ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় এক বিএনপি নেতাকে চাঁদা না দেওয়ার জেরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় উভয় পক্ষের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় এক আওয়ামী লীগ সমর্থকের বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জনের আহত হওয়ার তথ্য মিলেছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামে দফায়–দফায় এই সংঘর্ষ হয়। এতে এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন মাঝারদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি হারুন মিয়ার ছেলে মিন্টু মিয়া এবং অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আফছার মাতুব্বরের সমর্থক বেলায়েত মোল্যা।
বেলায়েত মোল্যা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে গ্রামের বিএনপি নেতা মিন্টু মিয়া ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য টিটুল মিয়া আমিসহ আমাদের অনেকের কাছে চাঁদা চায়। আমাদের বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে বলে আসছে—এলাকায় থাকতে হলে টাকা দিয়ে থাকতে হবে। টাকা না দেওয়ায় কয়েক দিন আগে আমাকে মারধর করা হয়। এরপরও আমি চুপচাপ ছিলাম। কিন্তু ওরা পায়ে পাড়া দিয়ে ঝামেলা করতে আসে। কতক্ষণ ধৈর্য ধরে থাকা যায়।’
তবে বিএনপি নেতা মিন্টু মিয়া চাঁদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘রোজার ভেতর পার্শ্ববর্তী খলিশপুট্টি মাঠে ইউনিয়ন বিএনপির ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে গ্রাম থেকে লোকজন নিয়ে আমি যাওয়ায় আমার ওপর আফছার চেয়ারম্যানের দুই ছেলে নাজমুল ও স্বপন ক্ষিপ্ত হয়। আজকের ঘটনা ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হয়েছে। ওরাই নেতৃত্ব দিয়েছে।’
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পূর্ববিরোধের জেরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এ সময় একটি বাড়ি ভাঙচুরসহ কয়েকটি খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয়েছে। এখনো অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে আছি। কোনো পক্ষ অভিযোগ দেয়নি।’