অনলাইন ডেস্ক : ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তে চীনা বাহিনীর সঙ্গে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একাধিক নতুন মুখোমুখি অবস্থানের কথা স্বীকার করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ছয় বছর পূর্ণ হতে চললেও ভারত-চীন দীর্ঘস্থায়ী সীমান্ত সংকট এবং কূটনৈতিক বরফ গলানোর প্রচেষ্টার মধ্যে এটি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শক্তিশালী ভাবমূর্তির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সরকারিআদেশ দেখুন
গত সপ্তাহে ভারতের ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) মহাপরিচালক শত্রুজিৎ কাপুর এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জানান যে, অরুণাচল প্রদেশের দুর্গম আপার সুবানসিরি অঞ্চলে চীনা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সীমান্তরক্ষী ও কমান্ডোদের মুখোমুখি সংঘাত এখনো অব্যাহত রয়েছে। এর আগে চলতি বছরের আগস্ট মাসে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও বাসিন্দারা অভিযোগ করেছিলেন যে, চীনা সেনারা ভারতীয় ভূখণ্ডে ক্রমশ জবরদখল বাড়াচ্ছে এবং ভারতীয় সেনাদের নিয়মিত টহল পয়েন্টগুলোতে প্রবেশ করতে বাধা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত মাসে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দীর্ঘ সাত বছর পর ভারত সফর এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আংশিক প্রচেষ্টার মধ্যেই এসব সীমান্ত সংঘর্ষ সামনে এল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে এই দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী কাছাকাছি আসার চেষ্টা করলেও, ৩ হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ অবমূল্যায়নকৃত ও অচিহ্নিত সীমান্তরেখা এখনো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে রয়েছে।
২০২০ সালের জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনাদের মধ্যে ভয়াবহ হাতাহাতি সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন। চীনও তাদের চার সেনা মৃত্যুর কথা স্বীকার করে। এরপর থেকে স্যাটেলাইট চিত্র ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে বেইজিং অনেক বিতর্কিত অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিলেও মোদি সরকার জমি হারানোর কথা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।
আন্তর্জাতিক সংকটের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার টেবিলে বরফ গলার চেষ্টা চললেও মাঠপর্যায়ে এই ধরনের মুখোমুখি অবস্থান চীনের একটি নিয়মিত কৌশলগত চাপ প্রয়োগের অংশ হতে পারে। অচিহ্নিত সীমান্ত থাকার কারণে এই ধরনের উত্তেজনা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকার শঙ্কা রয়েছে, যা মোদি সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা নীতির সাফল্যকে বড় পরীক্ষার মুখে ফেলছে। সূত্র: আল জাজিরা।

