নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

তানোরে সারের কৃত্রিম সংকট, কৃষক দিশেহারা

ডিসেম্বর ২, ২০২৫ ৬:৩৮ 👁️ ৩২ views
Link Copied!

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোর উপজেলাজুড়ে নন-ইউরিয়া সার (এমওপি, টিএসপি ও ডিএপি) নিয়ে তুঘলকি পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। এতে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এ সংকট কি আসলেই ঘাটতির কারণে, নাকি সিন্ডিকেটের অপকৌশল?

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদক সেবীর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

কৃষকদের অভিযোগ, টিএসপি যেখানে সরকারি দামে ১৩৫০ টাকা, সেখানে তা বিক্রি হচ্ছে ১৯৫০ টাকায়। ডিএপি ও এমওপি ১০৫০ টাকার পরিবর্তে বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায়। সরকারি দামে সার পাওয়া যাচ্ছে না, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকান ঘুরেও মিলছে না। তবে বাড়তি দাম দিলে সহজেই মিলছে। আবার এসব বাড়তি দামে বিক্রি করা সার দেওয়া হচ্ছে কোনো ক্রয় রশিদ ছাড়াই। ফলে সার আসল না নকল তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, তানোরের বেশিরভাগ সার ডিলারই বহিরাগত বা স্থানীয় নয়, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে নাগরিকত্ব দেখিয়ে ডিলারশিপ পেয়েছেন। এতে স্থানীয় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না কৃষি বিভাগ। তাদের মতে, কঠোর মনিটরিং হলেই এ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু কৃষি দপ্তরের গা-ছাড়া মনোভাব পরিস্থিতি আরও জটিল করছে।

প্রতি বছর আলু মৌসুমে একই সংকটে পড়েন আলু চাষিরা। ন্যায্য দামে সার না পেয়ে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায় তাদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেট চললেও কৃষি বিভাগের রহস্যজনক নীরবতা পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক করে দিয়েছে। রাজনৈতিক নেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহে কৃষি বিভাগের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও উঠেছে।

আরও পড়ুনঃ  মাতৃমৃত্যু হ্রাস ও মাতৃ-নবজাতক টিটেনাস নির্মূলে বাংলাদেশর সাফল্য

গত মৌসুমে লোকসানের মুখে পড়া অসংখ্য আলু চাষি এবার পুনরায় আলু চাষের প্রস্তুতি নিয়েও দিশেহারা। কৃষকেরা অভিযোগ করেন, বরাদ্দ কম হওয়ায় ডিলাররা পার্শ্ববর্তী উপজেলা মান্দা, মোহনপুর, নাচোল, নিয়ামতপুর, গোদাগাড়ী, নওগাঁ সদর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থেকে সার এনে বেশি দামে বিক্রি করছেন। কৃষি কর্মকর্তারা মৌখিকভাবে বাইরে থেকে সার আনার অনুমতি দেওয়ায় এ সুযোগে ব্যবসায়ীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

সরকারি দামে সামান্য সার নিতে ডিলারের দোকানে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক কৃষক খালি হাতে ফিরছেন। একজন কৃষক জানান, টিএসপি ১৮০০ টাকা, ডিএপি ১৪৫০ টাকা ও এমওপি ১১৫০ টাকায় কিনতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু কোথা থেকে কিনেছেন তা প্রকাশ করতে নারাজ তিনি।

বিএডিসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি আব্দুল মতিন বলেন, বরাদ্দ কম হওয়ায় বাজারে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীরা বাইরে থেকে আনা সার বেশি দামে বিক্রি করছেন।

পাঁচন্দর ইউনিয়নের বিসিআইসির সার ডিলার প্রণব সাহা জানান, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী তারা বিক্রি করেন। তবে বাড়তি দামে বাইরে থেকে সার এনে বিক্রির বিষয়টি সবাই জানলেও নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুনঃ  নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২৮

কৃষি বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, বাইরে থেকে সার না এলে আলু চাষ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অভিযান পরিচালনা করলে কৃষকেরাই ক্ষুব্ধ হবেন। পাশাপাশি বরাদ্দ বৃদ্ধি করলেই এ সংকট দূর হতে পারে।

উপজেলা কৃষি দপ্তর জানায়, এ বছর আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর, যা গতবারের তুলনায় কম হলেও সারের চাহিদা কমেনি। ডিসেম্বর মাসে বরাদ্দ পাওয়া টিএসপি ২৯০ মেট্রিক টন, ডিএপি ১০৯০ মেট্রিক টন, এমওপি ৭০০ মেট্রিক টন ও ইউরিয়া ১৪৫৯ মেট্রিক টন। কিন্তু কৃষকদের অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে চাহিদার তুলনায় এ বরাদ্দ অপ্রতুল।

অতিরিক্ত কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুভাষ কুমার মন্ডল বলেন, বরাদ্দের বাইরে সার দেওয়া সম্ভব নয়। কৃষকদের জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শও দেন তিনি।

নিয়মিত মনিটরিং, বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং সিন্ডিকেট ভেঙে দিলে এই সংকট নিরসন সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ততদিন পর্যন্ত তানোরের আলু চাষিদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।