অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানসমূহের পণ্য রপ্তানি ও বাজার সম্প্রসারণ এবং দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে শারজাহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার শারজাহ চেম্বারে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ এবং শারজাহ চেম্বারের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ সুলতান আল ওয়াইস নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
এসময় ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে শারজাহ’র উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে দু’দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ যেমন সম্প্রসারিত হবে, একই সঙ্গে বাংলাদেশে অন্যান্য দেশ বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবে।
এছাড়া বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য শারজাহ’র উদ্যোক্তাদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব পাট পণ্যের বহুমুখীকরণে শারাজাহ’র উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে ইউএই ভিত্তিক একটি ব্যাংক বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তবে শারজাহ ইসলামী ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকের কার্যক্রম বাংলাদেশে আরও সম্প্রসারিত হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
এছাড়া তিনি বাংলাদেশের বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ইলেকট্রনিক্স ও হোম এ্যাপ্লায়েন্স, পাদুকা ও ফুড প্রসেসিং প্রভৃতি খাতে শারজাহ’র উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
পাশাপাশি বাংলাদেশের লজিস্টিক খাতের উন্নয়নে শারজাহ’র অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিনিময়ের আহ্বান জানিয়ে তাসকীন আহমেদ বলেন, দক্ষিণ এশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বাজারে ইউএই’র প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধিকল্পে বাংলাদেশ অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
শারজাহ চেম্বারের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ সুলতান আল ওয়াইস বলেন, বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশের উৎপাদিত তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য আমেরিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এই রপ্তানির হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা অত্যন্ত আশাব্যাঞ্জক। বিশেষকরে পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে এক্ষেত্রে ইউএই অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তিনি জানান, প্রায় ১ মিলিয়নের অধিক বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় ইউএইতে কর্মরত রয়েছে। বাংলাদেশিদের আরও অধিক হারে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য মানব সম্পদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শারজাহ চেম্বারের সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ঢাকা চেম্বারের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের বিটুবি ম্যাচ-মেকিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে দুদেশের উদ্যোক্তাদের নিজেদের মধ্যকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এতে ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজীব এইচ চৌধুরী, সহসভাপতি মো. সালিম সোলায়মানসহ ডিসিসিআই’র প্রতিনিধিদলের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।-বাসস