অনলাইন ডেস্ক : রাজধানীর শাহবাগে ফুলের দোকানে আগুনে ৫ জন দগ্ধ হয়েছেন। শনিবার (৫ মার্চ) রাত ১০টার দিকে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। দগ্ধদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বান ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন রিয়াজুল ইসলাম (৫৫), মো. শাওন (২৫), মো. ফয়েজ (৩০), মো. কালু মিয়া (৩৫) ও মো. শামীম (৪৫)।
এদিকে, ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক কাজী নাজমুজ্জামান সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করছেন।

দগ্ধ ব্যক্তিরা জানান, তাঁরা শাহবাগে ফুলের মার্কেটসংলগ্ন একটি টিনশেড ঘরে গ্যাস সিলিন্ডারের মাধ্যমে বেলুনে গ্যাস ভরে বিক্রি করেন। রাতে তাঁরা পাঁচজন সিলিন্ডার থেকে বেলুনে গ্যাস ভরছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে আগুন ধরে যায়। এতে তাঁরা দগ্ধ হন। পরে তাঁরা নিজেরাই রিকশাযোগে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চলে যান।
তবে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক কাজী নাজমুজ্জামান জানান, রাত ৯টা ৫৩ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে শাহবাগের ফুলের দোকানের আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট একসঙ্গে কাজ করেছে।
কাজী নাজমুজ্জামান বলেন, ‘আগুনে শাহবাগ মোড়ের চারটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেলুনের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আগুনে সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছি। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত টাকার তা জানা যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানমালিকদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।’ এ ছাড়া আগুনে কেউ হতাহত হননি বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শাহবাগ মোড়ে ফুলের দোকানে অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচ ইউনিটশাহবাগ মোড়ে ফুলের দোকানে অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচ ইউনিট
ঢাকা মেডিকেলের বার্ন অ্যান্ড সার্জারি ইউনিটের কর্তব্যরত চিকিৎসক আশিক জানান, শাহবাগ থেকে পাঁচজন দগ্ধ হয়ে বার্ন ইউনিটে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে রিয়াজুলের ১০ শতাংশ, শাওনের ১৬ শতাংশ, ফয়েজের ১৪ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাঁদের ভর্তি করা হয়েছে। কালু ও শামীমের শরীর সামান্য ঝলসে গেছে। তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান জানান, ফুলের মার্কেটে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে তিনটি ইউনিট অগ্নিনির্বাপণ কাজ শুরু করে। আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পরে আরও দুটি ইউনিট যোগ করা হয়। এই পাঁচটি ইউনিটের চেষ্টায় রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।