নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাদকের জমজমাট হাট

নভেম্বর ১৩, ২০২৩ ৪:৫১ 👁️ ৫৮৯ views
Link Copied!

ফয়সাল আজম অপু : চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরায় একাধিক স্পটে প্রকাশ্যে চলছে মাদক কারবার। মাদকের ১৩টি স্পটে প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি করছেন চিহ্নিত ব্যবসায়ীরা। সেখানে একটি দেশি মদের দোকানও রয়েছে। মদের দোকানে প্রতিদিনই দেখা যায় মাদকসেবিদের অবাধ বিচরণ।

স্থানীয়রা বলছেন, আমনুরায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি আছে। এই ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যকে ম্যানেজ করে ওই এলাকায় গড়ে উঠেছে একাধিক মাদক স্পট। এই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিবর্তন হয় কিন্তু মাদক কারবার বন্ধ হয় না। স্থানীয়দের দাবি, খোদ পুলিশের শেল্টারে এলাকায় মাদক কারবার চলছে।
এখানকার মাদক ব্যবসায়ীদের মূল শেল্টারদাতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. শরিফুল ইসলাম। তাকে ম্যানেজ করতে পারলেই মাদক ব্যবসায়ীদের আর কোনো সমস্যা নেই। তিনি কখনো সরাসরি কখনো সোর্সের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ নেন। কয়েক মাসের মধ্যেই মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠেছে এসআই শরিফুলের। মাদক কারবারিদের অভ্যান্তরীণ বিরোধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  যশোরের শার্শায় ৩৫ বিঘার মাছের ঘের নিয়ে বিরোধ : প্রাণভয়ে বাড়িছাড়া ব্যবসায়ী

সরেজমিন অনুসন্ধানে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি মনোয়ারা বেগম নামের এক নারীকে মাদক মামলায় করাগারে পাঠায় পুলিশ। তার বাড়ি থেকে হেরোইন উদ্ধার দেখিয়ে মামলা দেন। ওই মামলায় তার স্বামীকেও পলাতক আসামি করা হয়। তবে, ওই নারীর অভিযোগ প্রতিবেশী এক মাদক কারবারির সঙ্গে তাদের বিরোধ ছিল। এ কারণে পুলিশ নিজেই মাদক নিয়ে গিয়ে বাড়ি থেকে উদ্ধার দেখিয়েছে। মাদক কারবারি সঙ্গে সখ্যতার কারণে এসআই শরিফুল তাকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়েছে বলে দাবি করেন মনোয়ারা বেগম।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমনুরার বিভিন্ন স্পটে প্রকাশ্যেই চলছে মাদক ব্যবসা। আমনুরার টংপাড়া, সাইফুদ্দিন পাড়া, দরগাপাড়া, কলোনীপাড়া, মিশন, বালিকাপাড়া ও রেল বাজার এলাকায় মাদকের ১৩টি স্পট রয়েছে। এসব স্পটে প্রকাশ্যেই চলছে মাদক বিক্রি।

আরও পড়ুনঃ  ধর্ষণের ১৫ মিনিটের মধ্যেই হত্যা করা হয় শিশু কলিকে

অনুসন্ধানে জানা যায়, সন্ধ্যা নামলেই মাদকাসক্তদের আনাগোনা বেড়ে যায় আমনুরার মাদক স্পটগুলোতে। এখানে হাত বাড়ালেই মিলছে হরেকরকম মাদক। দেশিমদ, গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইন সব ধরনের মাদকদ্রব্য পাওয়া যায় এসব স্পটে। সাকিব নামে এক মাদক কারবারি টংপাড়ার একাধিক মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণ করছে। টংপাড়ার আরেক মাদক কারবারির নাম বেলাল। রেলগেট এলাকার দিলদার, আরিফ, রহিম ও নাঈম; দরগাপাড়ার তাজরিন, পিরান, রুবেল; বালিকাপাড়ার ইদদিল, বাদশা, গাজি, কালু ও সজিব, কলোনীপাড়ার পটলা মাদকের কারবার করেন। মিয়াপাড়ার কালু নামে এক সোর্স মাদকের স্পট থেকে টাকা সংগ্রহ করে এসআই শরিফুলের কাছে পৌঁছে দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৬ নভেম্বর দুপুরে লোকমান হোসেন পচু নামে এক মাদক কারবারিকে ১ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করে আমনুরা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই শরিফুল ইসলাম। এই পচু পুলিশের তালিকাভূক্ত মাদক কারবারি। পরে তার বাড়িতে তল্লাশি করে ৬ লিটার দেশি মদ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে জব্দ করা গাঁজা ও ৬ লিটার দেশি মদ গায়েব করে মাদক সেবনের মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। তার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে মাদক গায়েব করে সেবনের মামলা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ  মানিকছড়িতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: ছোটবোনকে বাঁচাতে গিয়ে কিশোরী আমেনার মৃত্যু

মাদক মামলায় পলাতক থাকা আব্দুল খালেক জানান, কয়েকদিন আগে এসআই শরিফুল টংপাড়ার লোকমান হোসেন পচুকে গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করে। তবে অজ্ঞাত কারণে তাকে উদ্ধার করা গাঁজা গায়েব করে সেবনের মামলা দিয়েছে। ব্যাপক মারধোর করে তার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছে। এছাড়াও এসআই শরিফুল আমানুরার ১৩টি মাদকের পয়েন্ট থেকে টাকা নেন। যারা চুক্তিতে টাকা দেন,তারা রীতিমতো পুলিশের শেল্টারে মাদক কারবার করছেন বলে জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইল আমনুরা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, আমি ফেয়ার থাকার চেষ্টা করি। কোন মাদক স্পট থেকে আমি টাকা নেইনা। কিন্তু আমার নাম ভাঙিয়ে অনেকেই মাদক স্পট থেকে টাকা কাস্ট করে খেয়ে নিচ্ছে। এখানে অনেক পুরাতন লোক আছে-যারা আইসিকে টাকা দেয়া লাগবে বলে মাদক স্পট থেকে টাকা তুলছে। কিন্তু তাদের হাতেনাতে ধরতে পারছি না। অন্য মামলা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় সময় পাইনা।

শরিফুল ইসলাম আরও বলেন, আমার নামে অভিযোগ দেয়া হচ্ছে-আমি নাকি মাদক স্পট থেকে টাকা নেয়। এখানে আগে একজন অফিসার ছিল সে মাদক স্পট থেকে টাকা নিতো। তাকে ক্লোজ করা হয়েছে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।