নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

বাংলাদেশ । । ।

স্বাধীনতার পরে প্রথম দুর্গাপূজা, পুরোগ্রামে উৎসবের আমেজ

অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ৯:৩৯ 👁️ ১১ views
Link Copied!

সবুজ সরকার, নিয়ামতপুর : শেষ দুর্গাপূজা হয়েছিল দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে আর দুর্গাপূজার ঢাক বাজেনি গ্রামটিতে। ৫৫ বছর পর মহাষষ্ঠীতে সেই মন্দিরে আবার জোড়া ঢাকের বাড়ি পড়ল। ঢাক-কাঁসরের তালে আর উলুধ্বনিতে শারদীয় দুর্গােৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে গেল পুরো গ্রামে।

আরও পড়ুনঃ  স্বাধীনতার পরে প্রথম দুর্গাপূজা, পুরোগ্রামে উৎসবের আমেজ

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের কড়কড়িয়া (কর্মকারপাড়া) সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে নতুন পূজা ঘিরে আয়োজকদের ব্যস্ততা দেখা গেল।

গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি সুশিল কর্মকার (৮৫) বললেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে পূজা হতো আমাদের গ্রামে। তখন গ্রামে ১৬-১৭ ঘর বসতি ছিল। আশেপাশের গ্রাম থেকে অনেক লোকজন আসতো পূজা দেখতে। পূজা উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে আলকাপের গান হতো। প্রচুর আনন্দ হতো। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে অর্থনৈতিকসহ বিভিন্ন কারণে আর পূজা করা সম্ভব হয়নি। অনেক বছর পর আবার পূজা হচ্ছে। খুব ভালো লাগছে।

আরও পড়ুনঃ  ডালিম খেলে সমস্যা হতে পারে যেসব ব্যক্তির

শনিবার (১৭ অক্টোবর) মহাসপ্তমীর বিকেলে কড়কড়িয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পূজামণ্ডপ প্রাঙ্গণে ঢোকার আগে দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। করা হয়েছে আলোকসজ্জা। মন্দিরের সামনে দর্শনার্থীরা প্রতিমা দর্শন করছেন। কেউ কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলছেন। পূজা কমিটির পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের প্রসাদ বিতরণ করা হচ্ছে।

পূজা কমিটির সভাপতি নরেন কর্মকার জানালেন, আমরা গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিদের কাছে শুনেছি দেশ স্বাধীনের আগে আমাদের গ্রামে ধুমধাম করে পূজা হতো। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে আর পূজা হয়নি। তাই আমরা গ্রামের বাসিন্দারা উদ্যােগ নিয়ে এবছর নতুন করে পূজার আয়োজন করেছি। আশা করছি অনেক ভক্ত ও দর্শনার্থীর আগমন হবে। আমরা পূজাকে উৎসবমুখর করার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।

এই মন্দিরে পূজা দেখতে এসেছেন ভাবিচা গ্রামের বাসিন্দা শ্যামল চন্দ্র সাহা। তিনি বললেন, আমার বাবা এই মন্দিরের পূজার জোগাড়ু (পূজাকর্মে পুরোহিতকে সাহায্যকারী) ছিলেন। অনেক বছর পর সেই পূজা আবার হচ্ছে। তাই দেখতে এসেছি। ভালো লাগছে।

আরও পড়ুনঃ  আলাদা থাকছেন সাবিলা নূর, বিচ্ছেদের গুঞ্জন

গ্রামের গৃহবধূ আদরী কর্মকার বলেন, আগে অন্য গ্রামে পূজা দেখতে যেতে হতো। রাতে আরতি দেখতে যেতে পারতাম না। এবার আমাদের গ্রামে পূজা হওয়াতে আনন্দ অনেক বেশি হবে।

নিয়ামতপুর উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি ভীম চন্দ্র বর্মণ বলেন, নিয়ামতপুর উপজেলায় এ বছর ৫৫টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরমধ্যে কড়কড়িয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে এবছর নতুন পূজা আয়োজন হয়েছে। পূজা উৎসবমুখর ও নির্বিঘ্নে উদযাপনে সব রকমের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। আশা করছি সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল সময়ের কথা ২৪ লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন somoyerkotha24news@gmail.com ঠিকানায়।