অনলাইন ডেস্ক : পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন বলেছেন, পুলিশের প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার সীমিত করার প্রস্তাব দেওয়া হবে। এই অস্ত্রের ব্যবহারের নীতির ক্ষেত্রে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মডেল অনুসরণ করা হবে। তিনি বলেন, পুলিশ যাতে কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের প্রতিপক্ষ না হয়। পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে যে, যাতে প্রাণহানিকর অস্ত্র তাদের ব্যবহার করতে না হয়।
রোববার (১৫ ডিসেম্বর) বিগত ১৫ বছরে পুলিশি নির্যাতনে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও তাদের পরিবার (নির্যাতিত ও গুমের শিকার) এবং জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান এসব কথা বলেন।
আ.স.ম জামশেদ খোন্দকারের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পুলিশ সংস্কার কমিশনের সঙ্গে বিগত ১৫ বছরে পুলিশি নির্যাতনে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও তাদের পরিবার (নির্যাতিত ও গুমের শিকার) এবং জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মতবিনিময় সভা হয়। রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান সফর রাজ হোসেন ও কমিশনের সদস্য আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ ইকবাল, মোহাম্মদ হারুন চৌধুরী, মো. রফিকুল হাসান, মো. গোলাম রসুল, শাহনাজ হুদা, এ এস এম নাসিরউদ্দিন এলান মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন। মতবিনিময় সভাটি সঞ্চালনা করেন কমিশনের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও সদস্য মো. জারিফ রহমান।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন— গুমের বিরুদ্ধে সংগঠন ‘মায়ের ডাক’র সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি, শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া, শহীদ মিরাজের বাবা মো. আব্দুস সালাম, শহীদ আনাসের পরিবার থেকে তার মা সানজিদা খান ও তার নানা মো. সাইদুর রহমান খান। এছাড়াও গত ১৫ বছরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্বারা গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার ও পুলিশি নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে সভায় উপস্থিত ছিলেন মিশু আক্তার, আয়েশা আলী, মিসেস রিনা আলম, ঝুমুর, শেখ আব্দুল গফুর, আশরাফুল ইসলাম, সৈয়দা শাম্মি সুলতানা, রব মিয়া।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা তাদের অভিজ্ঞতাসহ পুলিশ সংস্কার কমিশনের কাছে তাদের পুলিশি বিষয়ে সংস্কার চিন্তা তুলে ধরেন। সভায় কমিশনের কাজের অগ্রগতি গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সবাই অবহিত করা হয়।
ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও কর্মশালার মাধ্যমে একটি যুগোপযোগী সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পুলিশ সংস্কার কমিশন এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় পুলিশ সংস্কার কমিশনের সদস্য সচিব আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা পুলিশকে জনগণের বন্ধু হিসেবে দেখতে চাই। এজন্য এ বাহিনীকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে।
অপরদিকে, অস্ত্র হাতে পুলিশের নৃশংসতার প্রমাণ স্বজন হারাদের কথায় পাওয়া যায়। কারও সন্তান ছাত্র-জনতার আন্দোলনে প্রাণ হারিয়েছে। আবার ভিন্ন রাজনৈতিক আর্দশের কারণে গত ১০ বছর ধরে কারও খোঁজ নেই। পুলিশের হাতে নির্যাতিত পরিবারের সদস্যরা তাদের অসহায়ত্ব তুলে ধরেন।-ইত্তেফাক