স্টাফ রিপোর্টার : চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর, মহানন্দা ব্রীজ কিংবা দেশের সর্ববৃহৎ রাবার ড্যাম সহ দর্শনীয় এলাকায় ঘুরতে ঘুরতে হাঁপিয়ে উঠলে একটু তো জিরোতে মন চায়। আর এ সময় যদি হাতের কাছেই মিলে যায় দুদণ্ড বিরতির স্থান, তাহলে কী শান্তি! আর এমন ভাবনা থেকেই এক ঝাঁক তরুণ চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার বারঘরিয়া দৃষ্টিনন্দন পার্ক ও মহানন্দা ব্রীজ সংলগ্ন নদীর তীরে গড়ে তুলছেন ‘পার্ক ভিউ রেস্টুরেন্ট’।
‘পার্ক ভিউ রেস্টুরেন্ট’ কে শুধু খাবারের দোকান বললে একটু ভুল হবে। ‘পার্ক ভিউ রেস্টুরেন্টে’ এ নিয়মিত যাঁরা খেতে যাবেন, তাঁরা এ জায়গার সঙ্গে শুধু পেট নয়, আত্মারও সর্ম্পক থাকবে, মনের খোরাক যোগাবে। আর তাই যাঁরা নিয়মিত যাবেন, তাঁরাই অনুভব করতে পারবেন, এ জায়গার অপরুপ সৌন্দর্য একটা মায়ার টান কাজ করবে।
নির্মাণাধীন ‘পার্ক ভিউ রেস্টুরেন্ট’ এর পাশেই প্রধান পরিচালক আব্দুর রাকিবের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তিনি জানান, মহানন্দা নদীর তীরে মাস খানেক আগে “মহানন্দা ভাসমান রেস্টুরেন্ট” কার্যক্রম শুরু করে। দেখা যায় ভ্রমণ পিপাসুদের আগমনে সরগরম হয়ে উঠে আশেপাশের এলাকা। আর এটা থেকেই মনে হলো পাশেই আরও একটি ফাস্টফুড রেস্টুরেন্ট হলে মন্দ হয়না। একাধিক রেস্টুরেন্ট করলে দেখা যাবে মানুষের সমাগম আরও বাড়বে।
তাই এভাবনা থেকেই এখানে অনেকটা ভাসমান রেস্তোরাঁর আদলেই গড়ে তোলা হচ্ছে “পার্ক ভিউ রেস্টুরেন্ট”।
নদীর তীরে অনেকটা জায়গা জুড়ে চারিদিকে ছোট ছোট ঘরে বসে খাবারের আয়োজন। বাঁশ কেটে এই বসার আয়োজন করা হচ্ছে। রেস্তোরাঁর মাঝবরাবর ফাঁকা রেখে চারপাশজুড়ে দেওয়া হবে শণের ছাউনি। আমাদের দেশের আবহাওয়া বেশির ভাগ সময় যেহেতু গরম থাকে, তাই বসার জায়গার ওপরে পরিবেশ বান্ধব টিন ও ছাউনির ব্যবহার।
একইভাবে চারিদিকে ও উপরে প্রকৃতিবান্ধব রঙের প্রলেপ দেওয়া হবে, যাতে তাপ শোষণের ক্ষমতা বাড়ে। আর ভিতরে বসে চা-কফি কিংবা নাস্তা খেতে খেতে উপভোগ করা যাবে চারপাশের দিগন্ত জোড়া নদী ও সরিষা ক্ষেতের মনোরম দৃশ্য।
“পার্ক ভিউ রেস্টুরেন্ট” এর প্রতিটি কোণেই থাকবে পরিবেশবান্ধব জিনিসের ব্যবহার।
“পার্ক ভিউ রেস্টুরেন্ট’ খাবারের জায়গাতেও থাকবে দেশীয় সু-স্বাদু খাবারের সমাহার। আরও একটি বিষয়কে প্রাধান্য দিবে “পার্ক ভিউ রেস্টুরেন্ট” তা হলো পরিবেশবান্ধব উপকরণ। বিদেশী উপকরণের জায়গায় ব্যবহার করা হচ্ছে খড়, বাঁশ, বাঁশের চিক, কাপড়ের উপকরণ।
চিরচেনা গ্রামবাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্য থেকে এসেছে কাপড়ের এমন ব্যবহারের ভাবনা। ঘরের আদলের বসার স্থানের চারদিকে দেয়াল না রেখে বাঁশের চিক ব্যবহার করা হবে।
দেশীয় ঐতিহ্যগুলো যখন মানুষের চোখের সামনে হারিয়ে যেতে বসেছে, ঠিক সেসময় এভাবে ধরা দেবে, “পার্ক ভিউ রেস্টুরেন্ট”। তখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে বলে মনে করে “পার্ক ভিউ রেস্টুরেন্ট” কর্তৃপক্ষ।
দিনের আলো এখানে যেমন মনের প্রশান্তি আনবে, তেমনি রাতে ল্যাম্পশেডের আঁধারি আলো সৃষ্টি করবে মায়াবী এক আবহ। আলোর বিষয়টি যাতে বেশি আরোপিত মনে না হয়, সে জন্য সব জায়গায় এমন আলোকসজ্জা।
শুধু আলোকসজ্জাতেই নয়, কোনো জায়গাতেই অতিরিক্ত আরোপিত কিছু দেখতে পাওয়া যাবে না। কারণ, “পার্ক ভিউ রেস্টুরেন্ট” এ আলাদা কোনো আসবাব চোখে পড়বে না।
“পার্ক ভিউ রেস্টুরেন্ট” এ পরিবেশিত হবে ভেজ আইটেম বা নিরামিষ খাবার। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, এমন কোনো পদ এখানে রাখা হবে না। তাদের তালিকা থেকে অর্ডার করার পর চোখের সামনেই তৈরি করে দেওয়া হবে সেই খাবার। বাড়িতে যেমন ঘরের মানুষের রান্না আপনি নিশ্চিন্ত মনে খেয়ে থাকেন, এখানেও খাবারের সেই নিশ্চয়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
চতুর্দিকে খাওয়ার জায়গার পাশে মধ্যেখানে খোলা উঠান থাকবে, এমন ভাবনা তাদের অনেক দিন ধরেই ছিল। সেই স্বপ্ন এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। এই জায়গায় বাঁশের মোড়া আর টেবিল পেতে খাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হবে।
মজার ব্যাপার হলো মহানন্দা নদীর তীরে ঠান্ডা রাতের আলো-আধারিতে রেস্তোরাঁর রূপ হয়ে উঠবে আরও মোহনীয়।
প্রকৃতির সঙ্গে খাবারের জায়গার এমন মেলবন্ধন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরে আর কটি মেলে বলুন!