স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীতে অবরোধকারীদের নিক্ষেপ করা ককটেলে চোখ হারাতে বসেছেন এক ব্যক্তি। তার নাম আবুল বাসার (৩০)। তিনি রেলওয়ের একজন খালাসী। বাড়ি মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায়।
বুধবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর রেলগেট এলাকায় অটোরিকশা লক্ষ্য করে ককটেল হামলা চালানো হলে তিনি আহত হন। হামলায় বাসারের বাঁ চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রেলগেট এলাকায় অবরোধের সমর্থনে ২০-২৫ জনের যুবক মিছিল বের করে। মিছিলটি কিছু দূর গিয়েই শেষ হয়। এর পর পরই দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। একটি ককটেল গিয়ে পড়ে চলন্ত অটোরিকশায়।
এতে অটোরিকশাটির সামনের কাঁচ ভেঙে-চুরমার হয়ে যায়। আহত হন চালক আবদুল জলিল (৪৫) আব্দুল জলিল ও তার পাশে বসে থাকা যাত্রী আবুল বাসার। জলিলের পেটে গুরুত্বর জখম হয়েছে। আর বাঁ চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাসারের। বাসার রেলওয়ের খালাসী পদে চাকরি করেন।
ঘটনার পর আহত দুজনকে স্থানীয়রা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাসারের চোখের অস্ত্রোপচার চলে। অস্ত্রোপচার শেষে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফএম শামীম আহম্মদ জানান, বাসারের বাঁ চোখে ছোট ছোট কাঁচের টুকরা ঢুকে যায়। এতে চোখের আইবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিভিন্ন লেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অস্ত্রোপচার করে কাঁচ বের করার পাশাপাশি লেয়ার জোড়া লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে। রোগীর চোখ এখন বন্ধ। তাঁর এই চোখের দৃষ্টিশক্তি ফেরার সম্ভাবনা খুব কম।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার জানান, বাসার রেলওয়ের একজন খালাসী। হাসপাতালে রেলওয়ের লোকজন আছেন। তাঁর সর্বোচ্চ চিকিৎসার চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর আমি তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যাব।
বাসারের স্ত্রী শাহানাজ পারভীনের সামনেই ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি জানান, মেহেরপুরের গাংনী থেকে তারা ট্রেনে রাজশাহী আসেন। স্টেশনে নামার পর অটোরিকশায় চড়ে একটি বেসরকারী ক্লিনিকে যাচ্ছিলেন। তিনি অটোরিকশার পেছনে বসে ছিলেন। স্বামী বাসার ছিলেন সামনে। তিনি অন্যদিকে তাকিয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ শুনে সামনে তাকিয়ে দেখেন, তার স্বামী চোখে হাত দিয়ে পড়ে গেছেন। অটোরিকশার চালক জলিলেরও সারা শরীরে কাঁচ ঢুকে গেছে। পেটে মারাত্মক জখম হয়ে পুরো শরীর রক্তাক্ত হয়ে গেছে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা তিনজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এরা হলেন- রাজশাহী নগরীর লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া এলাকার টিটু (২৭), বিনোদপুর এলাকার মনিরুল (২৭) ও গোদাগাড়ীর শাহাদত (২৭)। পরে সন্ধ্যায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে আটক করে।
নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাওয়ার্দী জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আটক ছয়জনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। এ হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহীর আদালত চত্বরে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর আদালত চত্বরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হক জানান, আদালত চত্বরের সীমানা প্রাচীরের বাইরে থেকে দুর্বৃত্তরা পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে একটি ককটেল নিক্ষেপ করে। ককটেলটি পুলিশের গাড়ির পাশে বিস্ফোরিত হয়। এতে কোন পুলিশ সদস্য আহত না হলেও এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী কিছুটা আহত হন।
ওসি জানান, ককটেল হামলা চালিয়েই মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে গেছে। তাই কাউকে আটক করা যায়নি। অবরোধের সমর্থনে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হবে। দুর্বৃত্তদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।