অনলাইন ডেস্ক: ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ের পরই সেমিফাইনালের আশাটা শেষ হয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানের। তবে বাবর আজমের দলের সামনে সুযোগ ছিল জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করার। কিন্তু সেটাও পারলো না বাবর-রিজওয়ানরা। ইংলিশদের দেয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বড় ব্যবধানে হেরেছে পাকিস্তান দল।
শনিবার (১১ নভেম্বর) বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৯৩ রানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের দেয়া ৩৩৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ২৪৪ রানে অলআউট হয়েছে পাকিস্তান।
এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের ৭ নম্বরে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। সেই সঙ্গে নিশ্চিত করেছে ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দলের অবস্থানও। অন্যদিকে, বড় ব্যবধানে হারলেও পাঁচ নম্বরে থেকে বিশ্ব আসরের মিশন শেষ করেছে পাকিস্তান।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ঠিক যেমন শুরু দরকার ছিল, তেমনটা পায়নি পাকিস্তান। রানের খাতা খোলার আগেই আব্দুল্লাহ শফিক ফিরে গিয়েছেন। ভরসার প্রতীক ছিলেন ফখর জামান। আগের দিন অসম্ভব লক্ষ্য তাড়ায় এই ব্যাটারের উপরেই নির্ভর করতে হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন বাবর আজম। হতাশ করেছেন তিনিও। ৯ বলে ১ রান করে উইলির দ্বিতীয় শিকার হন ফখর।
তৃতীয় উইকেটে জুটি গড়েছিলেন পাকিস্তানের দুই বড় ভরসা বাবর আজম এবং মোহাম্মদ রিজওয়ান। কিন্তু এই জুটিও আশার আলো দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। তৃতীয় উইকেটে ৫১ রান তোলার পরেই দলীয় ৬১ রানে ফিরে যান বাবর। গাস অ্যাটকিনসনের বলে আদিল রশিদের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।
দলের রান যখন ঠিক ঠিক ১০০ তখনই মঈন আলীর বলে বোল্ড হন রিজওয়ান।এরপর সৌদ শাকিলের ২৯ রান পাকিস্তানকে দিয়েছে সাময়িক স্বস্তি দিলেও ইফতিখার আহমেদ, শাদাব খানদের ব্যর্থতায় হারটা নিশ্চিত হয়ে যায় পাকিস্তানের। পঞ্চাশ পেরোনো সালমান আঘা ডেভিড উইলির বলে ফিরলে পাকিস্তানের পরাজয় হয়ে যায় সময়ের ব্যাপার।
শেষেদিকে দুই বোলার হারিস রউফ আর ওয়াসিম জুনিয়র শুরু করেন নতুন এক ঝড়। ৩৩ বলেই ৫৩ রানের জুটি গড়ে ফেলেন এই দুই বোলার। তাতে অবশ্য খুব একটা ক্ষতি হয়নি ইংল্যান্ডের। বড় ব্যবধানেই জিতেছে তারা।
এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করে ইংল্যান্ড। ওপেনিং জুটি থেকে আসে ৮২ রান। ১৩.৩ ওভারে ইফতিখার আহমেদের বলে সাজঘরে ফেরেন ৩৯ বলে ৩১ রান করা ডেভিড মালান। এরপরে অবশ্য বেশিদূর যেতে পারেননি আরেক ওপেনার জনি বেয়ারস্টো। ১৮.২ ওভারে ৬১ বলে ৫৯ করে ইংলিশ এই ওপেনার আউট হন হারিস রউফের বলে।
১০৮ রানে ২ উইকেট হারানোর পরে শক্ত জুটি পায় ইংলিশরা। জো রুট এবং বেন স্টোকস মিলে ১৩১ বল থেকে ১৩২ রান করেন। তাতে দলীয় সংগ্রহ গিয়ে দাঁড়ায় ২৪০ রানে। ৪০.১ ওভারে ইংল্যান্ডের তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে। সে সময়ে ৭৬ বলে ৮৪ রান করা স্টোকসকে ফেরান শাহিন শাহ আফ্রিদি। এরপরে দলীয় সংগ্রহে ১৭ রান যোগ হওয়ার পরে আফ্রিদি রুটের উইকেটও তুলে নেন। রুট ৭২ বল থেকে ৬০ রান করে বিদায় নেন।
স্টোকস-রুটের পরে ইংল্যান্ড ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এগিয়ে গেছে। সে যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন হ্যারি ব্রুক (১৭ বলে ৩০ রান) ও অধিনায়ক জস বাটলার (১৮ বলে ২৭ রান)। তবে শেষদিকে দুজনেই আউট হন। এরপরে উইকেটে আসেন মঈন আলী ও ক্রিস ওকস। দলীয় ৩১৭ রানে হারিসের বলে মঈন (৬ বলে ৮ রান) বোল্ড হন। পরে ৫ বলে ১৫ রান করে বিদায় নেন ডেভিড উইলি। উইলিকে ফেরান মোহাম্মদ ওয়াসিম। পাকিস্তানি এই পেসার শেষদিকে কেবল উইলি নয়, গাস অ্যাটকিনসনের উইকেটও তুলে নেন। ইংলিশদের পক্ষে ইনিংস শেষ করেন ওকস (৪ বলে ৪ রান) ও আদিল রশিদ (১ বলে ০ রান)।
ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮৪ রান আসে বেন স্টোকসের ব্যাট থেকে। আর পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চে ৩ উইকেট তুলে নেন হারিস রউফ ও ২টি করে উইকেট নেন শাহিন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ওয়াসিম।