স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বারবার আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ইতিমধ্যে চারবার শোকজ নোটিশ পেয়েছেন। প্রতিবার জবাব দিয়ে ক্ষমাও চেয়েছেন। কিন্তু ক্ষমা চাওয়ার পরও তার বেপরোয়া আচরণের পরিবর্তন হয়নি।
সোমবার বিকেলে আবুল কালাম আজাদের একটি ভিডিওক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে তিনি বলেন ‘আমার সঙ্গে যারা ভালো ব্যবহার করবে তাদের কাছে আমি ফেরেস্তা। যারা খারাপ করবে, তারা পৃথিবী থেকে নাই হয়ে যাবে। একটা কথা বললাম। ওই আজাহার-মাজাহার এলাকায়ই থাকবে না।’
গত রোববার বাগমারার তাহেরপুর পৌরসভার জামগ্রাম এলাকায় আবুল কালামের বাড়িতে তার সাথে দেখা করতে যান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এসময় তিনি সোনাডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়োমী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ আজহারুল হক ও তার ভাই মাজহারুল হকের উদ্দেশে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ করতে হলে নৌকাতে ভোট দিতে হবে। নৌকার বিরোধিতা করে ওই এলাকায় থাকতে পারবে না। কারণ সে আওয়ামী লীগ করে। আওয়ামী লীগের ছেলেপেলের সঙ্গে থাকতে হবে, নৌকার ভোট করতে হবে। নৌকার বাইরে কোনো মাস্তানি চলবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘এনামুলের মতো লোককে ভুলি দিয়ে আমি নৌকা নিয়ে এসেছি। তার মানে বুঝতে হবে আমার কিছু কারিশমা আছে। নৌকার বাইরে কথা বললে আজাহারের চেহারা চেঞ্জ হয়ে যাবে।’
হুমকির বিষয়ে রাজশাহী-৪ আসনের নৌকার প্রার্থী অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি নিজের জান-মাল দলের জন্য কোরবানি করেছি। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় র্যাব আমার দুই পায়ে চারটি গুলি করেছিল। এজন্য আমি অনেকটা পঙ্গু, খুঁড়িয়ে হাঁটি। আমি খুঁড়িয়ে হাঁটা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘ওই খোঁড়া আমার এলাকায় আসতে পারবে না। এটা একজন মানুষের বক্তব্য হতে পারে না। আমি তো জন্ম থেকে খোঁড়া নই। দলের জন্য আমার এমন অবস্থা হয়েছে। এ নিয়ে তার এভাবে অবজ্ঞা করার তো কিছু নেই। যারা আওয়ামী লীগ করে তাদের তো নৌকার পক্ষেই কাজ করা উচিত।’
নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের এমন বক্তব্যের ব্যাপারে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের তিন বারের সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হক বলেন, হুমকি-ধমকি দিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারবে না। যাকে হুমকি দিয়েছেন ইতিমধ্যেই তিনি নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়েছেন। আশা করছি, নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি বিষয়টি দেখবে।’
আবুল কালাম আজাদের এই ভিডিওক্লিপ ছড়িয়ে পড়ার পর তার প্রার্থীতা বাতিলের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আবেদন করেছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। এনামুল হকের অনুসারী পারভেজ হোসেন সোমবার কালামের বিরুদ্ধে বাগমারা থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছেন।