নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ

ফরিদপুরে পেঁয়াজ বীজের রেকর্ড উৎপাদন, কৃষকের মুখে হাসি

মার্চ ৮, ২০২৫ ৪:৪৯ 👁️ ১৪ views
Link Copied!

ফরিদপুর প্রতিনিধি : এক সময় দেশের পেঁয়াজ বীজের চাহিদা পুরোপুরি আমদানিনির্ভর ছিল। বর্তমানে ফরিদপুরের কৃষকরা দেশের মোট চাহিদার ৫০ শতাংশ পূরণ করছেন।

এবার সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮৫৪ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ২৮০ মেট্রিক টন স্থানীয়ভাবে ব্যবহার হবে এবং বাকি ৬৮৫ মেট্রিক টন সারা দেশে সরবরাহ করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  জমি উদ্ধারসহ ৬ দফা দাবিতে কলমাকান্দায় শিক্ষার্থীদের ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও

ফরিদপুর জেলা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে। এবারও এই জেলার কৃষকরা পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে ‘কালো সোনা’ বা ‘ব্ল্যাক গোল্ড’ নামে পরিচিত এই পেঁয়াজ বীজের উৎপাদন এবার রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে প্রায় ৯৬৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

স্থানীয় কৃষাণি শাহেদা বেগম বলেন, “২১ বছর যাবত পেঁয়াজ বীজ চাষ ও উৎপাদন করছি। এবারের ফলন অত্যন্ত ভালো হবে বলে আশা করছি। আমি একশত একর জমিতে পেঁয়াজ বীজ চাষ করেছি এবং এই বীজের মানের জন্য আমি দেশের সেরা কৃষাণী হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছি। এবারের পেঁয়াজের ফুলে দানা এসেছে বেশ ভালো, আবহাওয়া সহায়ক থাকলে বিঘা প্রতি দুই থেকে আড়াই মণ বীজ পাওয়া যাবে।”

আরও পড়ুনঃ  ডেঙ্গু ঠেকাতে গোমস্তাপুরে মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান; রোপণ সাড়ে ৭০০ গাছ

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “আমি গত ১০ বছর ধরে পেঁয়াজ বীজ চাষ করছি। এবার ২০ একর জমিতে চাষ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন আশানুরূপ হবে বলে মনে করছি। সরকার যদি আমাদের বীজ সংরক্ষণের জন্য ভালো ব্যবস্থা করে তাহলে আমরা আরও বেশি উৎপাদন করতে পারব।”

সদরপুর উপজেলার কৃষাণি রহিমা খাতুন বলেন, “আমি পরিবারের সঙ্গে মিলে ১৫ একর জমিতে পেঁয়াজ বীজ চাষ করেছি। এবার ফুলে দানা খুব ভালো হয়েছে, আশা করছি বিঘা প্রতি আড়াই মণ বীজ পাব। তবে হাতে পরাগায়ন করতে গিয়ে অনেক পরিশ্রম করতে হচ্ছে। সরকার যদি আমাদের জন্য মৌমাছির ব্যবস্থা করে দেন, তাহলে আমাদের কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে।”

নগরকান্দা উপজেলার কৃষক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি এবার ৩০ একর জমিতে পেঁয়াজ বীজ চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। তবে বীজ সংরক্ষণ এবং বিপণনের জন্য সরকারি সহযোগিতা পেলে আমরা আরও বেশি লাভবান হবো।”

আরও পড়ুনঃ  ভাঙ্গা বাজারে দোকানের পেছনের টিন কেটে দুঃসাহসিক চুরি

ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, “আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এই মৌসুমে প্রায় ৯৬৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন হবে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকার মতো। আমরা কৃষকদের পরামর্শ ও সাহায্য দিয়ে তাদের সমস্যা সমাধানে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো ফরিদপুরের পেঁয়াজ বীজের উৎপাদন আরও বাড়ানো এবং দেশের চাহিদা পূরণে এই জেলাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।”

ফরিদপুরের কৃষকরা এবার পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্যের আশা করছেন। কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা এবং কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে এই জেলার পেঁয়াজ বীজ দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফরিদপুরের কৃষকদের এই সাফল্য দেশের কৃষি খাতের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।