চারা রোপন সম্ভব হচ্ছে না। আবার আগাম লাগানো আমন ক্ষেতে কৃষকরা কৃত্রিম সেচ দিয়ে ফসল রক্ষায় প্রাণপন চেষ্টা চালাচ্ছে। যে এলাকাতে বিদ্যুতের সেচ সুবিধা নেই সেই এলাকার কৃষকরা সেচ নিয়ে দিশেহারা। কারণ ডিজেল দিয়ে পানি সেচ দিয়ে আমন ধান চাষ খুবই কষ্ট সাধ্য বেয়বহল।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর জেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩০০ হেক্টর জমি। আর এখন পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ৬১ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমি। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩ লাখ ৯০ হাজার ৮০ মেট্রিক টন। যা গত বছরে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৯২ হাজার ৪৫০হেক্টর। বর্তমানে পর্যাপ্ত পানির অভাবে জেলার বিভিন্ন উপজেলার আমন ধানের মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। জমিতে রোপন করা ধানের চারা গাছগুলো মরে যাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  পরমাণুবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এম শমশের আলী’র বাউবিতে “প্রফেসর ইমেরিটাস” পদে যোগদান

জেলা সদরের চন্ডিপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন আগের সময়ে আমনধান চাষের সময় বৃষ্টির পানির পাশাপাশি সেচ দিতে হতো কম। যার কারণে প্রতি বিঘা জমিতে আমনধান চাষে খরচ পড়তো ৩-৫হাজার টাকা। কিন্তু বর্তমান সময়ে কৃষি পণ্যের সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং বৃষ্টির অভাবে সেচ দিয়ে আমনধান চাষ করতে প্রতি বিঘাতে খরচ পড়ছে ১০-১২হাজার টাকা। ফলে লাভের চেয়ে লোকসানই গুনতে হচ্ছে বেশি। তাই সকল কৃষি পণ্যের দাম কমিয়ে দিয়ে সরকারি ভাবে ধানের দাম একটু বেশি দেওয়ার অনুরোধ করছি।

অপরদিকে বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, গত একসপ্তাহ যাবত নওগাঁ ও তার আশেপাশের অঞ্চলের তাপমাত্রা ৩৩-৩৬ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। এই তাপমাত্রা আগামীতে আরো বৃদ্ধি পেতে পারে এবং আরো কয়েকদিন যাবত অব্যাহত থাকতে পারে। সহসাই এই অঞ্চলে বৃষ্টির তেমন কোন সম্ভাবনা নেই। তবে মাঝে মধ্যে আকাশে মেঘ দেখা যাবে এবং বিক্ষিপ্তভাবে কোথাও কোথাও একটু বৃষ্টি হতে পারে তবে সেই বৃষ্টিতে তাপমাত্রায় তেমন কোন প্রভাব পড়বে না যতক্ষন না সারা দেশে একযোগে বৃষ্টি না হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবুল কালাম আজাদ বলেন প্রচন্ড খরা হলেও গত বছরের চেয়ে চলতি আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকরা অনেক সচেতন হওয়ার কারণে বৈরী আবহাওয়ার কারণেও প্রতিবছরই আমন ধান চাষের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সময় মতো আমনধান চাষ করে ঘরে তুলে সেই জমিতে আবার অধিক লাভজনক সরিষা, গম, ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসল চাষের জন্য বৃষ্টির পানির আশায় না থেকে কোন কৃষকই জমি ফেলে রেখে বসে নেই। বর্তমানে কৃষকরা এই আবহাওয়ার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছেন। যার কারণে পানি সেচ দিয়ে কৃষকরা আমনধান চাষ করছেন।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে জেলার প্রতিটি এলাকার গভীর-অগভীর নলকূপের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জমিতে সঠিক ভাবে পানি সেচ দেওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলা সেচ কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যের বাহিরে কোথাও সেচ মূল্য বেশি আদায়ের কোন অভিযোগ পেলে ওই সেচ যন্ত্রের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের প্রত্যেক কৃষি কর্মকর্তারা তাদের নিজ নিজ এলাকার কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান করছেন। তাই আমরা শতভাগ আশাবাদি আমন মৌসুমে যদি কোন বড়ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা না দেয় তাহলে গত বছরের মতো চলতি বছরেও জেলার আমনচাষীরা বাম্পার ফলন ঘরে তোলার মাধ্যমে অনেক লাভবান হবেন।

সর্বশেষ সংবাদ

ছোট অপরাধ বাড়ছে, বড় অপরাধ কমে এসেছে : আসিফ মাহমুদ
বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫ ১২:২০
পুঠিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মাদরাসা ছাত্রী নিহত
বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫ ১২:২০
ওএসডি হলেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৮২ কর্মকর্তা
বুধবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫ ১২:২০
 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ

 



সম্পাদক ও প্রকাশক : ইয়াকুব শিকদার

ঢাকা অফিস: ১২১,ডি.আই.টি, এক্সটেনশন রোড, ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। রাজশাহী অফিস: বহরমপুর (সিটি বাইপাস), জিপিও-৬০০০, রাজপাড়া, রাজশাহী। ই-মেইল: somoyerkotha24news@gmail.com, মোবাইল: 01727202675