নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

সার পাচার ও অপচয় ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে হবে : কৃষিমন্ত্রী

নভেম্বর ৫, ২০২৬ ২:৩৫ 👁️ ৫০ views
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারের ভর্তুকি দিয়ে সরবরাহ করা সার যেন প্রকৃত কৃষকের হাতেই পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সার যেন আমাদের কৃষকেরা ব্যবহার করেন। কোনো দুষ্টু লোক যেন এই সার অপচয় করতে বা দেশের বাইরে পাচার করতে না পারেন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’

আরও পড়ুনঃ  আলিয়াকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গিয়ে কিসের ভয়ে কাঁপছিলেন রণবীর?

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সরমংলা ইকো পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, দেশের কিছু সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের সারের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশে এসব সারের দাম বেশি হওয়ায় পাচারের আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়াতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) অনুরোধ করা হয়েছে।

দেশে ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বছরে দেশে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লাখ টন ইউরিয়া সারের চাহিদা রয়েছে। এই সারের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। তবে সরকার বেশি ভর্তুকি দিয়ে সরবরাহ করে এমন দু-এক ধরনের সারের চাহিদা কোনো কোনো এলাকায় বেশি থাকায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে।

সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ডিলার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেছেন, আগে প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে সার ডিলার ছিলেন। কৃষি আবাদ ও সারের ব্যবহার বাড়ায় এখন প্রতিটি ইউনিয়নে আরও একজন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চলতি মাস থেকেই নতুন ডিলারদের মাধ্যমে সার বিতরণ শুরু হবে। নতুন ডিলার নিয়োগের পাশাপাশি সার বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে। ফলে আগামী রোপণ মৌসুমে সারের সংকট হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  ১০ হাজার কর্মীকে বিনা খরচে মালয়েশিয়া পাঠানোর উদ্যোগ সরকারের

রাজশাহী অঞ্চলের কৃষির সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বললেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকেরা অত্যন্ত পরিশ্রমী। কৃষির প্রতি তাঁদের গভীর আগ্রহ রয়েছে। একসময় এ অঞ্চল মূলত আম উৎপাদনের জন্য পরিচিত ছিল। বরেন্দ্র সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণের পর ধান উৎপাদনেও এ অঞ্চলের অগ্রগতি হয়েছে। এখন সবজি উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসছে।

এবার আমবাগানে নতুন ফসল হিসেবে আদা চাষ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে সরকার। এ প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেছেন, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরের আমবাগানে গাছের সারির মাঝখানে বেশ কিছু ফাঁকা জায়গা থাকে। সাধারণত এসব জায়গায় কলাই চাষ করা হয়। সেখানে আদা চাষ করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। মাটির ধরন ও চাষপদ্ধতি বিবেচনায় সরাসরি জমিতে অথবা বস্তায় আদা উৎপাদনের সম্ভাবনা পরীক্ষা করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  আজ থেকে টানা ৪ দিন ঢাকাসহ সারাদেশে গ্যাসের চাপ কম থাকবে

মন্ত্রী বললেন, দেশে বছরে প্রায় দেড় লাখ টন আদা আমদানি করতে হয়। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে আদার মতো পণ্যের আমদানিনির্ভরতা কমানো প্রয়োজন। আমবাগানের অব্যবহৃত জমিতে আদা চাষ করা গেলে কৃষকেরা অতিরিক্ত ফসল পাবেন। একই সঙ্গে বাড়বে দেশের আদা উৎপাদন। কমবে আমদানির চাপ।

এর আগে সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর দামকুড়া থানার হরিপুর ইউনিয়নের কসবা এলাকায় কৃষক মোহাম্মদ নাজমুল করিম সুজনের লিচুবাগানে বস্তায় আদা চাষের প্রযুক্তি পরিদর্শন করেন কৃষিমন্ত্রী। ওই বাগানে প্রায় ৭০০ বস্তায় আদা চাষ করা হয়েছে। চাষপদ্ধতি ও উৎপাদনের সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি খোঁজখবর নেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) নির্বাহী পরিচালক (ইডি) মো. জাহাঙ্গীর আলম খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান, রাজশাহীর উপপরিচালক মো. মোস্তফা কামাল, পবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদি হাসান এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।