স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শামসুজ্জোহা হলের নিজ কক্ষ ছাত্রের নিহত হওয়ার ঘটনায় মতিহার থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার রাতে মতিহার থানা পুলিশ মামলাটি দায়ের করেন।
এদিকে, রাতেই নিহত ফুয়াদ আল খতিবের লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। পরে পুলিশ লাশ তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে। রাতেই লাশ নিয়ে যাওয়া হয় খতিবের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর গ্রামে। সোমবার সকালে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে ফুয়াদের আকস্মিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তাঁর পরিবারের স্বজনেরা ও এলাকাবাসী। মৃত্যুর আসল কারণও জানতে চেয়েছেন তাঁরা। সোমবার সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর রাজিবপুর পারিবারিক গোরস্থানে ফুয়াদকে দাফন করা হয়। এর আগে, গতকাল রোববার দুপুর ৩টার দিকে তাঁর কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
জানাজা শেষে তাঁর বাবা মো. আমিনুল ইসলাম সাজু বলেন, ‘আমার ভবিষ্যৎ শেষ। পরিবারের তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সে ছিল মেধাবী। এ পরিবারের ভরসাস্থল ছিল সে। তার আকস্মিক এ মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আমার ছেলেকে আর ফিরে পাব না জানি। তবে কী কারণে মারা গেল, সেটি জানতে চাই।’
ফুয়াদের মা মোছা. ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য শুক্রবার বাড়ি এসেছিল। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে পরীক্ষা দিয়ে পরদিন শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে ফিরে যায়।’ হঠাৎ মৃত্যুর খবর শুনে আঁতকে ওঠে শরীর। এই বলেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন ফুয়াদের মা।
ফুয়াদের চাচা মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘ভাতিজার আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা অবাক ও শোকাহত। সম্পূর্ণ সুস্থ ছেলে গত শনিবার বাড়ি থেকে রাজশাহী গিয়েছে। পর দিন মৃত্যুর খবর এল। বিষয়টি রহস্যজনক মনে হচ্ছে।’ মৃত্যুর প্রকৃত কারণও জানতে চেয়েছেন তিনি।
ফুয়াদের কয়েকজন বন্ধু বলেন, ফুয়াদ অত্যন্ত ভদ্র, নরম ও শান্ত স্বভাবের ছিলেন। তার মধ্যে কখনো কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা যায়নি। সে আত্মহত্যা করার মতো ছেলেও না।
উল্লেখ্য, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফুয়াদ গ্রামের বাড়ি যান। গত শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে তিনি তাঁর কক্ষে প্রবেশ করেন। গতকাল রোববার দুপুর ৩টা পর্যন্ত তাঁর সহপাঠীরা তাঁকে মোবাইল ফোনে না পেয়ে তাঁর কক্ষে আসেন। তাঁরা বিছানায় তাঁকে অচেতন অবস্থায় পড়ে দেখতে পান। পরে হল প্রশাসনের সহায়তায় অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।