স্টাফ রিপোর্টার : আগামী বছরের জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় সাত কোটি মানুষ এর সুবিধা পাবে। পাশাপাশি এ অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের পথ সুগম হবে।
রোববার পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া কাঞ্চন পার্ক এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে প্রস্তাবিত ব্যারেজ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আড়াই মাসের মাথায় এ ধরনের একটি বড় উদ্যোগ নিয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের কাজ চলাকালেই দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু করতে হবে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে এখন পর্যন্ত মোট ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৪ সালে প্রকল্পটির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজের কাজ শেষ হওয়ার আশা করা হয়েছিল। তাঁর মতে, এ ধরনের বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নির্বাচিত সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দেশের ও জনগণের স্বার্থে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে এর উজানে ১৬৫ কিলোমিটার নদী অংশে পানি সংরক্ষণ করা হবে। এতে পানির চাপ ও উচ্চতা বাড়বে। এ কারণে পাবনাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার শহররক্ষা বাঁধের উচ্চতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজন হবে। বিষয়গুলো প্রকল্পে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে ব্যারেজের ৭৮টি গেটই খোলা রাখা হবে। ফলে বন্যার আশঙ্কা তেমন থাকবে না বলে আশা করা হচ্ছে।
এ সময় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরেফা সুলতানা রুমা, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ, জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম এবং পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

