নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

সাইবার সুরক্ষা আইনে সাংবাদিকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে

নভেম্বর ৪, ২০২৬ ৮:৩৫ 👁️ ৮০ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর খসড়া পরিমার্জন ও চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আইনটি যেন কোনোভাবেই সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যম বা স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপর সভায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  দেশজুড়ে ৫০৯ কেন্দ্রে হবে মাদ্রাসার দুই স্তরের বৃত্তি পরীক্ষা

বুধবার (৪ নভেম্বর) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্তকরণের জন্য গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় বিভিন্ন অংশীজনের মতামত, সাংবাদিকদের সুপারিশ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পর্যবেক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সুরক্ষায় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত সংবাদের কারণে কোনো সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যমের মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের আগে সংশ্লিষ্ট এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতের পূর্বানুমতি গ্রহণের বিধান রাখার বিষয়ে আলোচনা ও নীতিগত ঐকমত্য হয়। একইসাথে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং হয়রানি প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  আলিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গিয়ে কিসের ভয়ে কাঁপছিলেন রণবীর?

সভায় মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন ও সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলো পৃথকভাবে বিবেচনা করে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব আলোচনা হয় পাশাপাশি সাইবার স্পেসের সংজ্ঞা আরো সুনির্দিষ্ট করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞা আরো সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করার বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়, যাতে আইনের অস্পষ্ট বা অতিব্যাপক সংজ্ঞার কারণে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না হয়।

এ ছাড়া আইনে মোবাইল কোর্টের বিধান অন্তর্ভুক্ত না রাখা, কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কারণ অবহিত করা এবং ব্লক করা কনটেন্ট অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। কোনো সংবাদমাধ্যম বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আগে লিখিত নোটিশ প্রদান ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও সভায় আলোচনায় আসে।

আরও পড়ুনঃ  নিয়ামতপুরে এইচএসসিতে ২ কলেজে শতভাগ ফেল

সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য কাঠামো, গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব এবং আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সাথে পরামর্শের বিষয়েও আলোচনা হয় সভায়। পাশাপাশি জাতিসংঘসহ উন্নয়ন সহযোগী এবং মেটার মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে আলোচনা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় সংশোধিত খসড়া আইনটি অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে পুনরায় পরিমার্জন করে ওয়েবসাইটে প্রকাশের বিষয়ে আলোচনা হয়। জনসাধারণের মতামত গ্রহণের মাধ্যমে খসড়াকে আরো গ্রহণযোগ্য, কার্যকর ও সময়োপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি নাগরিকের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের গঠনমূলক মতামত বিবেচনায় নিয়ে খসড়াটি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির পক্ষ থেকে সভায় উপস্থাপনা দেওয়া হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।#

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।