নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে বিষাক্ত ইনজেকশনেও মৃত্যু হয়নি, এখন কী হবে এ নারীর?

অক্টোবর ২, ২০২৬ ৭:৫৮ 👁️ ৬ views
Link Copied!

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের টিনাসি অঙ্গরাজ্যে গত বুধবার হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত ক্রিস্টিয়া পাইক নামে এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে তার শরীরে দুই সিরিঞ্জ বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করা হয়।

তবে তা সত্ত্বেও তিনি বেঁচে যান। যদিও তার অবস্থা বেশ গুরুতর। তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ক্রিস্টিয়া সুস্থ হলে বা বেঁচে থাকলে আবারও কি তার দণ্ড কার্যকরের চেষ্টা হবে নাকি তাকে মুক্তি দেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ  সমবায় প্রশিক্ষণে ‎হাজিরা খাতায় মৃত ব্যক্তি, তদন্তের আশ্বাস জেলা কর্মকর্তার

সংবাদমাধ্যম সিএনএন শুক্রবার (২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ক্রিষ্টিয়া পাইকের মেডিকেল এবং আইনি ভবিষ্যত কী হবে তা অত্যন্ত অস্পষ্ট।

১৯৯৫ সালে নিজের ছেলে বন্ধুকে নিয়ে ১৯ বছর বয়সী কোলেন স্লেমার নামে এক সহপাঠীকে হত্যা করেন ক্রিস্টিয়া । ওই সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। নির্মম ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

ক্রিস্টিয়ার শরীরে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করার পরও তিনি জোরে জোরে গোঙানির শব্দ করছিলেন এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তার শ্বাসপ্রশ্বাস চলছিল। কিন্তু যখন তার মৃত্যু হচ্ছিল না তখন তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনার পর টেনাসির গভর্নর চলতি বছরের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করে দিয়েছেন। স্বাধীন সংস্থাকে দিয়ে এখন পরীক্ষা করা হবে ক্রিস্টিয়ার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে আসলে কী ভুল হয়েছে।

ক্রিস্টিয়াকে ক্ষমা করে দেওয়ার আবেদন

গত বুধবার স্থানীয় সময় সকালে ক্রিস্টিয়ার শরীরে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ষষ্ঠ আপিল আদালতের রায়ে এটি স্থগিত করা হয়। পরে সুপ্রিম কোর্ট এই রায় স্থগিত করলে মধ্যরাতের আগেই ক্রিস্টিয়ার দণ্ড কার্যকরে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করা হয়।

এরআগে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ সময় ক্রিস্টিয়া শেষবারের মতো কথা বলেন। এরপর রাত প্রায় ১১টার দিকে যখন ইনজেকশন দেওয়া হয় তখনও তিনি গোঙাচ্ছিলেন এবং জীবিত ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  ফেনীতে ১৫৪২ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ায় ক্রিস্টিয়াকে ক্ষমা করে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

রেন্ডি স্পাইভি নামে তার এক আইনজীবী বলেছেন, ক্রিস্টিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মৃত্যদণ্ড পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শাস্তি ভোগ করেছেন। তার মতে, বিষাক্ত ইনজেকশনে দ্রুত মৃত্যু না হওয়ায় ক্রিস্টিয়াকে অনেক বেশি কষ্ট পেতে হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড ব্যর্থ হওয়ার পর কী কাউকে ক্ষমা করে দেওয়ার নজির আছে?

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার সময় এটি ব্যর্থ হওয়া অনেকবার ঘটেছে। তবে তাও এটি বিরল বলে জানিয়েছেন আমহার্সট কলেজের প্রফেসর ও মৃত্যুদণ্ড নিয়ে লেখা একাধিক বইয়ের লেখক অস্টিন সারাত।

তিনি বলেছেন, “যেসব মৃত্যুদণ্ড ব্যর্থ হয়েছিল সেগুলো আইনিভাবে ব্যাপক জটিলতা তৈরি করেছিল।”

এ প্রফেসর বলেন, মৃত্যুদণ্ড থেকে বেঁচে গেছেন কিন্তু তারপরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ইতিহাস বা নজির আছে।

এক্ষেত্রে ৮০ বছর আগের একটি ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৮০ বছর আগে লুজিয়ানাতে উইলি ফ্রান্সসিস নামে ১৬ বছরের এক কিশোরকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে বৈদ্যুতিক চেয়ারে বসানো হয়। কিন্তু চেয়ারটি ঠিক মতো কাজ করেনি। এতে তিনি বেঁচে যান। পরবর্তীতে ফ্রান্সসিস সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হন। তিনি আদালতে দাবি করেন, সংবিধানে বলা আছে এক ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য দুইবার শাস্তি দেওয়া যাবে না।

আরও পড়ুনঃ  বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, যুবক পলাতক

কিন্তু আদালত তার আপিল প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাকে দ্বিতীয়বার বৈদ্যুতিক চেয়ারে বসিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

এছাড়া ২০০৯ সালের একটি ঘটনাও উল্লেখ করেছেন প্রফেসর অস্টিন সারাত। তিনি বলেছেন, সে বছর ওহাইওতে রোমেল ব্রুমকে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশের জন্য নির্দিষ্ট খাটে শোয়ানো হয়। কিন্তু ইনজেকশন পুশ করার জন্য তার শরীরে ধমনী খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে তার মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর করা যায়নি।

পরে তিনি সুপ্রিম কোর্টে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করে বলেন, যেহেতু একই অপরাধে দুইবার শাস্তি দেওয়া যাবে না, তাই তাকে মুক্তি দেওয়া উচিত। তবে আদালত জানান, তার দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া মাত্র শুরু করা হয়েছিল। ফলে তিনি সংবিধানের এই সুবিধা পাবেন না। পরে অবশ্য ২০২০ সালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কারাগারেই মৃত্যু হয় তার।

তবে ক্রিস্টিয়ার ঘটনাটি ভিন্ন। কারণ তার শরীরে ইতিমধ্যে বিষাক্ত ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে। ফলে তিনি চিকিৎসায় সুস্থ হলে মুক্তি পাবেন নাকি আবারও তার দণ্ড কার্যকর করা হবে, সেটি স্পষ্ট নয়।

সূত্র: সিএএন

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।