অনলাইন ডেস্ক : ক্রিকেট বিশ্বকে রীতিমতো চমকে দিলেন জোয়ানা চাইল্ড। আনকোরা এই ক্রিকেটারের নামের সঙ্গে ক্রিকেটপ্রেমীদের পরিচিতি না থাকারই কথা। তবে জোয়ানার নাম নয়, বরং বয়সটাই এখন আলোচনার খোরাক। নামের সঙ্গে চাইল্ড থাকলেও জোয়ানার বয়সটা আসলে ৬৪ বছর। এই বয়সে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে প্রথমবার মাঠে নেমে চমকে দিলেন সকলকে।
৬৪ বছর ১৮২ দিন বয়সে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়েছে জোয়ানার। পর্তুগালের নারী ক্রিকেট দলের হয়ে সম্প্রতি নরওয়ের বিপক্ষে খেলেছেন তিনি। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মিডিয়াম পেস বলও করেন।
অবাক করা বিষয় হচ্ছে, ৬৪ বছর বয়সে অভিষেক হওয়া জোয়ানা সব থেকে বেশি বয়সে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশ করার রেকর্ড গড়তে পারেননি। তালিকার দুইয়ে আছেন তিনি।
এখনও পর্যন্ত সব থেকে বেশি বয়সে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষেকের বিশ্বরেকর্ড রয়েছে জিব্রাল্টার উইকেটকিপার-ব্যাটার সেলি বার্টনের। গত বছর এস্তোনিয়ার বিরুদ্ধে জিব্রাল্টার মহিলা ক্রিকেট দলের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে সেলির অভিষেক হয় ৬৬ বছর ৩৩৪ দিন বয়সে।
গত ৭ এপ্রিল পর্তুগালের জার্সিতে প্রথমবার মাঠে নামেন জোয়ানা।অভিষেক ম্যাচে জোয়ানা পর্তুগালের হয়ে ১০ নম্বরে ব্যাট করতে নামেন। ৮ বলে ২ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। যদিও এই ম্যাচে তার হাতে বল তুলে দেয়নি দল। পর্তুগাল ম্যাচটা জেতে ১৬ রানের ব্যবধানে। পর্তুগালের ৯ উইকেটে ১০৯ রানের জবাবে নরওয়ের মহিলা ক্রিকেট দল অল-আউট হয়ে যায় ৯৩ রানে।
সিরিজের বাকি দুটি টি-২০ ম্যাচেও পর্তুগালের হয়ে মাঠে নামেন জোয়ানা। তিনি দ্বিতীয় ম্যাচে মাত্র ৪টি বল করেন। ১১ রান খরচ করেও কোনও উইকেট পাননি। দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাট করার সুযোগ হয়নি চাইল্ডের। পর্তুগাল দ্বিতীয় ম্যাচ হারে ৫ উইকেটে।
সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে জোয়ানা ব্যাটিং-বোলিং কোনোটিরই সুযোগ পাননি। তবে ৯ উইকেটে ম্যাচ জিতে পর্তুগাল ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করেছে। শুরুতে ব্যাট করে নরওয়ে ৭ উইকেটে ১২৪ রান তোলে। পর্তুগাল ১ উইকেটে ১২৭ রান তুলে ম্যাচ জিতে যায়।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, পর্তুগালের অধিনায়ক সারাহ ফো রিল্যান্ডের বয়সও চল্লিশ পেরিয়েছে। এ ছাড়া দলটিতে বয়সের দিক থেকে কারও আবার সবে ১৫ কিংবা ১৬। সব বয়সীদের নিয়েই যেন দল সাজিয়েছে পর্তুগাল।