মোহা: আসলাম আলী,স্টাফ রিপোর্টার : গ্রাম বাংলার হারানো ইসলামী ঐতিহ্য ফেরাতে বাঘায় ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠিান পরিবেশিত হয়েছে। জাগ্রত বাঘা এর উদ্যোগে ও সমাজ কল্যাণ পরিষদ বাঘা-রাজশাহী এর আয়োজন করেন।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫) রাত সাড়ে ৮ টা শাহ্দৌলা সরকারী কলেজ মাঠ প্র্রঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়।। জাগ্রত বাঘা ও ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদ, বাঘা- রাজশাহীর আয়োজনে সাইমুম শিল্পী গোষ্টি ঢাকা প্রত্যয় শিল্পী গোষ্ঠী রাজশাহী, বিকল্প ও স্থানীয় শিল্পী গোষ্ঠীর সম্ময়ে পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক এই অনুষ্ঠান ।
মনোমুগ্ধকর এ অনুষ্ঠিান দেখতে ভিড় করেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা নানা বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশুরা। এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে সব ধরনের অপসংস্কৃতি দূর হবে বলে মনে করেন দর্শকবৃন্দ, বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও দর্শকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে হামদ,নাত,জারীগান ইসলামি সংগীত,নাট্যসহ নানা ধরনের স্থানীয় পরিবেশনা। বিশেষ করে গ্রামীণ পর্যায়ে হারানো বিভিন্ন ইসলামী সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে শিশুদের নিয়ে ছুটে আসেন অভিভাবকরা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে বিভিন্ন সময় এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার বিকল্প নেই বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।
ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে এসে সামিরা বিনতে আসলাম এই প্রতিবেদককে বলেন,পরিবেশিত ইসলামী সাংস্কৃতিক এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তরুণদের মাঝে আমাদের হারিয়ে যাওয়া ইসলামী ঐতিহ্য প্রকাশ পাবে। বর্তমান সমাজে তারুণরা আধুনিকতার মাঝে অনেক বেশি জড়িয়ে গেছে। যার ফলে আমাদের মাঝ থেকে ইসলামী ঐতিহ্যবাহী সংগীত,হামদ,নাত ও ইসলামী সাস্কৃতি আমরা ভুলতে বসেছি। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ইসলামী ঐতিহ্যকে ভুলে না যেতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সাকলাইন মুস্তাক নামে আরেক দর্শক বলেন, ইসলামী নাট্য ও সাস্কৃতি আমাদের সমাজ থেকে প্রায় হারিয়ে গেছে। তারুণ্যের উৎসবের মাধ্যমে ইসলামী সংগীত, সাস্কৃতি ও নাটকের বিভিন্ন পরিবেশনা ইসলামী ঐতিহ্য ও ইসলামী সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। উপজেলা প্রত্যয় শিল্পী গোষ্ঠীর পরিচালক আবদুল মান্নাফ বলেন, ইসলামী সাস্কৃতির মধ্যে মানুষের প্রাণের স্পন্দন থাকলেও বর্তমানে আমরা এর চর্চা করছি না। সাধারণ মানুষের এমন অনুষ্ঠানগুলোর বেশি করে চর্চা করা উচিত। এক সময়ে বাঘায় ইসলামী সংস্কৃতির চর্চা ছিল। আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে, হামদ,নাত,ইসলামী গান,কাওয়ালী,ইসলামী নাটক।
বর্তমান সরকার আবার এ সব অনুষ্ঠানের সুয়োগ করে দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষ এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ গ্রহণ করছে। আমরা বিশ্বাস করি ইসলামী সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত থাকলে মোবাইল সংস্কৃতিসহ অপসংস্কৃতি বন্ধ হবে। বন্ধ হবে মানুষে মানুষে হানাহানি।
উপজেলা জামায়াতের সহ-সভাপ্রতি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছিল। তা ফিরিয়ে আনতেই জাগ্রত বাঘা ও ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদ এর উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বাঘা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জিন্নাত আলী বলেন, বিগত সময়ে এ ধরনের অনুষ্ঠান আমি দেখেছি। বর্তমানে উপজেলা ইসলামী সংগঠনের আয়োজনে এ ধরনের অনুষ্ঠান দেখতে পাচ্ছি। এধরণের ইসলামী অনুষ্ঠান আমাদের নতুন প্রজম্মকে অনুপ্রেরনা দিবে।