মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন উজ্জ্বল, ময়মনসিংহ : আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধ এবং নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
রোববার (৪ অক্টোবর ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টায় ময়মনসিংহ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা পুলিশের আয়োজনে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে। পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটি, নিরাপত্তা সহায়তা কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে যাবতীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এ সময় তিনি পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশকে সার্বিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পূজামণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং মণ্ডপের আশপাশের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে পূজা উদযাপন কমিটিকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি পূজা শুরুর আগে এবং পূজা চলাকালীন করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দকে বিস্তারিত নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে পূজা উদযাপন কমিটি ও নিরাপত্তা সহায়তা কমিটির সদস্যদের দায়িত্ব-কর্তব্য যথাযথভাবে পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় পুলিশ সুপার জানান, নিয়মিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে ডিএসবি ও ডিবির সদস্যরা মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন। পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, নাশকতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা প্রতিহত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস বা প্রচার করা যাবে না। গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ঘটনা নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করতে হবে। প্রয়োজনে ফ্যাক্ট চেকের মাধ্যমে তথ্য যাচাই এবং গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা বজায় রাখতে হবে। আজান ও নামাজের সময় পূজা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে পারস্পরিক ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া পূজা চলাকালে নগরীতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চেকপোস্ট স্থাপন এবং যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান পুলিশ সুপার। পূজামণ্ডপের আশপাশে যাতে অতিরিক্ত ভিড় বা যানজট সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সভায় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ তাদের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো তুলে ধরেন। পুলিশ সুপার তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
সভায় বক্তারা বলেন, দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, পূজা উদযাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। যেকোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখা দিলে নিজেরা আইন হাতে না তুলে নিয়ে দ্রুত পুলিশকে জানানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, ময়মনসিংহ জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হবে। পূজা চলাকালে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত থাকবেন। তিনি পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দকে পুলিশের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির মাধ্যমে আমরা শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করতে পারব।
মতবিনিময় সভায় ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আবদুল্লাহ আল-মামুন (প্রশাসন ও অর্থ), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আশরাফুল করিম (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্), জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ, জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং ময়মনসিংহ জেলার মহানগর, উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ের পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গুজব প্রতিরোধ, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।

