নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কমিউনিটি ডায়লগ

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১০:০৯ 👁️ ১২ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা এগারোটায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার চরজোতপ্রতাপ দূর্গামাতা ঠাকুরানী মন্দির প্রাঙ্গণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কমিউনিটি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বিজয়কে হাজারবার বিয়ে করতে রাজি রাশমিকা!

কমিউনিটি ডায়ালগ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. এ, কে, এম, শাহাব উদ্দীন। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সিভিল সার্জন বলেন, ডেঙ্গু রোগটি মূলত ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েক বছর আগে আমাদের দেশে সংক্রমিত হয়। পরবর্তীতে ঢাকা থেকে ট্রেন, বাস এবং যাতায়াতকারী মানুষের মাধ্যমে এই রোগ ও এডিস মশা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে।

বর্তমানে সদর উপজেলার চরবাাগডাঙ্গা, ভোলাহাট, নাচোল ও গোমস্তাপুরের দূরবর্তী ইউনিয়নগুলোতে ঢাকাফেরত ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছে। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে গত বছর প্রায় ২ হাজার ডেঙ্গু রোগী থাকলেও কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে চলতি বছরে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে এবং মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। বছরের শুরুতে সংক্রমণ কেবল মসজিদপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, বালুবাগান ও চাকলা এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে তা পুরো পৌর ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়েছে, যার মধ্যে আজাইপুর ও আরামবাগের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ।

তিনি আরও বলেন, আরামবাগ ও মুজিবপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গৃহস্থালির কাজের সুবিধার্থে পাত্রে বৃষ্টির পানি ও মহানন্দা নদীর পানি জমিয়ে রাখা হচ্ছে। এছাড়া পৌর এলাকায় নিয়মিত পানি সরবরাহের ঘাটতি থাকায় নাগরিকরা ড্রামে পানি জমিয়ে রাখছেন এবং পাত্রগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করেই পুনরায় পানি ঢালছেন। ঢাকনাবিহীন বা ছিদ্রযুক্ত ঢাকনা থাকা পাত্রে এডিস মশা ডিম পাড়ছে। এডিস মশার ডিম অত্যন্ত সহনশীল এবং তা শুকনো স্থানেও প্রায় এক বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। ফলে পাত্রের পানি ফেলে দিলেও পাত্রের গায়ে লেগে থাকা ডিম ধ্বংস করতে সাবান ও মাজনি দিয়ে তা ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার করা জরুরি বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহীতে হেরোইনসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ডেঙ্গুর জীবনাচরণ সম্পর্কে সিভিল সার্জন বলেন, ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ডিম থেকে এডিস মশা তৈরি হয়। পুরুষ এডিস মশা ঘরের বাইরে অবস্থান করে এবং ফুলের রস খেয়ে বেঁচে থাকে। অন্যদিকে স্ত্রী এডিস মশা ডিম পাড়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদাপ্রাপ্তিতে মানুষের রক্ত চোষে এবং ঘরের ভেতরে অন্ধকার ও স্যাঁতসেঁতে জায়গায় খাটের নিচে, আলমারির পেছনে, ঝুলন্ত কাপড়ের আড়ালে, সিঁড়িঘরে বা টেবিলের নিচে আশ্রয় নেয়। অনুকূল পরিবেশে এরা ঘরের ভেতর এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহী সিটি করপোরেশনের অ্যাসফল্ট প্লান্ট পরিদর্শন করলেন প্রশাসক

ডেঙ্গুজনিত অকাল মৃত্যু রোধ করতে এবং পৌরসভাকে ডেঙ্গুমুক্ত করতে প্রতিটি পরিবারের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি এসময় অভিমত ব্যক্ত করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা তথ্য অফিসার রূপ কুমার বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় পরিচালক স্বাস্থ্য কার্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ মো. আব্দুল বারী, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার মোসা. শামশুন নাহার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহকারী প্রকল্প পরিচালক সোমা রায় এবং চরজোতপ্রতাপ দূর্গামাতা ঠাকুরানী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক অজিত কুমার দাস। অনুষ্ঠানে নারী, পুরুষসহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনাসভা শেষে ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।

 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।