অনলাইন ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ানদের কেউ এতটা আশা করেনি। বরং হতাশায় তাঁদের কাঁধ ঝুলে পড়া দেখে অবাকই লাগছিল। কিন্তু ডেভিড ওয়ার্নারের দুর্দান্ত একটি ক্যাচের পর ভোজবাজির মতো বদলে যায় দৃশ্যপট। বিনা উইকেটে ১২৫ রান থেকে ২০৯ রানে শেষ শ্রীলঙ্কা! গল্পের বাকিটা অনুমেয়।
মিচেল মার্শ ও জস ইংলিশের ফিফটির পর গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও মার্কাস স্টয়নিসের ব্যাটে ৫ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।
অস্ট্রেলিয়া পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন, লঙ্কানরা কাপ জিতেছে একবারই। তবু দুই দলই নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ হেরেছে। এই হতাশার মাঝেও লঙ্কানদের স্বস্তির জায়গা ছিল দলটির ব্যাটিং।
গতকাল টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে সেই ধারাবাহিকতা অনেকটা সময় বজায়ও রেখেছিল তারা। দুই ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা ও কুশল পেরেরা অনায়াসে রান তুলছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সাধারণ মানে নামিয়ে। রান আর বলের প্রায় সমানুপাতে তাঁদের শতরানের জুটি দেখে মনে হচ্ছিল টানা তৃতীয় ম্যাচে তিনশোর্ধ্ব ইনিংস গড়তে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। অস্ট্রেলীয়দের শরীরী ভাষাতেও সেই শঙ্কা ফুটে উঠেছিল।
এবারের বিশ্বকাপে এখনো দুই শ পার হতে না পারা অজিদের শঙ্কিত হওয়ারই কথা।
ঠিক তখনই ধীরগতির উইকেটে শর্ট বলটা ছাড়েন প্যাট কামিন্স। কোনোভাবে যখন কাজ হচ্ছে না, তখন উইকেটের চরিত্রের সঙ্গে বেমানান ডেলিভারিতে যদি জুটি ভাঙা যায়। হয়েছেও ঠিক তা-ই। পাথুম নিশাঙ্কা পুল করেন ছক্কার আশায়।
কিন্তু সেটি ডিপ স্কয়ার লেগ থেকে অনেকটা দৌড়ে দারুণ এক ক্যাচ নেন ডেভিড ওয়ার্নার। ১২৫ রানের বিনিময়ে প্রতিপক্ষের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার স্বস্তি যে দ্রুতই উৎসবে পরিণত হবে, তা সম্ভবত অজিরাও ভাবেনি। হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং অর্ডার। নিশাঙ্কার পর আরেক হাফসেঞ্চুরিয়ান পেরেরাও ফেরেন কামিন্সের শিকার হয়ে।
অধিনায়ক প্রতিপক্ষের শক্ত ভিত নড়বড়ে করে দেওয়ার পর অ্যাডাম জাম্পা লুটপাট চালান লঙ্কা রাজ্যে। এক, দুই করে চার উইকেট নিয়ে এই অজি লেগ স্পিনার ধসিয়ে দেন শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং মেরুদণ্ড। শুরুতে ৩০০ ওয়াটের আলো জ্বালানো লঙ্কানরা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে তোলে ২০৯ রান।
এ নিয়ে বড়জোর চোখ রাঙানো যায়। এক ওভারে ওয়ার্নার ও স্টিভ স্মিথকে ফিরিয়ে সেটুকুই করতে পেরেছে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু ওপেনার মিচেল মার্শের পর মার্নাস লাবুশানে ও জস ইংলিশের জুটিতে ম্যাচের লাগাম ফেরত পেয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।