অনলাইন ডেস্কঃ দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় আবারও বামদের দুষলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তিনি সরাসরি তিনি দায়ী করলেন সিপিএমকে।
সোমবার (২১ আগস্ট) একটি সভায় মমতা বলেন, আগে যাদবপুর নিয়ে আমরা গর্ববোধ করতাম। অথচ সিপিএমের ইউনিয়ন একটা ছেলেকে মেরে ফেলল। তিনি বলেন, এরা জীবনে বদলাবে না। বছরের পর বছর রক্ত নিয়ে খেলেও এদের শান্তি নেই।
গত ৯ আগস্ট যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে মৃত্যু হয় প্রথমবর্ষের এক ছাত্রের। ঘটনার নেপথ্যে র্যাগিংয়ের কথা উঠে আসে। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। যাদবপুরকাণ্ড নিয়ে এখনো উত্তাল ওই রাজ্যের রাজনীতি। বিরোধীরা যখন এ ঘটনার দায় তৃণমূল সরকার এবং প্রশাসনের দিকে চাপাচ্ছে, তখন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী দায়ী করলেন সিপিএমকে।
এর আগেও যাদবপুরকাণ্ড নিয়ে বলতে গিয়ে মমতার মন্তব্য ছিল, যাদবপুরের ছেলেটিকে অত্যাচার করতে করতে মেরেছে। ওর বাবার সঙ্গে আমি ফোনে কথা বলেছি। ওর বাবা বলেছেন, বিচার চান। ওর বাবা ফোনে বলেছেন ও (মৃত শিক্ষার্থী) খুব কাঁদত। বলত, খুব অত্যাচার হচ্ছে। আমি যাব ঠিক করেছিলাম।
তারপরই মমতা বলেন, ওটা আতঙ্কপুর হয়ে গেছে। আমি এতে মর্মাহত এবং দুঃখিত। আমি যাদবপুরে যেতে চাই না। কারণ, ওখানে পড়াশোনা ভালো হতে পারে। শুধু পড়াশোনায় ভালো হলে মানুষ হয় না। যদি বিবেক না থাকে।
তিনি বলেন, ছেলেটি একটি মাদুলি পরেছিল। ওটাও খোলানো হয়েছে। মানে ওদের জমিদারি। সেখানে পুলিশ ঢুকতে দেয় না। সিসিটিভি লাগাতে দেয় না। র্যাগিং হয় ছেলেমেয়েদের ওপর।
সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ‘অল ইন্ডিয়া ইমাম মোয়াজ্জেম স্যোশাল ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের’ উদ্যোগে ইমাম সংগঠনগুলোকে একত্রিত করে একটি সমাবেশ করা হয়। সেখানে ইমাম, মোয়াজ্জেম এবং পুরোহিতদের ৫০০ টাকা অতিরিক্ত ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দেন মমতা।
সংখ্যালঘু উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংখ্যালঘু স্কলারশিপে বাংলা এক নম্বর। গত ১২ বছরে তিন কোটি ৬৩ লাখ সংখ্যালঘু স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে।