স্টাফ রিপোর্টার: ভোটের প্রচার-প্রচারণা শুরুর পর থেকেই একের পর এক হুংকার দিয়ে যাচ্ছেন রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আও এ আসনের বর্তমান এমপি এনামুল হককে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজও করেছেন। এর ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এনামুল হকের প্রচার মিছিলে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। আতঙ্ক দেখা দিয়েছে সাধারণ ভোটারদের মাঝে। এমন পরিস্থিতিতে নৌকার প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এনামুল হক। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাগমারা উপজেলার দক্ষিণ জামালপুর বাজারে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
এনামুল হক বলেন, ভোটের শুরু থেকেই নৌকার প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ হুমকি ধমকি দিচ্ছেন। আমাদের এলাকায় ঢুকতে দিবেন না, চেহারা পরিবর্তন করে দিবেন- এসব বলে বেড়াচ্ছেন। এর প্রতিফলনও পাওয়া যাচ্ছে। তার সমর্থকরা আমাদের উপরে হামলা করছে। আমার কর্মীদের আহত করা হচ্ছে। আমরাও একের পর এক অভিযোগ করছি। কিন্তু সুফল পাচ্ছি না। তাই এখন তার প্রার্থিতা বাতিল করা জরুরি হয়ে পড়েছে। যতদূর শুনেছি রাজশাহী থেকে তার ব্যাপারে এ ধরনের সুপারিশ পাঠানো হচ্ছে।
এনামুল হক বলেন, আমি এলাকায় ১৫ বছর ধরে এমপি। আমার সম্পর্কে মানুষের ধারণা আছে। আমি ভালো হলে ভোট দেবে, না হলে দেবে না। আমরা তো হাঙ্গামা করছি না। তিনি কেন এত উগ্র হয়ে পড়েছেন? আমরা চাই জনগণ ভোট দেওয়ার সুযোগ পাক। জনগণ যাকে ভোট দেবে সে নির্বাচিত হবে। এখানে জনগণের উপরে অন্য কোন কথা থাকতে পারে না। পর পর তিনবার নৌকায় চড়ে এমপি হওয়া এনামুল হক এ আসনে এবার কাঁচি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা নিয়ে লড়ছেন তাহেরপুর পৌরসভার সদ্য সাবেক মেয়র আবুল কালাম আজাদ।
তিনি মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাগমারা। এমন পরিস্থিতিতে দুই প্রার্থীর সঙ্গেই একজন করে গানম্যান রাখা হয়েছে। তারপরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি।আবুল কালাম আজাদের বক্তব্যের এক ভিডিওতে দেখা গেছে, তিনি এমপি গালিগালাজ করছেন। তিনি বলেন, ’আমি পুলিশকে বলেছি এই জায়গায় আমার একটা লোককে ধরতে এলে হাড্ডি ভেঙ্গে দিব। আমি তাহেরপুরের রাজা। আমিই সরকার।’ আবুল কালাম আজাদও বিভিন্ন সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তার কর্মীদের মারধর করা হয়েছে, কিছু নির্বাচনী কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে- এমন অভিযোগ তার।