অনলাইন ডেস্ক: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘মুজিব- একটি জাতির রূপকার’ মুক্তি পেয়েছে শুক্রবার (১৩ অক্টোবর)। ৮৩ কোটি বাজেটে বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এ ছবিটি দেশের প্রায় ১৬০টির মতো প্রেক্ষাগৃহে চলছে।
বেশ কয়েকটি সিনেমা হল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তারা চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, কোথাও দর্শকদের উপস্থিতি চোখের পড়ার মতো, আবার কোথাও দর্শক কম!
স্টার সিনেপ্লেক্সের সবগুলো শাখা মিলিয়ে দৈনিক ২১টি শো চলছে ‘মুজিব’ সিনেমাটির। সিনেপ্লেক্স মিডিয়া ও বিপণন কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন বলেন, দর্শকদের উপস্থিতি বেশ ভালো। মুক্তির আগে থেকে এ ছবি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ ছিল। শুক্রবার ও শনিবার সন্ধ্যার শো সব শাখায় হাউজফুল গেছে। সোমবার সকালের শোতেও দর্শকদের উপস্থিতি ভালো। পলিটিক্যাল অডিয়ান্স আসছে। সিনেপ্লেক্সে ওভারঅল ভালো চলছে ‘মুজিব- একটি জাতির রূপকার’।
ভারতের বিখ্যাত নির্মাতা শ্যাম বেনেগালের পরিচালনায় এতে শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভ। অন্যান্য চরিত্রে আরও অভিনয় আছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা, তৌকির আহমেদ, নুসরাত ফারিয়া, দীঘি, রিয়াজ, রাইসুল ইসলাম আসাদ, চঞ্চল চৌধুরী, সিয়াম, দিব্য, সাব্বির আহমেদ, ফলজুর রহমান বাবু প্রমুখ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিনেম্যাটিক বিশ্লেষণের চেয়ে বঙ্গবন্ধুর মতো মহান নেতার জীবনপ্রবাহ ও সংগ্রাম পর্দায় কতোটা উঠে এসেছে সেটাই এখানে মুখ্য বিষয়। শেখ মুজিবের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের অজানা অধ্যায়, তৎকালীন শাসন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট জানতে সিনেমাটি দেখা উচিত।
রাজধানীর যমুনা ব্লকবাস্টারে ‘মুজিব’ এভারেজ চলছে বলে জানালেন এর সহকারী মার্কেটিং ম্যানেজার মাহাবুবুর রহমান। তিনি জানান, সেখানে একটি ভিআইপি ও তিনটি নরমাল মিলিয়ে দৈনিক চারটি শো চলছে। বললেন, শুক্র-শনি দুদিন ‘মুজিব’ মোটামুটি ভালো গেছে। হাউজফুল না গেলেও এর কাছাকাছি ছিল। এটাকে আসলে এভারেজ বলা যায়। শুক্রবার ও শনিবার ৮০ পারসেন্ট দর্শক ছিল, ওয়ার্কিং ডে-তে দর্শক কমে গেছে।
সিনেপ্লেক্স-ব্লকবাস্টারের চেয়ে তুলনামূলক কম দর্শক দেখছে কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাসে। দৈনিক চারটি শো চললেও শনিবারের পর ২০ পারসেন্ট দর্শক পাচ্ছে প্রেক্ষাগৃহটি। লায়ন সিনেমাসের জিএম বায়জিদ শাওন বলেন, যেমনটা আশা করেছিলাম তেমন চলছে না। এই ছবিটি নিয়ে সাধারণ দর্শকদের মতো পলিটিক্যাল মানুষদের ইনফ্লুয়েন্স আশা করেছিলাম। প্রমোশনের মাধ্যমে দর্শকদের আকর্ষণ করবে, তেমন কোনো পরিকল্পনা দেখিনি। শুনেছি প্রমোশনের দায়িত্ব একটি মার্কেটিং এজেন্সিকে দেয়া হয়েছে, কিন্তু উল্লেখযোগ্য প্রচারণাই দেখতে পাইনি। তবে সময় এখনও ফুরিয়ে যায়নি।
ঢাকার মধুমিতা সিনেমা হলে রমরমা নয়, সিনেমাটি ‘মোটামুটি দর্শক দেখছে’। এর কর্ণধার ইফতেখার নওশাদ বলেন, ঈদের পর যে ছবিগুলো মুক্তি পেয়েছে সেগুলোর চেয়ে ভালো যাচ্ছে ‘মুজিব’। তবে হলে ফ্যামিলি অডিয়ান্স সেভাবে দেখছি না। রাজনৈতিক কর্মীদের উপস্থিতি বেশি। ডিসি সাহেব, পার্টি নেতারা আগাম শো তারা বুকড করে ফেলছেন। এটা ভালো খবর। আমি আমার দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে দ্বিতীয় সপ্তাহেও ‘মুজিব’ চালাবো।
শ্যামলী সিনেমা হলের ম্যানেজার মোহাম্মদ আহসান বলেন, কোনো শো তে দর্শক বেশি আবার কোনো শো দর্শক কম পাচ্ছি। তবে হাউজফুল যাচ্ছে না। ৩০ থেকে ৪০ পারসেন্ট দর্শক আসছে। যেহেতু দর্শক ওঠা নামা করছে তাই এটাকে এভারেজ বলা যায়। শেখ মুজিবের জীবনী জানতে অনেক নতুন দর্শক সিনেমা হলে আসছে। সবমিলিয়ে মোটামুটি ভালো যাচ্ছে বলা যায়।
বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্সের স্বত্বাধিকারী রোকনুজ্জামান ইউনূস বলেন, এখানে ভালো চলছে। মুজিব আদর্শের মানুষরা বেশি দেখবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু সাধারণ মানুষরাও দেখতে আসছেন। অনেকে ভালো লাগলে তাদের মা-বাবা কিংবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসে আবার দেখছেন। প্রত্যাশা অনুযায়ী বলা যায় গুড গোয়িং!
চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ সিনেমা হল সুগন্ধার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাহাদত হোসেন বলেন, প্রথম দুইদিন হাউজফুল গেছে। তারপর থেকে ওয়ার্কিং ডে হওয়ায় এভারেজ দর্শক। তাছাড়া ক্রিকেট ওয়ার্ল্ডকাপ চলছে। সেই হিসেবে মুজিব ছবি ভালো যাচ্ছে। আশা করছি সামনের দিনগুলোতে এই ছবি দেখতে দর্শকদের উপস্থিতি আরও বাড়বে। আমরা দ্বিতীয় সপ্তাহেও এই ছবি প্রদর্শন করবো।