স্টাফ রিপোর্টার: আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি কি বলল না বলল তা আওয়ামী লীগ দেখতে যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহী জেলা ও মহানগর যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিএনপির উদ্দেশ্যে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘নির্বাচনে আসবেন কি আসবেন না সেটি আপনাদের নিজস্ব রাজনৈতিক বিষয়। নির্বাচনে আসলে আপনাদেরই ভাল। আর যদি নির্বাচনে না আসেন, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেন তাহলে ভিসানীতিতে কি বলল না বলল, সেটি আমরা দেখতে যাব না। বাংলার জনগণকে নিয়ে আওয়ামী লীগ অতীতে যেমন মোকাবিলা করেছে, ঠিক সেই ভাবে আপনাদেরকে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।’
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন আরও বলেন, ‘যারা যুক্তরাষ্ট্রের স্যাংশন নিয়ে হাসি-তামাশা করছেন, তাদের বলি- ওই স্যাংশন দিয়ে আওয়ামী লীগের একটা পশমও ছেঁড়া যাবে না। আওয়ামী লীগ এখন একটা বটবৃক্ষ। আজকে সারাদেশে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগ। মানুষকে কি সুখে থাকতে ভূতে কিলায় ভাই? আওয়ামী লীগের শাসনামলের সুখ ছেড়ে অন্য কাউকে ক্ষমতায় আনবে লুটপাটের জন্য?’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে লিটন বলেন, ‘লন্ডনে বসে হুকুম দিবেন আর আওয়ামী পড়ে যাবে এটা হবে না। আওয়ামী লীগ এ রকম গাছে পচে যাওয়া ফল নয় যে পড়ে যাবে। আপনার রাজনীতি করার শখ থাকলে দেশে আসুন। মামলা আছে, গ্রেপ্তার হবেন। যদি আপনাকে দেশের মানুষ মুক্ত করে তবেই তো বুঝব আপনি নেতা। ওইখানে বসে থেকে জুয়া খেলবেন আর দেশের মানুষ আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে, এটা হবে না। বাংলাদেশের মানুষের এত দায় ঠেকেনি, আপনাকে নিয়ে এসে ক্ষমতায় বসাবে।’
সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় যুবলীগকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে লিটন বলেন, ‘স্বাধীনতার পর যুবসমাজকে বিভ্রান্ত করার জন্য নানাভাবে চক্রান্ত করা হচ্ছিল। আমরা জানি। স্বাধীনতার মাত্র এক বছরের মধ্যে জাসদ তৈরির প্রেক্ষাপট হলো এবং জাসদ তৈরি করে যুবসমাজের একটা বড় অংশকে তাদের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব নামে একটা বিপ্লব তৈরি করে অস্ত্র হাতে গণবাহিনী তৈরি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়েছিল। সেটা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। আজকে জাসদ আমার বন্ধু হোক। সেটা কোন কথা নয়। কিন্তু অতীতের ইতিহাস, তারাই বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট-পটভূমি তৈরি করেছিল। স্বাধীনতার পরে যারা অনেকে অস্ত্র সমর্পন করেনি, তাদের অনেককে অস্ত্র সমর্পণ করে একটা সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে শহীদ শেখ মনি যুবলীগ গঠন করলেন। সেই থেকে আওয়ামী লীগের পরে যার স্থান ধরা হয় সেটি হলো আওয়ামী যুবলীগ।’
এর আগে সকালে সম্মেলন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। প্রধান বক্তা ছিলেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের স্থানীয় এবং কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।