অনলাইন ডেস্ক : হাওড়া, হুগলি, ব্যারাকপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, শিলিগুড়ি-সহ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের ২৯ জন আইপিএস পদমর্যাদার অফিসারকে শনিবার থেকেই বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার পর্যন্ত তাঁরা ওই দায়িত্বে থাকবেন।
রবিবার রামনবমী। সেই উপলক্ষে কলকাতায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার পুলিশকর্মীকে নিরাপত্তা দেখভালের দায়িত্বে রাখা হচ্ছে। আর ওই দিন সারা রাজ্যে ২৯ জন আইপিএস অফিসার বিশেষ দায়িত্বে থাকবেন। শহরের বুকে পুরনো এবং বড় মিছিলে ডিসি, যুগ্ম পুলিশ অধিকর্তা প্রমুখ পদমর্যাদার আধিকারিকেরা উপস্থিত থাকবেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তা ছাড়া ওসি, ডিসি, এসি, জয়েন্ট সিপি-সহ পুলিশের পদস্থ আধিকারিকদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। যে যে রাস্তায় মিছিল যাবে, সেখানে পুলিশ পিকেটিং থাকবে। ড্রোন, সিসিটিভি এবং ভিডিয়োগ্রাফির মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
বস্তুত, রামনবমী উপলক্ষে বিজেপির মিছিল যেমন রয়েছে, তেমনই বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন মিছিলের ডাক দিয়েছে। আবার রামনবমীতে পথে নামছে তৃণমূলও। শুধু কলকাতা নয়, আসানসোল, শিলিগুড়ির মতো হিন্দিভাষী মানুষদের বসবাস যেখানে বেশি, সেই এলাকাগুলিতেও মিছিল করবে রাজ্যের শাসকদল। জলপাইগুড়িতে আবার রামনবমীর শোভাযাত্রার আমন্ত্রণ জানিয়ে বাড়ি বাড়ি লিফলেট বিলি করছেন তৃণমূলের কাউন্সিলরেরা। আবার রামনবমীর মিছিলে শহরের রাজপথে অস্ত্র হাতে হাঁটলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা। যদিও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘সিস্টেম’ মেনে মিছিল করা যেতেই পারে। কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, ওই দিন তাদের কুইক রেসপন্স টিম তৈরি থাকবে। হেস্টিংস, এন্টালি, কাশীপুর-সহ যে পাঁচ-ছয়টি জায়গায় বড় মিছিল হয়, সেখানে পদস্থ আধিকারিকেরা থাকবেন। থাকছে বাইকে টহলদারির ব্যবস্থা। একই সঙ্গে মিছিলের সঙ্গে সঙ্গে থাকবেন পুলিশকর্মীরা। বস্তুত, রামনবমীর দিন কোনও রকম বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং অশান্তি রুখতে বদ্ধপরিকর কলকাতা পুলিশ। ওই নিয়ে শনিবারই বেলা ১২টা নাগাদ লালবাজারে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন পুলিশ কমিশনার বর্মা।
পুলিশের একটি সূত্রে খবর, গত বছর রামনবমীতে কমবেশি ৬০টি মিছিল হয়েছে কলকাতায়। এ বারও সংখ্যাটি তেমনই থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। আর হাওড়া, হুগলি, ব্যারাকপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, শিলিগুড়ি-সহ বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের ২৯ জন আইপিএস পদমর্যাদার অফিসারকে শনিবার থেকেই বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার পর্যন্ত তাঁরা ওই দায়িত্বে থাকবেন।
উল্লেখ্য, রামনবমীতে অস্ত্রমিছিল প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘‘পঞ্জাবিরাও কৃপাণ নেয়। আপনিও সিস্টেম অনুযায়ী নিশ্চয়ই করতে পারবেন।’’ পুলিশমন্ত্রী মমতার সংযোজন ছিল, ‘‘রামনবমীতে আমাদেরও অনেকে মিছিল করেন। আমার তাতে আপত্তি নেই। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ ভাবে হোক (মিছিল)।’’-আনন্দ বাজার