×
  • প্রকাশিত : ২০২২-১২-০৩
  • ৯৮ বার পঠিত
স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া দেশে কোন নির্বাচন হবে না। বিএনপি এবার যে আন্দোলন শুরু করেছে তার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে। শনিবার বিকালে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এবার আন্দোলন শুরু করেছি। পরিষ্কার কথা- এবার হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে। এবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে, নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। সেই তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। সমস্ত দল এতে অংশগ্রহণ করবে। একটা পার্লামেন্ট গঠন হবে। সে সরকার নতুন করে দেশের অর্থনীতিকে সজীব করে তুলবে।’

জ্বালানি তেল, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্দ্ধগতি এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের নির্যাতনের প্রতিবাদে দেশের সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে (হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ) এই গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এটি বিএনপির নবম গণসমাবেশ।

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ১৭৩ দিন হরতাল করেছে। ওই সময় গানপাউডার দিয়ে একটা বাসেই ১১ জনকে হত্যা করেছিল। তারপর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তত্বাবধায়ক সরকার দিলেন। এই তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পাঁচটা নির্বাচন হয়ে গেল। এরা ক্ষমতায় আসার পরে কী করল? ওই ব্যবস্থা পাল্টে দিল। কেন? তারা কিছুদিন পরে বুঝতে পারল দুর্নীতির কারণে, লুটপাটের কারণে জনগণ তাদের পছন্দ করছে না। তাই সেটা পাল্টে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের সুযোগ করল। আমরা তত্বাবধায়ক সরকার বিধান চাই। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। অন্যথা এই দেশে কোন নির্বাচন হবে না।’

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকার ভাবে, বিএনপিকে এতো পেটায়, এতো মামলা দেই, তারপরও বিএনপি উঠে আসে কোত্থেকে? বিএনপি মাটি ফুটে বেরিয়ে আসে। এটাই বিএনপি। এ জন্য ভয় পেয়েছে। ১০ তারিখেও ভয় পেয়েছে। আমরা বলেছি, পার্টি অফিসের সামনে সমাবেশটা করতে চাই। ওদের ঘুম নাই। ঘুম হারাম হয়ে গেছে। নিজের ওপর আস্থা নেই বলে ভয় পান। সারাক্ষণ এই গেল, এই গেল, এই বিএনপি এলো, বিএনপি এলো ভাবতে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নয়াপল্টনে অনেক সমাবেশ করেছি। লক্ষ লক্ষ মানুষ হয়েছে। ওইদিন তো কোন সমস্যা হয় নাই। আজকে হঠাৎ আপনাদের মাথায় সমস্যা আসছে কেন? কারণ, আপনারা জানেন অনেক খারাপ কাজ করেছেন। আপনারা ভেতরে ভেতরে দুর্বল হয়ে পড়েছেন।’

ফখরুল বলেন, ‘খবরের কাগজ খুললেই খুন, ধর্ষণ মারামারি, কাটাকাটি ছাড়া খবর নাই। আওয়ামী লীগের পাতি নেতাদের অত্যাচারে টেকা যায় না। বাড়ি দখল করে নেয়, দোকান দখল করে নেয়। আর কতকাল মানুষ এভাবে কষ্ট করবে? আজকে আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তাই আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। নইলে একাত্তরের স্বাধীনতা টিকবে না। সব ধ্বংস হয়ে যাবে।’

বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের আগে ‘গায়েবি’ মামলা নিয়েও কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সমাবেশের আগে মামলা, হয়রানি। কেন ভাই পুলিশ? আপনারা কি এই দেশের সন্তান না? অত্যাচার নির্যাতন চালাবেন না। এই দেশের সানুষ কোনদিন অন্যায় সহ্য করেনি। পরিষ্কার করে বলছি, আপনাদের সাথে আমাদের শত্রুতা নেই। আপনারা রাষ্ট্রের কর্মচারী, আমরা রাষ্ট্রের মালিক। আপনাদের উচিত ছিল, এই ঈদগাহ মাঠ যখন ভরে গেল তখন নিজে থেকে বিদ্যুৎ দেওয়া, পানি দেওয়া, সেবা করা। তা না করে কষ্ট দিয়েছেন। এত অমানুষ আপনারা? এখানে যারা বসে আছে বয়স্ক মানুষেরা, প্রত্যেকে আমরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছি। আপনারা দেশের সমস্ত মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এটা করবেন না। দেশের মানুষ অন্যায়কে ক্ষমা করবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্ট করেছি। ১৪-১৫ বছর ধরে নির্যাতিত হয়ে আসছি। আমাদের ভাই মারা গেছে, সন্তান মারা গেছে। অনেকে গুম হয়েছে। তাদের বাচ্চাগুলো জানে না তাদের বাবার কি অপরাধ। আমাদের ইলিয়াস আলী গুম হয়ে গেছে। তার মেয়েটা এখনও দরজার দিকে তাকিয়ে থাকে, যদি তার বাবা ফিরে আসে।’

বিএনপির এই আন্দোলন মানুষের অধিকারের জন্য উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘আমাদের এই আন্দোলন বিএনপির জন্য নয়। বেগম খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী বানানোর জন্য নয়। তারেক রহমানের জন্য আন্দোলন নয়। আমাদের মন্ত্রী হবার জন্যও নয়। এই আন্দোলন অধিকারকে ফিরে পাবার আন্দোলন। আমরা দুবার ভোট দিতে পারলাম না। ভোটের অধিকার ফিরে পেতে আন্দোলন করছি।’

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে পদ্মার ঠাণ্ডা বাতাস গায়ে হু হু করে লেগেছে। তারপরও আপনারা এখান থেকে এক বিন্দুও সরেননি। রাজশাহীর মাটি সংগ্রামের মাটি। খেয়ে না খেয়ে থেকেছেন। কীসের ভালোবাসায়, কীসের তাগিদে আপনারা তিন ধরে এখানে কাটালেন? একটিমাত্র কারণ, আপনারা মুক্তি চান। ভয়াবহ দানবের হাত থেকে আপনারা মুক্তি চান।’

এর আগে সকাল ৯টায় বিএনপির এই বিভাগীয় সমাবেশ শুরু হয়। এতে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার নেতাকর্মীরা যোগ দেন। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মাদ্রাসা মাঠ। এ সমাবেশের আগে ধর্মঘট থাকায় তিন দিন আগে থেকেই নেতাকর্মীরা এসে অবস্থান করছিলেন।

সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সেলিমা রহমান ও ইকবাল মাহমুদ টুকু। এছাড়াও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের অন্যতম উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, হাবিবুর রহমান হাবিব, এমএ মতিন, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আবদুল মান্নান তালুকদার, রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মহিলা দল সভাপতি আফরোজা আব্বাস প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী ঈসা।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
ক্যালেন্ডার...

Sun
Mon
Tue
Wed
Thu
Fri
Sat