• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
  • নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  • somoyerkotha24news@gmail.com
  • +880-1727-202675

ট্রাক থেকে তোলা হচ্ছে অবৈধ টোল

প্রকাশ: শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৩ ১২:১৪

ট্রাক থেকে তোলা হচ্ছে অবৈধ টোল

স্টাফ রিপোর্টার: রাস্তায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে কোন পৌরসভা, সিটি করপোরেশন কিংবা উপজেলা পরিষদ যানবাহন থেকে টোল আদায় করতে পারবে না। ২০১৫ সালের ৩ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্টদের প্রতি এ নির্দেশনা জারি করে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। উচ্চ আদালতও একই নির্দেশনা দিয়েছেন। সবশেষ ২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রাণালয় আরেকদফা চিঠি দিয়ে সব মেয়রকে এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন।
কিন্তু এ নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বালুঘাটের রাস্তার টোল আদায়ের ইজারা দিয়েছে। ইজারাদার এখন ট্রাকপ্রতি ৩০০ টাকা করে তুলছেন। এছাড়া ট্রলি থেকে তোলা হচ্ছে ১০০ টাকা করে। ঘাটটি থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০০ ট্রাক বালু ওঠে। এছাড়া প্রায় শতাধিক ট্রলি বালু ওঠে। এসব ট্রাক ও ট্রলি থেকে প্রতিমাসে অন্তত অর্ধকোটি টাকা অবৈধভাবে আদায় করা হচ্ছে। টোল আদায়ের ইজারাদার বলছেন, তিনি বৈধভাবে ইজারা নিয়ে টোল আদায় করছেন। সরকারের নির্দেশনা না মানার দায় পৌর কর্তৃপক্ষের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাটাখালী পৌর এলাকায় থাকা শ্যামপুর বালুঘাটটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এবার ইজারা পেয়েছেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা জনি ইসলাম। পৌর এলাকার রাস্তা দিয়ে ঘাটের ট্রাক-ট্রলি যাতায়াত করে। এতে রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই রাস্তার সংষ্কারের কথা বলে পৌর কর্তৃপক্ষ টোল আদায়ের ইজারা দেয়। তবে বছরের পর বছর ওই রাস্তার কোন সংষ্কার হয় না। ইজারার টোলের টাকা তছরুপ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আর এ জন্যই সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে পৌর কর্তৃপক্ষ টোল আদায়ের ইজারা দেয়।
এবার টোল আদায়কারী হিসেবে ইজারা পেয়েছে সাইফ ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এর মালিক শাহিনুর রহমান সিহাব। তার সঙ্গে নজরুল ইসলাম নামের আরেক ব্যবসায়ী রয়েছেন। পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার প্রায় ১ কোটি ৪৬ লাখ টাকায় রাস্তার টোল আদায়ের ইজারা দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত আছে ইজারাদার ট্রাকপ্রতি সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা আদায় করতে পারবেন। তবে সরেজমিনে গিয়ে এর চেয়েও বেশি টাকা আদায় করতে দেখা গেছে।
সম্প্রতি ঘাটের বিকল্প রাস্তা হিসেবে সিটি করপোরেশনের একটি রাস্তা দিয়েও চলাচল শুরু করেছিল ট্রাকগুলো। এই রাস্তা ব্যবহারের জন্যও ট্রাক থেকে ১০০ টাকা করে তুলতে শুরু করেছিলেন ঘাট ইজারাদার জনি ইসলাম। এ টাকা অবশ্য সিটি করপোরেশনকে দেওয়া হতো না। সিটি করপোরেশন তাদের রাস্তা ব্যবহারের অনুমতিও দেয়নি। তারপরও টাকা তোলার বিষয়টি জানতে পেরে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে রাস্তাটিতে প্রতিবন্ধক দেওয়া হয়েছে। এখন ওই রাস্তা দিয়ে ট্রাক চলাচল করতে পারে না। তাই এই ১০০ টাকা তোলা বন্ধ হয়েছে। তবে পৌরসভার রাস্তার জন্য ইজারাদার অবৈধভাবে টোল তুলে যাচ্ছেন। এছাড়া বালু ব্যবসায়ী সমিতির নামে ট্রাকগুলো থেকে আরও ১০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।
ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, মকবুল হোসেন ও আবদুর রহিম নামের দুজন বসে রাস্তা ব্যবহারের টোল আদায় করছেন। প্রতিটি ট্রাক থেকে নেওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা। আর ট্রলি থেকে নেওয়া হচ্ছে ১০০ টাকা। মকবুল হোসেন বলেন, শুরু থেকেই এই হারে টোল আদায় করা হচ্ছে। এ জন্য রশিদও দেওয়া হচ্ছে। মকবুল ও রহিমের পাশেই আরেকটি ঘরে বসে ট্রাকপ্রতি ১০০ টাকা করে আদায় করছিলেন শরিফুল ইসলাম। এ জন্য কোন রশিদও দিতে দেখা যায়নি।
পৌরসভার দেওয়ানপাড়া মহল্লার বাসিন্দা আবদুর রশিদ বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে বালুর ট্রাক চলাচলের কারণে আমরা চলতে পারি না। সারাবছরই রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী। কোন সংষ্কার করা হয় না। অথচ রাস্তা সংষ্কারের কথা বলে টোল আদায়ের ইজারা দেওয়া হয়। এই টাকা কোথায় যায় তা আমরা জানি না। শুনতে পাই সব টাকা লুটপাট হয়ে যায়।’
কোন আইনে রাস্তার টোল আদায়ের ইজারা দেওয়া হয়, এমন প্রশ্নে পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র আনোয়ার সাদাত নান্নু বলেন, ‘আইনের কথা আমি বলতে পারব না। আমি আইন জানি না। এটা আগে থেকেই হয়ে আসছে। তাই আমিও ইজারা দিয়েছি। টোল আদায়ের ইজারার সিডিউল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়েও দিয়েছিলাম। সবাই তো জানে। এখন পর্যন্ত কেউ তো নিষেধ করেনি।’ তিনি বলেন, ‘পৌরসভার তেমন রাজস্ব আয় নেই। আয় বাড়ানোর জন্য ইজারা দেওয়া হয়। এ টাকাই রাস্তা সংষ্কার করা হয়।’
রাস্তার টোল আদায়ের ইজারাদার শাহিনুর রহমান সিহাব বলেন, ‘পৌরসভার রাস্তার টোল আদায় করা যাবে কি না সেটা আমি বলতে পারব না। এটা পৌরসভাই ভাল বলতে পারবে। তারা ইজারা দিয়েছে, আমি নিয়েছি। আইন না মানলে পৌরসভা মানেনি।’ তিনি বলেন, ‘ইজারা নিতে হয়েছে বেশি টাকায়। তাই ট্রাকের জন্য ৩০০ এবং ট্রলির জন্য ১০০ টাকা করে আদায় করছি।’
রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশন টার্মিনাল ছাড়া অন্য কোথাও যানবাহন থেকে টোল আদায় করতে পারবে না। এটা সবাইকে বলে দেওয়া আছে। কাটাখালী পৌরসভা রাস্তার টোল আদায় করছে এটা আমার জানা ছিল না। আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

সর্বশেষ সংবাদ

যীশুর শেষ চিহ্নটুকুও মুছে ফেললেন নীলাঞ্জনা!
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫ ১:৫৬
গণতন্ত্রের বাধা হাসিনা ও দেশের ভেতরের একটি পক্ষ : ফখরুল
বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৫ ১:৫৬
 

রাজনীতি-এর আরও সংবাদ

গণতন্ত্রের বাধা হাসিনা ও দেশের ভেতরের একটি পক্ষ : ফখরুল
  • বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ১০:০৬
গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার নিশ্চয়তা এখনো পাইনি: মির্জা ফখরুল
  • বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ৬:০৭
গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
  • বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ৫:৩৯
 



সম্পাদক ও প্রকাশক : ইয়াকুব শিকদার

ঢাকা অফিস: ১২১,ডি.আই.টি, এক্সটেনশন রোড, ফকিরাপুল, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। রাজশাহী অফিস: বহরমপুর (সিটি বাইপাস), জিপিও-৬০০০, রাজপাড়া, রাজশাহী। ই-মেইল: somoyerkotha24news@gmail.com, মোবাইল: 01727202675