নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

কৃষকদের সৌরবিদ্যুৎ চালিত পানির পাম্প দেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী

সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ৯:০৩ 👁️ ৪৩ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সেচ কাজে ডিজেলচালিত পানির পাম্পের পরিবর্তে কৃষকদের সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্প প্রদান করা হবে।’

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজউদ্দীন খানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে একথা জানান।

জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্যের প্রশ্ন ছিলো, সেচ কাজে ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের পরিবর্তে কৃষকদের বিনামূল্যে সোলার বিদ্যুৎ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা?

আরও পড়ুনঃ  সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে ৫০ শতাংশ কোটা কমাল সরকার

উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে, যেসব স্থানে ডিজেল দিয়ে পানির পাম্প চালানো হয় সবগুলোকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আমরা সৌর বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে যাব।’

তাজউদ্দীন খানের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অন্যান্য বিকল্প জ্বালানি উৎস সম্প্রসারণের সরকারের কর্মপরিকল্পনাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘সরকার দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদার কথা বিবেচনা করে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইতোমধ্যে ২০২৬ হতে ২০৩০ মেয়াদে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। উক্ত কৌশলপত্র অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্ভাবনা ও বাস্তবতা বিবেচনায়, ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ খাতে নিম্নোক্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেগুলো হচ্ছে-ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ হতে ৫,৫০০ মেগাওয়াট, ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ হতে ৪,৫০০ মেগাওয়াট এবং অন্যান্য প্রযুক্তি যেমন: বায়ু বর্জ্য, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সোলার, অ্যাগ্রিভোলটেইক্স ইত্যাদি হতে ৪৫০-৫৫০ মেগাওয়াট।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নবায়নযোগ্য উৎস হতে বিদ্যুৎ উৎপাদন উৎসাহিত করতে সরকার ইতোমধ্যে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য অপরিহার্য পণ্যগুলির (সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি, স্ট্যাকচার) ওপর আরোপণীয় সমুদয় কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, আগাম কর এবং ২ শতাংশের অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর হতে শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি প্রদান করেছে। সর্বশেষ, গত ১ সেপ্টেম্বর ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় ইউনিট প্রতি সর্বোচ্চ ৮ (আট) টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

আরও পড়ুনঃ  কক্সবাজারে ফুরফুরে মেজাজে দীঘি

তিনি বলেন, ‘বিশেষ প্রণোদনার অংশ হিসেবে উৎপাদন ব্যয়ের ওপর ২০ শতাংশ মুনাফা এ বং ১১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম বিবেচনা করে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।’

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুসরণপূর্বক যে সকল গ্রাহক আগামী বছর ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে নিজস্ব ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা পরবর্তী ৩ (তিন) বছর, অর্থাৎ ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে পাবেন।’

নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে সরকার ইতোমধ্যে নিম্নরূপ নীতিমালা/ গাইডলাইন প্রণয়ন করেছে বলে সংসদকে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পিপিপি পদ্ধতিতে সরকারি সংস্থার মালিকানাধীন ভূমিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প উন্নয়ন নির্দেশিকা, ২০২৬’ এবং ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি অংশগ্রহণ বৃদ্ধি নীতিমালা, ২০২৫’ নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা, ২০২৫, নেট মিটারিং গাইডলাইন, ২০২৫, জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি, ২০২৫, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবসায়িক মডেল এবং ‘অনশোর উইন্ড গাইডলাইন’ এবং ‘কার্বন ক্রেডিট প্রক্রিয়াকরণ বিষয়ক গাইডলাইন।’

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ১৩

সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর সস্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সৌরবিদ্যুতের স্টোরেজের জন্য এখানে দুই ধরনের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। একটি হচ্ছে, লেড ব্যাটারি যেটাতে নরমাল ট্রেডিশনের; আরেকটা হচ্ছে লিথিয়াম ব্যাটারি, যেটি পরিবেশ বান্ধব।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার লিথিয়াম এনকারেজ করার চেষ্টা করছে। লিথিয়াম ব্যাটারি স্থাপনের ক্ষেত্রে অর্থাৎ তৈরির ক্ষেত্রে যে সকল কলকারখানা স্থাপিত হবে সেটিকে সরকার সব রকমের সহযোগিতা দেবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘লিড ব্যাটারিতে এসিডের ব্যবহার হয় যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। সেজন্য এটাকে ডিসকারেজ করতে চাইছি।’

তিনি বলেন ‘ভবিষ্যতে আমাদের চিন্তাভাবনা থাকবে যে, রুফটপের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহার করতে হবে।’

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে তিনটায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রথম ৩০ মিনিট ছিলো প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব।

প্রধানমন্ত্রীর জন্য আজ আটটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন নির্ধারিত ছিলো। এরমধ্যে তিনটি প্রশ্ন এবং সাতটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।