অনলাইন ডেস্ক : ২০২১ সালে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যোগ দিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। এরপর বেশ কয়েকবারই তার পুরোনো কাতালান ডেরায় ফেরার গুঞ্জন উঠেছিল। ২০২৩ সালে পিএসজির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রথম সেই আলোচনা শোনা যায়। এরপর এই বছরের নতুন মৌসুম শুরুর আগমুহূর্তে রব ওঠে– ইন্টার মায়ামি থেকে ধারে (লোন) বার্সায় ফিরবেন মেসি!
এই মুহূর্তে একই আলোচনা উঠেছে তৃতীয় দফায়। কিছুদিন আগে প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার ও সাংবাদিক অ্যালেক্স ক্যান্ডাল মেসির স্প্যানিশ ক্লাবে প্রত্যাবর্তন নিয়ে বড়সড় ঘোষণা দিয়ে বসেন। বোমা ফাটানোর মতো সেই মন্তব্যে তিনি জানিয়েছিলেন, মেসি তার কাছে বার্সায় ফিরে নতুন ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আরও বিশেষভাবে বললে ক্যান্ডালের দাবিটি ছিল এরকম– ‘ক্যাম্প ন্যুতে ফের না খেলা ছাড়া অবসর নেবেন না মেসি!’
অ্যালেক্স ক্যান্ডাল এর আগে মেসির বার্সেলোনা ছাড়ার সময় সংবাদ প্রথম ছড়িয়েছিলেন। এরপর থেকে তাকে বিশ্বাসযোগ্য এবং সংবাদের বড় উৎস হিসেবেই ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিতি দিয়েছিল। আবারও তার নতুন মন্তব্য আলোচনায় এসেছে এমন মুহূর্তে, যখন ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে মেসির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ইন্টার মায়ামির। এখন পর্যন্ত উভয়পক্ষ নতুন কোনো চুক্তির ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণাও দেয়নি বলে উল্লেখ করেছে সংবাদমাধ্যম বি-ইন স্পোর্টস।
তবে সাংবাদিক ক্যান্ডালের সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন মেসির প্রথম জীবনী লেখক গুইলেম বালাগ। ৩৭ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন তারকা বার্সায় ফেরা নিয়ে কতটা আগ্রহী সেটি কারও অজানা নয়, তবে বিষয়টি এখন আরও সহজ ধাঁধা নয়। বিশেষ করে তেমনই যুক্তি দেখিয়েছেন মেসির বায়োগ্রাফি লেখা বালাগ। মেসির প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে একটি বার্তা দিয়েছেন।
যেখানে গুইলেম বালাগ লিখেছেন, ‘এক্ষেত্রে কিছু বিষয় আছে। এই মৌসুমের শেষদিকে মেসির চুক্তির মেয়াদ ফুরোবে। মেসির বার্সায় ফেরার কোনো ইচ্ছা নেই, বিশেষত যখন (বার্সা সভাপতি) হুয়ান লাপোর্তা দায়িত্বে আছেন। এ ছাড়া ইন্টার মায়ামিও মেসিকে ক্লাবটিতে ধরে রাখতে যেকোনো মূল্যে রাজি করাতে প্রস্তুত।’
২০২১ সালে অর্থনৈতিক সংকটের জেরে চুক্তি নবায়ন করতে ব্যর্থ হলে নাটকীয়ভাবে ভেঙে যায় মেসি–বার্সার প্রায় দুই দশকের সম্পর্ক। এর পেছনে অবশ্য সভাপতি লাপোর্তাকেই অনেকেই বিশেষভাবে দায়ী করে থাকেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পরই বার্সা ও মেসির দীর্ঘ ২১ বছরের সম্পর্কে ভাঙন ধরে।